CategoriesDemocracyHuman RightsJusticePolitics

ছাত্রদলের নৈরাজ্য: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কি সন্ত্রাসীদের দখলে?

বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো কি সত্যিই শিক্ষার কেন্দ্র হয়ে উঠতে পেরেছে, নাকি এগুলো রাজনৈতিক সহিংসতার আস্তানায় পরিণত হয়েছে? গতকাল মজ্ঞলবার কুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের নেতৃত্বে যে সহিংস হামলা চালানো হয়েছে, তা আমাদের আবারও মনে করিয়ে দেয় যে, শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করার জন্য রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর ভূমিকা কতটা ধ্বংসাত্মক হতে পারে।

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ চলছিল, যেখানে ছাত্র রাজনীতি বন্ধের দাবি জানানো হচ্ছিল। কিন্তু সেই বিক্ষোভে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের রক্তাক্ত করে। শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন, এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসনকে বিজিবি মোতায়েন করতে বাধ্য হতে হয়।

একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ যদি এমন হয়, তাহলে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমাদের আশাবাদী হওয়ার জায়গা কোথায়?

ছাত্রলীগ থেকে ভয়ংকর সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রদল?

ছাত্রলীগের অতীত সহিংস কর্মকাণ্ডের জন্য দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনা হয়েছে। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, ছাত্রদলও একই পথে হাঁটছে!

যারা একসময় ছাত্রলীগের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কথা বলত, তারা এখন নিজেরাই ভয়ংকর হয়ে উঠছে। তারা কি ভুলে গেছে, ক্ষমতার মোহ মানুষকে কতটা নিচে নামিয়ে দিতে পারে?

আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সময় এসেছে। রাজনৈতিক পরিচয়ের বলয় গড়ে তুলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালানো কি কোনো গণতান্ত্রিক আচরণ হতে পারে?

একটি বিষয় স্পষ্ট—যদি ছাত্রদলও ছাত্রলীগের মতো সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ে, তবে তাদের পরিণতিও একই হবে।

আমাদের করণীয় কী?

সাধারণ শিক্ষার্থীদের একজোট হয়ে রাজনৈতিক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।

শিক্ষাঙ্গনকে দলীয় রাজনীতি থেকে মুক্ত করতে হবে।

প্রশাসনের উচিত এই হামলার জন্য দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।

রাজনৈতিক দলগুলোরও নিজেদের ভেতর আত্মসমালোচনা করা উচিত—শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কি সহিংস রাজনীতির জায়গা?

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রাজনীতির আখড়া নয়, বরং জ্ঞানের যায়গা। ছাত্রদলের উচিত ছাত্রলীগের অতীত থেকে শিক্ষা নেওয়া—নইলে তাদের ভবিষ্যতও একই পরিণতির দিকে এগিয়ে যাবে। ছাত্রদলের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি।