২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় নির্মমভাবে খুন হন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বিজ্ঞানমনস্ক লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায়। এই ঘটনা গোটা বাংলাদেশের বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছিল। কিন্তু প্রায় চার বছর হলেও প্রশ্ন থেকে যায়—এই হত্যাকাণ্ডের বিচার কি সুষ্ঠুভাবে হচ্ছে?
ইসলাম, যার মূল শিক্ষাই সহনশীলতা, মানবতা ও ন্যায়বিচার, কীভাবে তার নাম ও প্রতিপত্তি ব্যবহার করে কিছু উগ্রপন্থী নৃশংস সন্ত্রাস জন্ম দিতে পারে? আজকের পৃথিবীতে জঙ্গিবাদী গোষ্ঠী যেমন আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (ABT), হিজবুত তাহেরি, জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলাম, নব্য জেএমবি, আইএস ও অন্যান্য মৌলবাদী সংগঠনরা ধর্মকে পশ্চাৎ রেখে বর্বরতা ছড়িয়ে দিয়েছে। কেন এরা “ইসলামের নামে” সন্ত্রাস করে, এবং কিভাবে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা যায়:
অভিজিৎ রায় ছিলেন যুক্তিবাদ, মানবাধিকার ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে লেখালেখির জন্য পরিচিত। ফলে স্পষ্টতই তাঁর হত্যাকাণ্ড ছিল মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। শুরু থেকেই এ মামলার তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—প্রাথমিক পর্যায়ে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা, তথ্য উপস্থাপনে ধীরগতি এবং সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রমাণ না হাজির করতে পারার ব্যর্থতা ছিল চোখে পড়ার মতো। অভিজিৎ রায়ের হত্যাকাণ্ডের পর বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলেও, চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে আজ প্রায় চার বছর পরে। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে, শুধু ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারই নয়, দেশের জনগণ এবং বিশেষ করে ব্লগার, মানবাধিকার কর্মী ও সাংবাদিকরা অসন্তুষ্ট। এটি বিচারব্যবস্থার গতি এবং কার্যকারিতার প্রতি বড় একটি প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে। কেন এত দীর্ঘ সময় লাগে একটি চার্জশিট তৈরি হতে? এই ধরনের দীর্ঘসূত্রিতা জনগণের বিশ্বাসকে দুর্বল করে এবং একটি রাষ্ট্রের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
একটি রাষ্ট্র যখন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তখন তা গণতন্ত্রের জন্য ভয়ানক বার্তা দেয়। অভিজিৎ হত্যার বিচারকাজ প্রমাণ করে, বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা কতটা রাজনৈতিক প্রভাবিত এবং কতটা ধীরগতি। এ ধরনের মামলায় দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার প্রয়োজন, কিন্তু বাস্তবে আমরা দেখতে পাই, অধিকাংশ সময়ই সরকার শুধু লোক দেখানো উদ্যোগ নেয়। অনেক সময় মনে হয়, এটি যেন কেবল চাপ সামাল দিতে একটি প্রহসন মাত্র।
এছাড়া হত্যাকারীদের উগ্র সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের নাম এলেও তাদের রাজনৈতিক ও পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে কোনো শক্ত পদক্ষেপ দেখা যায়নি। কিছু ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে, কিন্তু যারা এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে নীতিগত নির্দেশনা বা পরিকল্পনা দিয়েছে, তারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। এই বিচার প্রক্রিয়ার ধীরগতি এবং সীমাবদ্ধতা একটি বড় প্রশ্ন তোলে: বাংলাদেশে কি সত্যিই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আছে? নাকি এই স্বাধীনতা কেবল ক্ষমতাবানদের স্বার্থে সীমাবদ্ধ?
অভিজিৎ রায়কে হত্যাকাণ্ডের পরে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যেসব বক্তব্য ও পদক্ষেপ এসেছিল, সেগুলো ছিল মূলত প্রতিক্রিয়াশীল এবং সীমিত। উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা কতটা কার্যকর হয়েছে, তা নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়ে গেছে। তদন্তের গতি ছিল শ্লথ, সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তারে দীর্ঘসূত্রিতা ছিল চোখে পড়ার মতো। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও একাধিক বার সমালোচনা হয়েছে। অভিজিৎ হত্যার ঘটনার সময় টিএসসি এলাকায় পুলিশ উপস্থিত থাকলেও, তারা হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এমনকি অনেক প্রত্যক্ষদর্শীর মতে, পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। প্রশ্ন হলো, কেন?
অভিজিৎ রায়ের রক্ত যেন অনর্থক না যায়। আমাদের একাধিক স্তরে কাজ করতে হবে। প্রথমে ধর্মীয় শিক্ষায় সহিষ্ণুতা, মানবতা ও ন্যায়বিচারকে বাধ্যতামূলক করা; একই সঙ্গে বিচারপ্রক্রিয়াকে দ্রুত ও স্বচ্ছ করতে হবে, যাতে উগ্র সন্ত্রাসীরা সহজেই শাস্তির মধ্যে পড়ে। সামাজিক অর্থনীতির দুর্বল গন্ডি ভেঙে যুবসমাজকে কর্মসংস্থান ও শিক্ষায় সম্পৃক্ত করতে হবে, যাতে উগ্রপন্থীরা কোন সুযোগই না পায়। অভিজিৎ রায়ের হত্যাকাণ্ডের পূর্ণ ও স্বচ্ছ তদন্ত এবং বিচার নিশ্চিত করা উচিত রাষ্ট্রের দায়িত্ব। নয়তো প্রতিটি ব্লগার, সাংবাদিক, মুক্তচিন্তার মানুষ এ বার্তা পাবে— আমাদের জীবনের নিরাপত্তা নেই, এবং বিচারব্যবস্থা কেবলমাত্র একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার।

সুষ্টু বিচার ও জঙ্গি সংগঠন নিষিদ্ধ করতে হবে।
তুই ইসলামের কি জানস? তুই যদি আবার ইসলাম নিয়ে কথা বলিস, তোকে গলা কেটে হত্যা করবো।
নির্লজ্জ সরকারের উচিত দ্রুতই পদত্যাগ করে ফ্রি ফেয়ার নির্বাচন দেওয়া। এরা যতদিন থাকবে দেশে তা চলবেই।
ন্যায় বিচার চাই। জানি এই সরকার করবে না তবুও আশাহত নই, একদিন বাংলাদেশের মাটিতেই হবে বিচার।
আমি উনার লেখা পছন্দ করিনা। উনি দেশের মুসল্লিদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়াতেন। তবুও উনার হত্যাকেও সমর্থন করিনা। এটা দু:খজনক।
একটা নাস্তিক গেছে।
অন্তত অভিজিৎ থেকে আপনার শিক্ষা নেওয়া উচিত? সময় থাকতে নাস্তিকতা ছেড়ে ইসলামের পথে আসুন।
সে একজন নাস্তিক ছিল। ইসলাম বিরোধী অপপ্রচার চালাতো। এদেরকে যারা সমর্থন দিবে তাদের বিরুদ্ধে এখন জিহাদ করা ফরজ হয়ে গেছে। আপনার এই পোষ্ট ডিলিট করলে ভালো হয়।
আমার অন্তত প্রিয় একজন লেখক ছিলেন। অভিজিৎ এর মৃত্যু মেনে নিতে পারছি না।
ছেলেটা নির্দোষ ও ভালো ছিল। লেখাগুলোও গঠনমূলক গুছিয়ে লিখতো। ভালো থাকো উপার ভাই। বিচার চাই ।
দুর কুত্তার বাচ্ছা। তুই কেমনে নিজেকে মুসলমান দাবি করছ। মুসলমান হলে এরকম ইসলাম বিদ্বেষী কারও পক্ষে লিখতে না। ধিক্কার জানাই।
দেশে কি যে শুরু হইছে। বাচতে হলে তাহলে মুখ বন্ধ করে রাখতে হবে। এভাবে আর কতদিন?
অভিজিৎ হত্যার বিচার চাই। আমরা কি উত্তর কোরিয়ায় বাস করছি যে মুখ বন্ধ করে থাকতে হবে।