রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকায় জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাসের চাপায় দুই শিক্ষার্থীর নিহতহওয়ার ঘটনায় যখন ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন সাধারণ মানুষ, সে সময় মন্ত্রীর মুখে দেখা গেল হাসি। শুধু তাই নয়, অনেকটা স্বাভাবিক বাচনভঙ্গিতেই ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের জবাব দেন নৌমন্ত্রী শাজাহান খান। হাসতে হাসতে জানান দোষীদের শাস্তির কথা। আর সরকারের দায়িত্বশীল একজন মন্ত্রীর এমন আচরণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। শোকাহত সাধারণ মানুষ মন্ত্রীর এহেন নির্বিকার ভূমিকার সমালোচনা করছেন। প্রশ্ন তুলেছেন, অট্টহাসি দিয়ে যখন মন্ত্রী বলছেন- দোষীদের শাস্তির কথা, সে ক্ষেত্রে কতটা শাস্তি পাবেন দোষীরা?
২৯ জুলাই, রবিবার সচিবালয়ে মংলা বন্দরের জন্য মোবাইল হারবার ক্রেন ক্রয়-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী।
এদিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হোটেল রেডিসনের উল্টো দিকের সড়কে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকায় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের চাপা দিয়েছে ‘জাবালে নূর’ পরিবহনের একটি বাস। এতে ছাত্রীসহ দুজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ১২ জন। নিহত দুই শিক্ষার্থী হলো শহীদ রমিজ উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিম ও দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আব্দুল করিম।
সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি নজরে এনে এক সাংবাদিক মন্ত্রীকে বলেন, আপনার (নৌমন্ত্রী) প্রশ্রয়ে দিন দিন চালকরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। জবাবে ভারতের একটি সড়ক দুর্ঘটনার উদাহারণ টেনে অনেকটা অট্টহাসিতে মন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা লক্ষ্য করেছেন, ভারতের মহারাষ্ট্রে গাড়ি দুর্ঘটনায় ৩৩ জন মারা গেছেন। এখন সেখানে কী…আমরা যেভাবে এগুলোকে নিয়ে কথা বলি, এগুলো কি ওখানে বলে।
আসলে একটি সত্য কথা তিতা হলেও তা মানতে হয়। চাইলেই সব পাওয়া যায় না। অর্থলোভে, ক্ষমতার বলে, রাজনীতির অমসৃণ সড়কে ৫ ইঞ্চি পিচ্ ঢালাই যদি আধা ইঞ্চি দেওয়া হয়। অযোগ্যদের যদি গাড়ি চালনার লাইসেন্স দেওয়া হয়, তা হলে যা ঘটার তাই ঘটছে এবং ঘটবে। গোটা জাতিই যেন সড়ক দুর্ঘটনার মৃত্যুফাঁদে পড়ে এক আতঙ্কিত সমাজের মধ্যে বসবাস করছে। মন্ত্রী-সচিবদের এই নিয়ে ভাববার কথা নয়। তারা তো নিরাপদ দূরত্বে থেকে রক্ষী নিয়ে পথ চলেন। কিন্তু সমস্যা যত আমজনতার। তাই আসুন, সবাই সতর্ক হই এবং অন্তত এই একটি বিষয়ে আন্দোলন গড়ে তুলি। ‘নিরাপদ সড়ক চাই।’
