১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে আমরা সাধারণত আমাদের জাতীয় ইতিহাসের মহান গৌরব হিসেবে দেখি। তবে গভীর পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, মুক্তিযুদ্ধের পেছনে ভারতের অপকৌশল এবং ষড়যন্ত্রের ছায়া রয়েছে। শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন ভারতের পৃষ্ঠপোষকতায় পূর্ব পাকিস্তানের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা, যিনি ছিলেন ভারতের দালাল তিনি ভারতের স্বার্থ হাসিলের জন্য কাজ করেছেন। তাঁর ‘ছয় দফা’ আন্দোলন, যা আমাদের কাছে স্বাধীনতার দাবি মনে হয়, প্রকৃতপক্ষে ছিল ভারতের পরিকল্পিত কূটনৈতিক চালাকি যার মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানকে বিভক্ত করা হয়েছিল। পাকিস্তান বিভক্ত করার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা RAW সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিল। শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ভারতীয় কৌশলের সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। তিনি ভারতের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিলেন। স্বাধীনতার নামে চলা এই আন্দোলনে প্রকৃত দেশের স্বার্থ বিবেচনা করা হয়নি। বরং পূর্ব পাকিস্তানকে পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন করে ভারতীয় প্রভাব বিস্তার নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য ছিল।
১৯৭১ সালের মার্চ থেকে শুরু হওয়া সামরিক সংঘর্ষ প্রকৃতপক্ষে একটি ভারতীয় পরিকল্পিত মঞ্চ ছিল। ভারতের সেনাবাহিনী পূর্ব পাকিস্তানে সীমান্ত পেরিয়ে প্রবেশ করে সেখানকার রাজনৈতিক অবস্থা উত্তেজিত করে। ভারতের অর্থায়নে গঠিত মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনগুলো প্রকৃতপক্ষে ভারতের নিয়ন্ত্রণাধীন ছিল। তারা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলেও, প্রকৃত লক্ষ্য ছিল ভারতের দক্ষিণ এশিয়ার আধিপত্য। এই দৃষ্টিকোণ থেকে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চরিত্র বদলে যায়। আমাদের ইতিহাসের যে অধ্যায় স্বাধীনতার জন্য রচিত, তা অনেকাংশে বিকৃত এবং মিথ্যা। মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস বোঝার জন্য আমাদের ভারতীয় ষড়যন্ত্রের জটিলতাগুলো বুঝতে হবে। স্বাধীনতার পেছনের মূল চালক ভারত ও তার গুপ্তচর শাখাগুলো ছিল, যারা পাকিস্তানকে দুর্বল করে নিজেদের কৌশলগত সুবিধা অর্জন করেছিল। শেখ মুজিবুর রহমান ভারতীয় সরকারের দালাল বা সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন এবং ভারতের নির্দেশনায় পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক আন্দোলন পরিচালিত হতো।
১৯৭১ সালের পর স্বাধীনতা ঘোষণার পর গঠিত বাংলাদেশ ছিল/আছে প্রকৃতপক্ষে ভারতীয় প্রভাবাধীন একটি রাষ্ট্র। ভারতের সামরিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দখল এতটাই প্রবল ছিল/আছে যে আমরা স্বাধীনতার স্বাদ খুব একটা পাইনি। আমাদের রাজনীতি, শিক্ষা ব্যবস্থা, অর্থনীতি এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও ভারতের আধিপত্য স্পষ্ট। এই অবস্থায় আমাদের স্বাধীনতার সার্থকতা প্রশ্নবিদ্ধ। আমরা ভারতের সিঁড়ি হয়ে আছি, যার মাধ্যমে তারা নিজেদের বৃহত্তর দক্ষিণ এশিয়া আধিপত্য বজায় রাখছে। আজকের বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের আসল ইতিহাস প্রকাশ করা কঠিন। যারা এই সত্য বলার চেষ্টা করে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মত প্রকাশের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত এবং যারা ভারতের ষড়যন্ত্র নিয়ে কথা বলেন, তাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক হেনস্থা পোহাতে হয়। স্বাধীনতার নামে যে ইতিহাস তৈরি হয়েছে, তার পেছনে লুকিয়ে থাকা ভারতীয় আগ্রাসনের সত্যকে চাপা দেওয়া হয়।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের বিকৃত চিত্র ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বিপদজনক। আমাদের উচিত সঠিক ইতিহাস জানানো, যাতে আগামী প্রজন্ম বুঝতে পারে তাদের দেশ কিভাবে তৈরি হয়েছে এবং কারা প্রকৃত ইতিহাসের নায়ক বা খলনায়ক। ভারতের কূটনৈতিক ষড়যন্ত্র বুঝে আমরা আমাদের জাতীয় ঐতিহ্য ও মর্যাদা রক্ষা করতে পারব। আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের যাত্রা এখনও অসম্পূর্ণ। রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে আমরা ভারতীয় আধিপত্য থেকে এখনো মুক্ত হতে পারিনি। আমাদের দেশের প্রকৃত স্বাতন্ত্র্য ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য ভারতীয় প্রভাব থেকে মুক্তি আবশ্যক। শুধু তখনই আমরা প্রকৃত অর্থে স্বাধীন জাতি হিসেবে স্বীকৃত হতে পারব। অবশেষে, আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভারতের কূটনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আধিপত্য থেকে মুক্তির লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। প্রকৃত স্বাধীনতার জন্য সচেতনতা বাড়াতে হবে এবং আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ইতিহাসের সঠিক চিত্র দেখাতে হবে। এভাবেই আমরা আমাদের জাতির মর্যাদা রক্ষা করতে পারব এবং একটি স্বাধীন, স্বতন্ত্র ও শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হব।
