CategoriesDemocracyHuman RightsJusticePolitics

একজন দণ্ডিত ব্যক্তি কীভাবে সরকার প্রধান?

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি প্রশ্ন ক্রমেই উচ্চকণ্ঠে উঠে আসছে—একজন দণ্ডিত ব্যক্তি কীভাবে একটি দেশের সরকার প্রধান বা অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হতে পারেন? এই প্রশ্নের কেন্দ্রে আছেন আদালত কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত ড. মুহাম্মদ ইউনুস।

বহুদিন ধরেই ড. ইউনুস আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নৈতিকতার প্রতীক হিসেবে পরিচিত ছিলেন, তবে দেশের অভ্যন্তরে তার কর্মকাণ্ড ও আর্থিক অনিয়ম নিয়ে বহু বিতর্ক রয়েছে। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি না দেওয়া, ট্রাস্টের অর্থ পরিচালনায় স্বচ্ছতা না রাখা এবং কর ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগে দেশের আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। এভাবে একজন কনভিক্টেড ব্যক্তি কীভাবে দেশের নেতৃত্বের আসনে বসতে পারেন—এ প্রশ্ন আজ জনগণের সামনে জ্বলন্ত হয়ে উঠেছে। এছাড়া, দুদকের দায়েরকৃত আরও কিছু মামলা চলমান রয়েছে যার মধ্যে কর ফাঁকি, অর্থপাচার এবং অর্থনৈতিক অনিয়ম অন্যতম।

যে ব্যক্তি নিজেই বিচারাধীন ও দণ্ডিত, কিভাবে তাকে সরকারপ্রধান হিসেবে বিবেচনা করা হয়? এ প্রশ্নের উত্তর এখনো অস্পষ্ট। অনেকেই বলছেন, বিভিন্ন মহলের একাংশ এবং অভ্যন্তরীণ সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর সমর্থনেই তার এই উত্থান সম্ভব হয়েছে। বিশেষ করে “বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের” সমন্বয়কদের সাথে তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছে, তা সন্দেহ উস্কে দেয়। এমনকি এই সরকারে অনেক অবসরপ্রাপ্ত আমলা, কর্পোরেট মহলের লোকজন এবং কিছু এনজিও সংশ্লিষ্টরা যুক্ত হয়েছেন যারা অতীতে ড. ইউনুসের সঙ্গে কাজ করেছেন। এদেশে দীর্ঘদিন ধরে যে ট্র্যাডিশন চালু রয়েছে—নির্বাচনের আগে কিছু নিরপেক্ষ মুখকে সামনে এনে গণতন্ত্রের মুখোশ পরানো হয়—ড. ইউনুসের উত্থানকেও অনেকেই তেমনই একটি অপারেশন মনে করছেন। একদিকে দেশের আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে, অন্যদিকে ‘নৈতিকতার প্রতীক’ হিসেবে তাকে তুলে ধরা হচ্ছে। এতে দেশের বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

এখন প্রশ্ন হলো, দেশে কি এমন কোনো যোগ্য, নৈতিকতাসম্পন্ন, পরিষ্কার ভাবমূর্তির নেতা নেই যিনি সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নিতে পারেন? যদি উত্তর হ্যাঁ হয়, তবে কেন এমন একজন দণ্ডিত ব্যক্তি—যার বিরুদ্ধে এখনো একাধিক মামলা চলমান—তাকে সামনে আনা হচ্ছে? এটা কি শুধুই রাজনৈতিক সুবিধাবাদের খেলা? না কি দেশের জনগণের সঙ্গে একটি বড় ধরনের প্রতারণা? বাংলাদেশের গণতন্ত্র যদি সত্যিই জনগণের প্রতিনিধিত্বের মাধ্যম হয়ে থাকে, তবে একজন দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে সরকারপ্রধান হিসেবে সামনে আনার প্রচেষ্টা শুধু বিচারব্যবস্থার প্রতি অবমাননা নয়, বরং দেশের জনগণের বুদ্ধিমত্তার প্রতিও চরম অপমান। ড. ইউনুস আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত হলেও, দেশে তার নৈতিক অবস্থান এবং বিচারিক বাস্তবতা কোনোভাবেই তাকে নেতৃত্বের জন্য উপযুক্ত করে না। বাংলাদেশে পরিবর্তন প্রয়োজন, তবে সেই পরিবর্তন যেন নৈতিকতার ভিত্তিতে হয়। দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের আসনে এমন কেউ থাকা উচিত যার বিরুদ্ধে আদালতের রায় নেই, যার অতীত স্বচ্ছ এবং যিনি গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও বিচারব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। ড. ইউনুস সেই মানদণ্ডে কতটা উত্তীর্ণ, তা দেশের জনগণই বিচার করবেন।