CategoriesDemocracyHuman RightsJusticePolitics

তারেক রহমান ও বিএনপি কি দেশের গণতন্ত্রের জন্য হুমকি?

দীর্ঘ ১৭ বছর পর বাংলাদেশে ফিরে এসেছেন তারেক রহমান, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে নতুনভাবে উত্তপ্ত করেছে। এতদিন তিনি জনগণের সঙ্গে সরাসরি কোনো দেখা সাক্ষাৎ রাখেননি, ফলে সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক, সাংবাদিক এবং ব্লগারদের মধ্যে গভীর প্রশ্ন ও সন্দেহ তৈরি হয়েছে। নির্বাচনের আগে হঠাৎ দেশে কেন আগমন, তা জনগণের মনে নানা জিজ্ঞাসা সৃষ্টি করেছে। তারেক রহমান যে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন এবং দেশে ও বিদেশে নানা তদন্ত চলছিল, সেই প্রেক্ষিতে তার হঠাৎ আগমন গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে ধরা হচ্ছে। জনগণ আশঙ্কা করছে, তিনি ক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং বিএনপির শক্তি বৃদ্ধির উদ্দেশ্যেই দেশে ফিরেছেন। ইতিহাস প্রমাণ করে, ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ সালের নির্বাচন এবং বিএনপির অতীত শাসনামলে দুর্নীতি, ভোট জালিয়াতি, ভিন্নমত দমন, রাজনৈতিক সহিংসতা এবং মানবাধিকারের লঙ্ঘন ঘটেছে। এই ইতিহাস স্পষ্ট করে যে ক্ষমতার লোভে বিএনপি গণতন্ত্রের মৌলিক নীতি, আইনশৃঙ্খলা এবং সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকারকে উপেক্ষা করতে পারে। দেশের জনগণকে এই প্রেক্ষাপটে সতর্ক হতে হবে এবং ভোট প্রদানের আগে তারেক রহমান ও বিএনপির অতীত কর্মকাণ্ড, নেতৃত্বের চরিত্র এবং রাজনৈতিক নীতির ধারাবাহিকতা বিচার করতে হবে। শুধুমাত্র ব্যক্তিগত প্রতিশ্রুতি বা রাজনৈতিক বক্তৃতার ওপর ভরসা করা যথেষ্ট নয়। অতীতের ভুল ও অনিয়ম পুনরায় ঘটলে দেশের গণতন্ত্র, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং দেশের জনগনের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে। এই কারণে নির্বাচনের আগে জনগণকে সচেতন ও বিচক্ষণ হওয়ার প্রয়োজন।

বিএনপির ২০০১–২০০৬ সালের শাসনামলে ভিন্নমত দমন, সাংবাদিক, ব্লগার ও বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর হয়রানি এবং মানবাধিকারের লঙ্ঘনের ধারাবাহিকতা লক্ষ্য করা গেছে। এই সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক বিরোধী, সাংবাদিক এবং ব্লগারদের উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। তাদের ওপর ভয়, হুমকি এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করা হয়েছে, যাতে তারা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে না পারে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে হাওয়া ভবনে থাকা অবস্থায় ভিন্নমত পোষণকারী মানুষদের ওপর যেসব নির্যাতন চালানো হয়েছে, তা দেশের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য গভীর হুমকি। ছাত্রদল ও যুব সংগঠনগুলোর চাঁদাবাজি, হুমকি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডও সরকারের সমর্থনে পরিচালিত হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতার জন্য দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ এবং সহিংস রাজনৈতিক নেতাদের প্রশ্রয় দিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক শক্তি বৃদ্ধি করেছে, যা দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। এই অভিজ্ঞতা জনগণকে সতর্ক করে যে রাজনৈতিক নেতৃত্ব কেবল ক্ষমতার লোভে কাজ করলে গণতন্ত্র, আইনশৃঙ্খলা এবং মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার বিপন্ন হয়। তাই ভোট প্রদানের আগে বিএনপি ও তারেক রহমানের অতীত কর্মকাণ্ড, দুর্নীতি, সহিংসতা এবং দমননীতির ধারাবাহিকতা বিচার করা অত্যাবশ্যক। ইতিহাস প্রমাণ করেছে যে নেতাদের চরিত্র, নীতি এবং দায়িত্বশীলতার মূল্যায়ন ছাড়া ভোট দেওয়া দেশের গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। দেশের মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে যাতে অতীতের ভুল পুনরায় ঘটতে না পারে এবং গণতন্ত্রের মূল্যবোধ সুরক্ষিত থাকে।

