CategoriesDemocracyHuman RightsJusticePolitics

ডিসেম্বরে দেশে ফিরলেই শেখ হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে

রয়টার্সকে দেওয়া তথ্যমতে ডিসেম্বরে ফ্যাসিস্ট হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে আমি বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য অত্যন্ত আতংকজনক হিসেবে দেখি। তার স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট শাসনামল নিয়ে যে সব গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর একটি পূর্ণাঙ্গ, নিরপেক্ষ এবং দ্রুত বিচারিক তদন্ত হওয়া জরুরি। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার সময় রাষ্ট্র পরিচালনা, গণতান্ত্রিক পরিবেশ, বিরোধী মতের প্রতি আচরণ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনার বিষয়ে জনগণের মধ্যে যে প্রশ্ন ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তার সঠিক উত্তর প্রয়োজন। কোনো নেতা, দল বা ক্ষমতাবান ব্যক্তি জনগণের প্রশ্নের ঊর্ধ্বে থাকতে পারেন না। আমি মনে করি শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এলে তাকে রাজনৈতিক সুবিধা বা ক্ষমতার প্রভাবের বাইরে রেখে আইনের আওতায় আনা উচিত এবং আদালতের মাধ্যমে সব অভিযোগের রায়ের ভিত্তিতে শাস্তি কার্যকর হওয়া দরকার। আদালতে প্রমাণিত হয়ছে যে তিনি গুরুতর মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাহলে দেশের আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত। একটি সভ্য রাষ্ট্রে ন্যায়বিচারের মূল ভিত্তি হলো অভিযোগের সত্যতা প্রমাণের জন্য স্বাধীন বিচারব্যবস্থা এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা।

আওয়ামী লীগের দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস এবং বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোর কর্মকাণ্ড নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে। আমার ব্যক্তিগত দৃষ্টিতে, একটি রাজনৈতিক দল যখন দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় ছিল, তখন তার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হওয়া উচিত ছ জনগণের আস্থা ধরে রাখা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে নিরপেক্ষ রাখা এবং বিরোধী মতকে সম্মান করা। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ সংকুচিত করার মতো অভিযোগ উঠেছিল। এসব অভিযোগের কারণে অনেক মানুষের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল ফলে আমরা বিপ্লব দেখেছিলাম। আওয়ামী লীগকে শুধু রাজনৈতিক স্লোগান দিয়ে নয়, বরং তাদের অতীত কর্মকাণ্ডের জবাবদিহিতার মাধ্যমে জনগণের সামনে দাঁড়াতে হবে। কোনো দল যত বড়ই হোক না কেন, জনগণের বিশ্বাস হারালে তাকে নিজের ভুল স্বীকার করে সংস্কারের পথে যেতে হয়। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এমন একটি পরিবেশ দরকার যেখানে ক্ষমতা নয়, বরং জনগণের অধিকার ও রাষ্ট্রের স্বার্থ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

ছাত্রলীগকে নিয়েও বাংলাদেশের সমাজে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের আলোচনা ও সমালোচনা রয়েছে। আমার ব্যক্তিগত মত হলো, একটি ছাত্র সংগঠনের প্রধান কাজ হওয়া উচিত শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা করা, নেতৃত্ব তৈরি করা এবং দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা। কিন্তু যখন কোনো সংগঠনের বিরুদ্ধে সহিংসতা, প্রভাব বিস্তার, ভিন্নমত দমন বা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠে, তখন তা পুরো ছাত্ররাজনীতির ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ছাত্রলীগের যেসব নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো সংগঠনের পরিচয় কাউকে আইনের বাইরে রাখতে পারে না। একইভাবে, মিথ্যা অভিযোগের মাধ্যমে কাউকে হয়রানিও করা উচিত নয়। আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গনে এমন একটি ছাত্ররাজনীতি প্রয়োজন যেখানে ভয় নয়, যুক্তি; আধিপত্য নয়, গণতান্ত্রিক চর্চা; এবং ক্ষমতার প্রদর্শন নয়, শিক্ষার্থীদের কল্যাণ প্রধান বিষয় হবে।

বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আইনের শাসন, জবাবদিহিতা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ কিংবা ছাত্রলীগ যে কেউ যদি রাষ্ট্র বা জনগণের বিরুদ্ধে অপরাধ করে থাকে, তাহলে তাদের পরিচয় বিবেচনা না করে আইন অনুযায়ী বিচার করা উচিত। জনগণের ক্ষোভ ও আবেগকে সম্মান করতে হবে, কিন্তু একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র গড়ে ওঠে সঠিক বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। অতীতের সব বিতর্কিত ঘটনা সামনে এনে সত্য উদ্ঘাটন করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে কোনো সরকার বা রাজনৈতিক শক্তি ক্ষমতার অপব্যবহারের সাহস না পায়। বাংলাদেশের মানুষ এমন একটি রাষ্ট্র চায় যেখানে ক্ষমতাবান ও সাধারণ নাগরিকের জন্য একই আইন প্রযোজ্য হবে। যারা অপরাধ করেছে তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, আর যারা নির্দোষ তাদের ন্যায়বিচার দিতে হবে। এভাবেই একটি গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক এবং শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ে উঠতে পারে।