বাংলাদেশের সন্ত্রাসী ছাত্রসংগঠন সংগঠন ছাত্রলীগ। এই সন্ত্রাসী সংগঠনটি আওয়ামীলীগের ছাত্রসংগঠন হিসেবে কাজ করেছে। এই ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের নরপিশাচ যাদের হাতে শিক্ষাঙ্গনের ছাত্র-ছাত্রী, সাধারণ জনগন জিম্মি ছিল। এই সন্ত্রাসীদের মধ্যে অন্যতম কুখ্যাত নেতা ছিলেন সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান। যিনি তার নিজ দলীয় অবৈধ সরকারের ক্ষমতা অপব্যবহার করে অবৈধভাবে সিলেট শহরের আশেপাশে জোরজবরদস্তি, চাঁদাবাজি, ও সাধারণ মানুষকে নির্যাতন করতেন এমনকি তিনি হত্যা ধর্ষণ মামলার অভিযোগে অভিযুক্ত আসামি।
সন্ত্রাসী ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা যখন এমন নৃশংস সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকে, তখন দেশের শিক্ষাঙ্গন ও রাজনীতির পরিমণ্ডল কতটা বিষাক্ত হয়ে উঠ, তা ভাবার বিষয়। মাহমুদুল হাসান কেবল নিজস্ব স্বার্থসিদ্ধির জন্য সে নিজে ও ছাত্রলীগের নেতা কর্মীদের দিয়ে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে; যারা তার দাসত্ব মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়, তাদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে শাসন করছে। শিক্ষার্থীদের স্বাধীন চিন্তা-ভাবনা, সংগঠিত হওয়ার অধিকার এবং শিক্ষাঙ্গনের নিরাপত্তা এসব কিছুর যথেষ্ট অবহেলা করছিল সে। মাহমুদুলের বিরুদ্ধে উঠেছে ধর্ষণ হত্যাসহ বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ। অথচ এইসব অভিযোগ সত্ত্বেও তাকে এখনো গ্রেফতার করা হয়নি। এই বিষয়টি আমাদের দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের প্রতি আস্থা কমিয়ে দিয়েছে। পুলিশ কেন এই ধরনের সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে না, সেটা প্রশ্নবিদ্ধ।
ছাত্রলীগের মাহমুদুল হাসান নামটি শুধুমাত্র একটি ব্যাক্তির নাম নয় এটিকে আমরা একটি ভয়ানক সন্ত্রাসী গ্যাংয়ের নাম বলতে পারি, যার নেতৃত্বে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা দিনের পর দিন সিলেটের সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের ওপর ত্রাস সৃষ্টি করে আসছে। সিলেট শহরের বন্দরবাজার, জিন্দাবাজার, চৌহাট্রা, টিলাগড়—এসব এলাকায় চাঁদা না দিলে মাহমুদুল ও তার দলবল বেপরোয়া হয়ে উঠত। ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে দোকানদার, এমনকি হকারদেরও সে নিস্তার দিত না। টার্গেট ছিল একটাই—চাঁদা। আর কেউ যদি তা দিতে অস্বীকার করত, তাহলে শুরু হতো ভয়ানক নির্যাতন। হাত-পা ভেঙে দেওয়া, দোকানে হামলা, পরিবারের সদস্যদের হুমকি—এসবই ছিল তাদের রুটিন কাজ। এ ধরনের চাঁদাবাজির মাধ্যমে সে শুধু নিজের পকেট ভারী করেনি, বরং পুরো একটি শহরকে জিম্মি করে ফেলেছিল। স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ এবং ক্ষমতাসীন দলের ছত্রচ্ছায়ায় এরা এতটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল যে, সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করতেও ভয় পেত।
সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যদি এই সমস্যা মোকাবেলা করতে অক্ষম বা অনিচ্ছুক থাকে, তাহলে দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ সংকটে পড়বে। ছাত্ররাজনীতির নাম ভাঙিয়ে এদের দুর্নীতিগ্রস্ত, সন্ত্রাসী দলবদল ক্ষমতার লোভে দিয়ে শিক্ষাঙ্গনকে ধ্বংস করা প্রতিহত করা উচিত। এই সন্ত্রাসী ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদুল হাসানকে গ্রেফতার করে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে আগামী দিনে এই ধরনের অপরাধ আরও জোরালো ও ব্যাপক আকার ধারণ করবে। একজন সাধারণ নাগরিক ও দেশের প্রেমিক হিসেবে আমি সরকার, প্রশাসন ও সকল সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাই: সন্ত্রাসী ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদুল হাসানসহ সকল অপরাধীকে দ্রুত গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। এবং ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের নৃশংসতার বিরুদ্ধে সমাজ সচেতন হোক, আর আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দাঁড়াই।
মাহমুদুল হাসানের সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজির দৌড়ঝাঁপ আর কখনো সহ্য করা হবে না। আমরা প্রশাসনকে স্পষ্টভাবে বলছি— আমরা সাধারণ মানুষ আর বসে থাকবো না যদি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে গ্রেফতার না করা হয়, তাহলে আমরা আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি বুধবার দুপুর তিনটায় তার বাড়ির সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করব। অপরাধীকে যেভাবেই হোক গ্রেফতার করতেই হবে, কারণ তার মতো সন্ত্রাসী ও মাফিয়াদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে দেশের সাধারণ মানুষ নিরাপদ থাকতে পারবে না। আমরা কোনোভাবেই আর এসব অপরাধীদের দমনের জন্য সময় নষ্ট করব না। সরকার, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তৎপর হতে হবে এবং দ্রুততার সঙ্গে মাহমুদুলকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