১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ সালের নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বিতর্কিত ও শিক্ষণীয় অধ্যায়। ওই নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি রাজনৈতিক প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু ভোটের স্বচ্ছতা ও ন্যায়নিষ্ঠা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন উঠেছিল। দেশের মানুষ এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা লক্ষ্য করেছিলেন যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, ভোটাধিকার এবং জনগণের অংশগ্রহণ যথাযথভাবে নিশ্চিত হয়নি। বিএনপি ক্ষমতার জন্য ভোট জালিয়াতি এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারে কোনো দ্বিধা করেনি। দেশের নাগরিকরা দেখেছে, তারা ভিন্নমত প্রকাশকারী রাজনৈতিক কর্মী, সাংবাদিক বা নাগরিকদের ওপর হুমকি, হয়রানি এবং সহিংসতা চালিয়েছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের পুনরাবির্ভাবের প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে, তারা কি অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি বন্ধ করতে পারবে, নাকি আবার ক্ষমতার লোভে দুর্নীতি, সহিংসতা ও রাজনৈতিক অনিয়মের পথে যাবে। অতীতের অভিজ্ঞতা জনগণকে সতর্ক করে যে ভোটের আগে রাজনৈতিক দল ও নেতাদের অতীত কার্যক্রম এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব মূল্যায়ন করা উচিত। দেশের গণতন্ত্র, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং নাগরিক নিরাপত্তার স্বার্থে বিএনপিকে অন্ধভাবে সমর্থন করা উচিত নয়। ভোট প্রদানের আগে জনগণকে বিকল্প সরকার, দায়িত্বশীল নেতৃত্ব এবং স্বচ্ছ নীতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। জনগণকে সচেতন হতে হবে যাতে দেশের গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত থাকে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে জনগণকে সতর্কতার সাথে বুঝতে হবে যে রাজনৈতিক নেতৃত্ব শুধুমাত্র ক্ষমতার জন্য নয়, বরং দেশের মানুষের কল্যাণ, গণতন্ত্রের উন্নয়ন এবং আইনশৃঙ্খলার প্রতি দায়বদ্ধ কিনা। তারেক রহমানের হঠাৎ দেশে আগমন এবং দীর্ঘ ১৭ বছর পর রাজনৈতিক মঞ্চে উপস্থিতি জনগণের মধ্যে সন্দেহ ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অতীতের দুর্নীতি, ভোট জালিয়াতি, মানবাধিকারের লঙ্ঘন এবং রাজনৈতিক সহিংসতার অভিজ্ঞতা স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে যে বিএনপি কেবল ক্ষমতার জন্য প্রভাব বিস্তার করতে পারে। জনগণকে বিকল্প সরকার, দায়িত্বশীল নেতৃত্ব এবং স্বচ্ছ নীতি বিবেচনা করে ভোট প্রদান করতে হবে। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশের গণতন্ত্র, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং নাগরিক নিরাপত্তা রক্ষা করার জন্য সতর্ক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। অন্যথায় অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে এবং দেশের ভবিষ্যৎ বিপন্ন হতে পারে। তাই জনগণকে সচেতন ও বিচক্ষণভাবে ভোট দিতে হবে, যাতে দেশের গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হয়। এই সব কারণেই বিএনপিকে ভোট না দেওয়ার বিকল্প দল, দায়িত্বশীল নেতৃত্ব এবং স্বচ্ছ রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ভাবা এখন সময়ের দাবি।