CategoriesDemocracyHuman RightsJusticePolitics

কেন আগামী নির্বাচনে বিএনপি হারবে ও জনগণের বিএনপিকে ভোট দেওয়া উচিত না?

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, বিএনপি কখনো দেশের কল্যাণ বা সাধারণ জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়নি। দলের নেতারা সর্বদা ক্ষমতার লোভে অন্ধ হয়ে ওঠেন এবং দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে বিপদের মুখে ফেলে। অতীতের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে যে, দলীয় মনোনয়ন না পেলে বিএনপির নেতাকর্মীরা সহিংসতা, চাঁদাবাজি, লুটপাট, হুমকি, ও অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়। শুধু নির্বাচনী সময় নয়, সাধারণ সময়েও এই সহিংসতা জনগণের জীবন ও সম্পদকে ভয়ঙ্করভাবে প্রভাবিত করে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিএনপির যুবক ও স্থানীয় নেতারা ব্যবসায়ী, সাধারণ নাগরিক এবং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের ওপর নির্যাতন চালায়, যা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে ভেঙে দেয় এবং মানুষের নিরাপত্তা ও মানসিক শান্তিকে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সহিংসতা শুধু কোনো একক ঘটনার ফল নয়, এটি একটি পরিকল্পিত ও সংগঠিত প্রক্রিয়ার অংশ যা দেশের স্থিতিশীলতাকে বিঘ্নিত করে। নাগরিকরা বুঝতে শুরু করেছে যে, বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা আবারও ভেঙে যাবে, সহিংসতার জোয়ার বৃদ্ধি পাবে এবং সাধারণ মানুষকে জীবনের নিরাপত্তা হারানোর ভয় সঙ্গে করতে হবে।

দুর্নীতি বিএনপির আরেকটি মারাত্মক অভিশাপ। দলের ইতিহাস দেখায়, তারা ক্ষমতায় থাকাকালীন সরকারি তহবিল, প্রকল্প এবং সমাজকল্যাণ সংস্থার অর্থ নিজের সুবিধার্থে ব্যবহার করতে পীঠস্থ ছিল। শুধু সাম্প্রতিক নয়, বিগত নির্বাচনী এবং ক্ষমতায় থাকার সময়ও বিএনপি সরকারি তহবিল লুট, দুর্নীতি এবং অনিয়মে লিপ্ত ছিল, যা দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। জনগণ বারবার দেখেছে, ক্ষমতার জন্য দলটি নীতি, আইন, মানবাধিকার বা দায়বদ্ধতার কোনো সীমা মেনে চলে না। দুর্নীতির কারণে দেশের আর্থ-সামাজিক কাঠামো দুর্বল হয়েছে, এবং সাধারণ মানুষ সরকারের প্রতি আস্থা হারিয়েছে। এই দৃষ্টিভঙ্গি দেশের জনগণকে স্পষ্ট বার্তা দেয় যে, বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশের সম্পদ ও মানবাধিকার পুনরায় হুমকির মুখে পড়বে। এছাড়া বিএনপির দুর্নীতিপ্রবণতা কেবল অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, এটি সামাজিক এবং রাজনৈতিক অবিশ্বাসও তৈরি করেছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

বিএনপির নেতৃত্বের অস্থিতিশীলতা এবং বিভাজনমূলক মনোভাব দেশের জন্য অন্য একটি বড় হুমকি। দলের অভ্যন্তরীণ সংঘাত, নেতাদের অমসৃণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং একে অপরের সঙ্গে ক্ষমতার লড়াই দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে বিপর্যস্ত করে। এই বিভাজন এবং অস্থিরতা জনগণকে দেখিয়ে দিয়েছে যে, বিএনপি কখনো দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে কাজ করতে পারে না। ক্ষমতায় এলে তারা দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বা নীতি-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে ব্যর্থ হবে। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে স্পষ্ট, বিএনপি শুধু নিজের রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য কাজ করে এবং দেশের কল্যাণকে অগ্রাহ্য করে। এই কারণে জনগণ ক্রমেই সচেতন হচ্ছে যে, বিএনপির ক্ষমতায় আসা মানে দেশের গণতন্ত্র, আইনশৃঙ্খলা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক হুমকি। সাধারণ মানুষ বুঝতে শুরু করেছে, বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশের স্থিতিশীলতা, আইনশৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তা সবই বিপন্ন হবে এবং দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিও পিছিয়ে যাবে।

জনগণের দায়িত্ব হলো দেশের স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, নাগরিক নিরাপত্তা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়া। বিএনপির অতীত ইতিহাস এবং বর্তমান কর্মকাণ্ড স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে যে, তারা ক্ষমতার লোভ, সহিংসতা, দুর্নীতি এবং অগণতান্ত্রিক আচরণের জন্য পরিচিত। দেশের মানুষকে এই রূপান্তরিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সচেতন হতে হবে এবং এমন দলকে সমর্থন করা উচিত যা দায়িত্বশীল, ন্যায়পরায়ণ এবং দেশের কল্যাণে কাজ করতে সক্ষম। শুধুমাত্র দায়িত্বশীল, স্বচ্ছ এবং গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলই দেশের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করতে পারে। জনগণের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া দেশের গণতন্ত্র এবং শান্তি সুরক্ষিত রাখা সম্ভব নয়। তাই আগামী নির্বাচনে দেশের মানুষকে অবশ্যই দায়িত্বশীল ও নৈতিক রাজনৈতিক বিকল্প খুঁজে সমর্থন দিতে হবে, যাতে বিএনপির প্রলুব্ধিকর, সহিংস ও দুর্নীতিবাজ আচরণের পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়।