বাংলাদেশে করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবেলায় সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। সরকারের ব্যর্থতার কারণেই স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ভঙ্গুর অবস্থা ফুটে উঠেছে এবং সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়েই চলেছে।
কতজন রোগী এ মুহূর্তে আইসিইউ সেবা নিচ্ছেন, তার তথ্য জনসমক্ষে দেয়া হচ্ছে না। অধিদপ্তর বলছে, দেশে করোনার জন্য নির্ধারিত ১১০টি হাসপাতালে আইসিইউ শয্যা আছে ৩৩৯টি। অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী দেশের ৪৯টি হাসপাতালে আইসিইউ সাপোর্ট নেই। দেশে আইসিইউ নিয়ে চলছে নানা কেচ্ছা-কাহিনী। অনেক ক্ষমতাবানরা বুকিং দিয়ে রেখেছেন। যদিও যাদের প্রয়োজন, তারা পাচ্ছেন না। চিকিৎসা সেবার নামে যে হরিলুট চলছে,সেটা নিয়েও সরকারের মাথা ব্যাথা নেই।
এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে এবং সংক্রমণের সাথে পাল্লা দিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। দেশে সংক্রমণ শুরুর পর তিন মাসেও চিকিৎসা সেবার বেহাল দশাই দৃশ্যমান হচ্ছে।
আজকে গোটা জাতির কাছে নয়, সমগ্র বিশ্বের কাছে প্রমাণিত হয়ে গেছে যে বাংলাদেশ করোনাভাইরাস মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত ছিল না। এবং তারা পুরোপুরিভাবে ব্যর্থ হয়েছে এটাকে মোকাবেলা করতে। আমার কথা নয়, চীনা বিশেষজ্ঞরা যারা এসেছিল, তারাইতো বলে গেছে যে, এখানে প্রতিরোধের কোন পরিকল্পনাই ছিল না।
এটা শুধু বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞদের নয়, সাধারণ মানুষকে জিজ্ঞেস করলেই বুঝতে পারবেন যে, কত মানুষ আছেন যারা টেস্ট করতে গিয়ে করতে পারছেন না। কত মানুষ আছেন টেস্ট করতে গিয়ে ওখানে মারা গেছেন। কত মানুষ আছেন যারা অক্সিজেনের অভাবে মারা গেছেন। কত মানুষ আছেন যারা সাধারণ চিকিৎসার জন্যও কোন হাসপাতালে যেতে পারছেন না। স্বাস্থ্য ব্যবস্থা যে পুরোপুরি ভেঙ্গে পড়েছে-এটাই তার প্রমাণ।
ছবিঃ ইন্টারনেট
