CategoriesDemocracyHuman RightsJusticePolitics

শিবিরের রগ কাটা ও উগ্রপন্থী সহিংসতা

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্রশিবির, জামাতের ছাত্র সংগঠন হিসেবে, অনেকদিন ধরে সক্রিয়। তবে তাদের কর্মকাণ্ডের মধ্যে একটি বড় অংশ তাদের উগ্রপন্থী মনোভাব এবং সহিংসতাকে চালিয়ে যেতে থাকে। শিবিরের উগ্রতা, বিশেষ করে সহিংসতার চিত্র যেমন পায়ের রগ কাটা, দেশের মানুষের কাছে আর গ্রহণযোগ্য নয়। দেশের শান্তি এবং স্থিতিশীলতার জন্য এরূপ কার্যকলাপ আর কেউ সহ্য করবে না। এই ধরনের উগ্রপন্থী কর্মকাণ্ড দেশকে আরও বেশি বিভাজিত এবং অস্থিতিশীল করে তোলে। জনগণ জানে, তাদের শান্তিপূর্ণ জীবন, নিরাপত্তা, এবং মানবাধিকার রক্ষার জন্য এ ধরনের উগ্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা অপরিহার্য। দেশের সাধারণ মানুষ চায় না যে তাদের দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ এমন উগ্রতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হোক।

বর্তমান সরকারের উচিত ছাত্রশিবিরের উগ্রপন্থী কর্মকাণ্ডের ওপর গভীর নজরদারি রাখা এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। যারা সহিংসতা এবং চাদাবাজির মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত এবং কার্যকর আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করে তোলার পাশাপাশি, ছাত্রশিবিরের উগ্র সদস্যদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, যাতে তারা দেশের জনগণের নিরাপত্তা বিপন্ন করতে না পারে। শুধুমাত্র রাজনীতির আড়ালে এসব সহিংস কর্মকাণ্ড চলতে দেওয়া দেশের সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

বড় সমস্যা হলো ধর্মীয় বিশ্বাস এবং মূল্যবোধকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার প্রবণতা। ছাত্রশিবির, জামাতের ছাত্র সংগঠন, তাদের উগ্রপন্থী কার্যকলাপের মাধ্যমে ধর্মকে ব্যবহার করছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য। ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে তারা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে, যাতে রাজনৈতিক লাভবান হতে পারে। এই ধরনের অপতৎপরতা দেশের ধর্মীয় সহিষ্ণুতা এবং শান্তিপূর্ণ সমাজের জন্য এক বড় হুমকি।

এছাড়া, জনগণকেও সজাগ থাকতে হবে। ধর্মের নাম ব্যবহার করে যারা রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জন করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা এবং এমন বিভ্রান্তিকর কার্যকলাপ থেকে নিজেকে দূরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের সচেতনতা ও প্রতিবাদই এই ধরনের উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর বিপক্ষে কার্যকর শক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে।