১৩ নভেম্বর, রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পঙ্গু হাসপাতালের সামনে আহত মানুষরা হাসপাতালে বিছানা ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন। তাদের দাবি দুটি—সুচিকিৎসা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের পদত্যাগ।
বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভের কারণ সুস্পষ্ট। তারা তাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলন করেছিলেন, কিন্তু এখন তাদের জীবনের জন্য লড়াই করতে হচ্ছে। আহত অবস্থায়ও তাদের পথে নামতে হলো, কারণ তারা সুচিকিৎসা পাচ্ছেন না। তাদের অভিযোগ, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা তাদের সঙ্গে দেখা না করেই হাসপাতাল ত্যাগ করেন। এ দৃশ্য শুধু সরকারকেই বিব্রত করেনি, প্রশ্ন তুলেছে সরকার ও সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাদের দায়িত্ব ও দক্ষতা নিয়েও।
আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। তবে বাস্তবতা হলো, জনগণের ট্যাক্সের অর্থে পরিচালিত হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা ব্যবস্থা অপ্রতুল। সরকারের কাছে টাকার অভাব নেই, কিন্তু চিকিৎসা সরঞ্জাম ও চিকিৎসকদের আন্তরিকতার অভাব প্রকট।
এর পাশাপাশি, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের নিয়োগ নিয়ে জনগণের প্রশ্নের শেষ নেই। কোটাবিরোধী আন্দোলনের মূল চেতনা ছিল বৈষম্যের অবসান, অথচ বর্তমান উপদেষ্টাদের নিয়োগেও একই বৈষম্যের অভিযোগ উঠছে। স্বাস্থ্য উপদেষ্টার যোগ্যতা ও দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, যা এই সংকট আরও ঘনীভূত করেছে।
এই সরকার ক্ষমতায় আসার তিন মাসের মধ্যেই এমন বিশৃঙ্খলা। যদি এখনই উপদেষ্টা পরিষদ ঢেলে সাজানো না হয় এবং দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ না দেওয়া হয়, তবে দেশের চলমান সংকট আরও ঘনীভূত হবে। আহতদের রাস্তায় নামতে হবে না, এমন বাংলাদেশ গড়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। যদি এই অব্যবস্থাপনার সমাধান না হয়, তাহলে বারবার এমন ঘটনা ঘটতে থাকবে। বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক দল, এমনকি সাধারণ মানুষও ক্ষোভে ফেটে পড়ে সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আসবে। তখন তারা প্রশ্ন তুলবে, যারা অভ্যুত্থানে আহত নাগরিকদের জন্য যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ, তারা কীভাবে একটি ভঙ্গুর রাষ্ট্রকে সংস্কারের দায়িত্ব পালন করবে?
