CategoriesDemocracyHuman RightsJusticePolitics

বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনী: সুরক্ষার নামে সন্ত্রাস

বাংলাদেশের সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব এবং ডিজিএফআই আজ দেশের জনগণের সবচেয়ে বড় শত্রু। তারা জনগণের রক্ষক না হয়ে সরকারের স্বৈরাচারী শাসনের এক নিষ্ঠুর হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে। এই বাহিনী গুলোকে যদি আজকে দেশের নিরাপত্তাবাহিনী বলে মনে করা হয়, তাহলে সেটি একটি বড় ভুল হবে। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে তারা সরাসরি শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী ক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়তা করেছে, যা দেশের গণতন্ত্রকে চরমভাবে অবজ্ঞা এবং অবহেলা করেছে। নির্বাচনী প্রতারণা, ভোটারদের উপর অত্যাচার, বিরোধীদের বাধা- এসব কর্মকাণ্ডে এই বাহিনী ছিল মূল অস্ত্র। ফলে জনগণের ভোটাধিকার সঠিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেনি, গণতন্ত্রের মৌলিক শর্তাবলী পুরোপুরি উপেক্ষিত হয়েছে। এই কারণে আজকের বাংলাদেশে মানুষ ভোটকেন্দ্রে যায় না, কারণ তারা জানে তাদের ভোট ডাকাতি হয়ে যায় বা তুচ্ছ করা হয়। এই সিস্টেম একেবারেই মানুষের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার লঙ্ঘন করে।

সরকারের বিরোধীদের উপর সেনাবাহিনী, র‍্যাব, ডিজিএফআই ও পুলিশের অব্যাহত নির্যাতন একটি নিত্যদিনের বাস্তবতা। তাদের হাতে রাজনৈতিক বিরোধীরা হয়রানি, গুম, হত্যা ও মিথ্যা মামলা দিয়ে দমন করা হচ্ছে। পুলিশ যা হওয়া উচিত ছিল জনগণের সেবক, আজ তারা সরকারের স্বৈরাচারী শক্তির দাস হয়ে পড়েছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে নিরীহ মানুষকে গ্রেফতার, নির্যাতন, জিম্মি করা, তাদের পরিবারের ওপর অত্যাচার চালানো এবং বিচার ব্যবস্থাকে প্রতিহত করা সরকারের এক পরিকল্পিত নীতি। সাধারণ মানুষের কাছে পুলিশ বাহিনী এখন আতঙ্কের কারণ, যেখানে কোনো ধরনের মতপ্রকাশ নিরাপদ নয়। এর ফলে মানুষের মনে ভয় ও অনাস্থা বিরাজ করছে, যা একটি স্বাধীন গণতান্ত্রিক দেশের জন্য বড় বিপদ।

র‍্যাব ও ডিজিএফআই-র গোপন অপারেশনগুলো রাষ্ট্রের অন্ধকার দিক। তারা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম এবং ভয়ঙ্কর নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। র‍্যাব এখন একদল খুনি সন্ত্রাসী ও মানুষ গুম করার সংস্থায় পরিনত হয়েছে। এসব ঘটনা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার রিপোর্টেও উঠে এসেছে, কিন্তু সরকার এসব নিয়ে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না বরং তাদের কার্যক্রমকে ঢাকছে। এই দুই বাহিনী এখন সরকারের স্বৈরাচারী শাসনের একমাত্র হাতে-কলমে হাতিয়ার। তারা বিরোধী মত পোষণকারীদের চুপ করিয়ে দিতে ও জনগণের মধ্যে ভয় সঞ্চার করতে যেকোনো নিষ্ঠুরতা চালাতে দ্বিধা করে না। বাংলাদেশের জনগণ আজ এই বাহিনী থেকে মুক্তি চায়, কারণ তাদের নিকট থেকে মুক্তি না পেলে দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের স্বপ্ন সবদিক দিয়ে বিলীন হয়ে যাবে।

আজকের বাংলাদেশে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব ও ডিজিএফআই একত্রে স্বৈরাচারী শাসনের জন্য কাজ করছে। তারা জনগণের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশ ও সমবেত আন্দোলনের ওপর জোরপূর্বক দমন চালাচ্ছে। জনগণের মধ্যে বিরোধিতা ও প্রতিরোধের যে কোনো প্রকাশ তারা নির্মূল করতে আগ্রহী। সরকারের এই জোরপূর্বক শাসন ব্যবস্থা সমাজে একটি গভীর ভয় ও বিভাজন তৈরি করেছে, যা দেশের স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক হুমকি। জনগণের অধিকারের বিরুদ্ধে এই বাহিনীর অপরাধগুলো কখনই বিচারবিহীন থাকবে না। তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইতিমধ্যেই কঠোর নিন্দা প্রকাশ করেছে। কিন্তু সরকারের এই জোরপূর্বক বল প্রয়োগ জনগণকে দমন করার একমাত্র মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনে স্থায়ী ক্ষতি হচ্ছে।

এই তথাকথিত নিরাপত্তাবাহিনী ও সরকারের সমন্বিত শাসন ব্যবস্থা দেশের আইনের শাসনকে ধ্বংস করেছে। তারা নিজেদের শাসন অব্যাহত রাখতে বিচার ও আইন প্রয়োগ ব্যবস্থাকে নিজের ইচ্ছামতো নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলে দেশে আইন শাসনের অবনতি ঘটেছে, এবং সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা দিন দিন কমে আসছে। এটা একটা গভীর দুঃখজনক বাস্তবতা, যা ভবিষ্যতের জন্য এক ভয়ঙ্কর সংকেত। আজকের এই ভয়াবহ অবস্থা থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হলো দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা এবং স্বৈরাচারী বাহিনী ও সরকারের অত্যাচার বন্ধ করা। জনগণকে একজোট হয়ে এই সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন ও প্রতিবাদ গড়ে তুলতে হবে।