CategoriesDemocracyHuman RightsJusticePolitics

বিক্রম মিশ্রি ঢাকায় এক ঘণ্টা: কোথায় ছিলেন এবং কেন?

সম্প্রতি ঢাকা সেনানিবাসে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এর মধ্যে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গোপন বৈঠকের কথা কেন কেউ জানে না, এ প্রশ্ন উঠছে— কেন এত গোপনীয়তা? বৈঠকটির বিষয়বস্তু সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি, এর পেছনে কিছু গভীর রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি কি কোনো বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ, যার মাধ্যমে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তাকে সংকটাপন্ন করা হতে পারে?

CategoriesDemocracyHuman RightsJusticePolitics

আজিজ-বেনজীরের দুর্নীতির জন্য দায়ী সরকার

সাবেক সেনাপ্রধানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং সাবেক পুলিশপ্রধানের সম্পদ জব্দে আদালতের আদেশকে বর্তমান সরকারের সময়ে ‘দুর্নীতি’ ও ‘ক্ষমতার অপব্যবহারের’ বড় প্রকাশ পেয়েছে। এই দুজন মাফিয়া সরকারের ছত্রচ্ছায়ায় ক্ষমতার চূড়ান্ত অপব্যবহার করেছেন। ঘটনাক্রমে এগুলো এখন সামনে আসছে।

CategoriesDemocracyHuman RightsJusticePolitics

বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনী: সুরক্ষার নামে সন্ত্রাস

বাংলাদেশের সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব এবং ডিজিএফআই আজ দেশের জনগণের সবচেয়ে বড় শত্রু। তারা জনগণের রক্ষক না হয়ে সরকারের স্বৈরাচারী শাসনের এক নিষ্ঠুর হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে। এই বাহিনী গুলোকে যদি আজকে দেশের নিরাপত্তাবাহিনী বলে মনে করা হয়, তাহলে সেটি একটি বড় ভুল হবে। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে তারা সরাসরি শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী ক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়তা করেছে, যা দেশের গণতন্ত্রকে চরমভাবে অবজ্ঞা এবং অবহেলা করেছে। নির্বাচনী প্রতারণা, ভোটারদের উপর অত্যাচার, বিরোধীদের বাধা- এসব কর্মকাণ্ডে এই বাহিনী ছিল মূল অস্ত্র। ফলে জনগণের ভোটাধিকার সঠিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেনি, গণতন্ত্রের মৌলিক শর্তাবলী পুরোপুরি উপেক্ষিত হয়েছে। এই কারণে আজকের বাংলাদেশে মানুষ ভোটকেন্দ্রে যায় না, কারণ তারা জানে তাদের ভোট ডাকাতি হয়ে যায় বা তুচ্ছ করা হয়। এই সিস্টেম একেবারেই মানুষের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার লঙ্ঘন করে।

সরকারের বিরোধীদের উপর সেনাবাহিনী, র‍্যাব, ডিজিএফআই ও পুলিশের অব্যাহত নির্যাতন একটি নিত্যদিনের বাস্তবতা। তাদের হাতে রাজনৈতিক বিরোধীরা হয়রানি, গুম, হত্যা ও মিথ্যা মামলা দিয়ে দমন করা হচ্ছে। পুলিশ যা হওয়া উচিত ছিল জনগণের সেবক, আজ তারা সরকারের স্বৈরাচারী শক্তির দাস হয়ে পড়েছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে নিরীহ মানুষকে গ্রেফতার, নির্যাতন, জিম্মি করা, তাদের পরিবারের ওপর অত্যাচার চালানো এবং বিচার ব্যবস্থাকে প্রতিহত করা সরকারের এক পরিকল্পিত নীতি। সাধারণ মানুষের কাছে পুলিশ বাহিনী এখন আতঙ্কের কারণ, যেখানে কোনো ধরনের মতপ্রকাশ নিরাপদ নয়। এর ফলে মানুষের মনে ভয় ও অনাস্থা বিরাজ করছে, যা একটি স্বাধীন গণতান্ত্রিক দেশের জন্য বড় বিপদ।

CategoriesDemocracyHuman RightsJusticePolitics

৩০ ডিসেম্বর ২০১৮: জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়ালে সেনাবাহিনীর সাথেই হবে চূড়ান্ত যুদ্ধ

বাংলাদেশ একটি সংকটময় সময় পার করছে। ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮ জাতীয় নির্বাচন এগিয়ে আসছে, কিন্তু জনগণের ভেতরে যে ভয়, যে হতাশা, এবং যে ক্ষোভ জমে উঠছে, তা আর সাধারণ কিছু নয়। ইতিহাস আমাদের শিখিয়েছে, বাংলাদেশে নির্বাচন মানে কেবল ব্যালটবাক্সে ভোট ফেলা নয়- এটা এখন জীবন-মরণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাষ্ট্রযন্ত্র যেভাবে সরকারপন্থী হয়ে উঠছে, তাতে প্রশ্ন জাগে- এবার কি সেনাবাহিনীও আওয়ামীলীগ সরকারের আরেকটি দলীয় বাহিনী বা গোলামে পরিণত হবে? ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির কথাও আমরা ভুলিনি। ইতিহাসের এক কলঙ্কিত নির্বাচন ছিল সেটি- যেখানে ১৫৩টি আসনে কোনও ভোটই হয়নি, কারণ প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না। বিরোধী দল বর্জন করেছিল নির্বাচনের মাঠ, আর সরকার ‘নির্বাচন’ নামক নাটক চালিয়ে গিয়েছিল সেনাবাহিনীকে নিস্তব্ধ পাহারাদার বানিয়ে। মানুষ ভোট দিতে পারেনি, রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করলে দমন-পীড়নের শিকার হয়েছে। সেদিন সেনাবাহিনী ছিল মাঠে, কিন্তু ছিল যেন এক নির্বাক, নিস্তেজ প্রতিমা- যারা দেখতে পেয়েছে ভোটহীন নির্বাচন, প্রশাসনিক সন্ত্রাস, অথচ কিছু বলেনি, কিছু করেনি। এমনকি মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে একতরফা বিজয় নিশ্চিত করা হয়েছিল। যারা জনগণের নিরাপত্তার শপথ নিয়ে বন্দুক হাতে মাঠে নামে, তারা সেদিন ছিল সরকারের দেহরক্ষী মাত্র। সেই ঘটনা আমাদের শিক্ষা দেয়- যদি সেনাবাহিনী নিরপেক্ষ না থাকে, তবে নির্বাচন মানেই একটি নাটক, যেখানে জনগণের ইচ্ছা নয়, সরকারই সিদ্ধান্ত নেয় কারা ‘জিতবে’।