আজ সেই ভয়াবহ ৫ মে-। ২০১৩ সালের ৫ মে, ঢাকার শাপলা চত্বরে সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। হেফাজতে ইসলামের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে অংশগ্রহণকারী নিরীহ মানুষদের ওপর ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যে বর্বরোচিত আক্রমণ চালায়, তা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন এবং ফ্যাসিবাদের নগ্ন প্রকাশ।
হেফাজতে ইসলাম তাদের ১৩ দফা দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করছিল। কিন্তু বর্তমান ফ্যাসিস্ট সরকার এই সমাবেশকে নির্মমভাবে দমন করতে বেছে নেয় রক্তাক্ত পথ। রাতের আঁধারে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে, টিয়ার শেল, রাবার বুলেট এবং তাজা গুলি ব্যবহার করে সমাবেশকারীদের ওপর হামলা চালানো হয়। বিভিন্ন সূত্র মতে, এই অভিযানে শত শত মানুষ নিহত হন, যদিও সঠিক সংখ্যা আজও অজানা।
স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে গণতন্ত্রের মুখোশ পরে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করেছে। বিরোধী দল ও মতের প্রতি দমন-পীড়ন, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ, এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন তার শাসনের নিয়মিত চিত্র। শাপলা চত্বরের ঘটনা তার ফ্যাসিবাদী শাসনের একটি জঘন্য উদাহরণ। এমনকি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও তার শাসনামলকে ফ্যাসিবাদী শাসন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
শাপলা চত্বরের ঘটনার সময় সরকার সমালোচনামূলক সংবাদমাধ্যমের সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়, যা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। এমনকি সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়।
শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের জন্য সংগ্রাম কখনও শেষ হয় না। আমাদের উচিত অতীতের এই নৃশংস ঘটনাগুলোকে স্মরণে রেখে বর্তমানে েই ফাসিস্ট হাসিনার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা। গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ এবং সাধারণ জনগণকে একযোগে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে, যাতে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বর্তমানে এমন অন্ধকার ফাসিবাদ সরকারের অধ্যায়ের সমাপ্তি করতে পারে।
