CategoriesPolitics

‘সিলেট ছাত্রলীগের শীর্ষ পদে গণধর্ষণ মামলার আসামির প্রশ্রয়দাতা ও অছাত্র’

প্রায় ৪ বছর কমিটিবিহীন থাকার পর সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি ঘোষিত হয় মঙ্গলবার। উভয় কমিটিতে কেবল সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়েছে ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত ৪ নেতার নাম ঘোষণার পরই কমিটি প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষোভ করেছে পদবঞ্চিতরা।

বুধবার ‘সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক-বর্তমান নেতৃবৃন্দ’র ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে, দুটি ইউনিটে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ৪টি পদেই কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ১ কোটি ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে বিতর্কিতদের পদ দিয়েছেন। অবিলম্বে সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের ‘বিতর্কিত কমিটি’ বাতিলের দাবি জানিয়ে এবং কমিটি বাতিল না করা পর্যন্ত লাগাতার অবস্থান ধর্মঘট-বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

সিলেট জেলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহরিয়ার আলম সামাদ।

তিনি বলেন, ঘোষিত দুই কমিটির ৪ জনের মধ্যে রয়েছেন অছাত্র, এম সি কলেজ ছাত্রাবাসে বহুল আলোচিত গণধর্ষণ মামলার আসামিদের ‘গডফাদার’ ও একাধিক চেক ডিজওনার মামলার আসামি।

শাহরিয়ার আলম সামাদ বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের এমন কাণ্ডে আমরা লজ্জিত, চরমভাবে হতাশ ও বিব্রত। কমিটিতে স্থান করে দেওয়া হয়েছে ফ্রিডম পার্টির নেতা কাওছার আহমদের নাতি কিশওয়ার জাহান সৌরভকে, আমেরিকাতেও তার নাগরিকত্ব রয়েছে। সংগঠনের গঠনতন্ত্রমতে তিনি দলের পদ-পদবিতে থাকতে পারেন না।’

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে তরুণীকে ধরে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ মামলার আসামিদের সঙ্গে সখ্য রয়েছে, জেলা ছাত্রলীগের নতুন সভাপতি নাজমুল ইসলামের। এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে জানানো হয়, ‘বিষয়টি মিডিয়ার কল্যাণে সকলেই অবগত রয়েছেন’।

অন্যদিকে জেলা ছাত্রলীগে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রাহেল সিরাজের শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয় নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে সামাদ বলেন, ‘ধামি জেলা শাখার সভাপতি থাকাকালীন সময়ে তার শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকায় গোলাপগঞ্জ উপজেলাতেও তাকে পদ দিতে পারিনি।’

অভিযোগের বিষয়ে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটির সভাপতি নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘ধর্ষণের আসামিদের সঙ্গে আমার পরিচয় ছিল। ঘটনার পর থেকে তাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই।’

সংবাদ সম্মেলনে সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের ঘোষিত কমিটি বাতিল করে প্রকৃত ছাত্র, ত্যাগী ও গ্রহণযোগ্য ছাত্রলীগ নেতা কর্মীদের মূল্যায়নের দাবি জানানো হয়। এ জন্য বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রধান অভিভাবক, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপও কামনা করা হয় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে।

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতা কর্মীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সৌরভ জায়গীরদার, শাক্কুর আহমদ জনি, নাঈম চৌধুরী, তোফায়েল আহমদ সানি, কামরান হোসেন খান, আশরাফুল ইসলাম বাপ্পী, দীপঙ্কর টিপু, আশফাক আহমদ মাসুদ, মুহিবুর রহমান, মাজেদ তালুকদার, ইমরান আহমদ, আবিদ আল আজাদ মুন্না, দ্বীপরাজ দিপিয়ান, ইমন ইবনে সম্রাজ, হাফিজ আহমদ, অলিউর রহমান, সাহেদ আহমদ প্রমুখ।

উল্লেখ্য গত মঙ্গলবার ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি ঘোষিত হয়। জেলা কমিটিতে নাজমুল ইসলাম সভাপতি ও রাহেল সিরাজ সাধারণ সম্পাদক এবং মহানগর কমিটিতে কিশওয়ার জাহান সৌরভ সভাপতি ও নাঈম আহমদ সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন।

Source: https://www.deshrupantor.com/321315/‘সিলেট-ছাত্রলীগের-শীর্ষ-পদে-গণধর্ষণ-মামলার-আসামির