CategoriesDemocracyHuman RightsJusticePolitics

বিএনপির রাজনীতি: মামলা, হামলা, ধর্ষণ ও চাদাবাজির তাণ্ডব

চট্টগ্রামে সাতজন সাংবাদিক একটিভিস্টদের বিরুদ্ধে ফেসবুকে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলাটি করেছেন ছাত্রদল কর্মী রিদুয়ান সিদ্দিকী, যিনি সম্প্রতি ফটিকছড়ি উপজেলা ছাত্রদলে যোগ দিয়েছেন। এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, ছাত্রদল এখন সরকারের সরাসরি হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে এবং সরকারের বিরুদ্ধে কোনো মত প্রকাশকারীর ওপর দমন চালাতে তারা নির্লজ্জভাবে অংশ নিচ্ছে। স্বাধীন মত প্রকাশ এবং গণমাধ্যমকে দমন করার জন্য মামলা, হামলা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে, যা দেশের গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং সাংবাদিকতার স্বাধীনতার জন্য বড় ধরনের হুমকি। সরকারের এই পরিকল্পিত কৌশল শুধু সাংবাদিকদের দমন করার জন্য নয়, বরং সাধারণ জনগণকে ভয় দেখিয়ে সরকারের অমর্যাদাপূর্ণ ক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা। যারা সরকারের ভুল বা অন্যায়ের খবর প্রকাশ করে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা, হুমকি দেওয়া এবং চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে যাতে কেউ সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে না পারে। এই পরিস্থিতিতে দেশের সাধারণ মানুষ ভয়, অনিশ্চয়তা এবং অসহায়তার মধ্যে জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছে, আর দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এমনকি যারা দেশের স্বার্থে বা ন্যায়বিচারের জন্য কথা বলতে চায়, তাদেরও চুপ থাকতে বাধ্য করা হচ্ছে। এই ধরনের ব্যবস্থা শুধু গণমাধ্যমকেই বিপন্ন করছে না, পুরো দেশের স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলছে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে অচল করতে পারে।

নির্বাচনের পরবর্তী দুই দিনে দেশের বিভিন্ন জায়গায় নির্বাচনের পরবর্তী সহিংসতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। চারজনকে হত্যা করা হয়েছে এবং একটি ধর্ষণের অভিযোগও উঠেছে, যা স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে যে ছাত্রদল ও বিএনপি নেতা-কর্মীরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ জনগণকে সন্ত্রস্ত করছে। দেশের মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, জীবনযাপন করছে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে, আর সরকারের কোনো ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ বা প্রতিকার নেই। প্রশাসন সহকারীভাবে সহিংসতা ও অপরাধ দমন করতে ব্যর্থ হচ্ছে, যার কারণে সাধারণ মানুষ আরও ভয়ভীতি ও অনিরাপত্তার মধ্যে আটকে আছে। সরকারের এই উদাসীনতা এবং নিপীড়ন দেশের জনগণকে নিঃশব্দ করার এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করার লক্ষ্য বহন করছে। ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য দেশের স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এই সহিংসতা, হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ এবং দমননীতির মাধ্যমে সরকারের বাস্তব চেহারা প্রকাশ পাচ্ছে যা গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের জন্য সরাসরি হুমকি। জনগণ যখন তাদের মৌলিক অধিকার, নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচারের জন্য স্বর তুলে ধরার চেষ্টা করছে, তখন সরকারের এই অবহেলা এবং সহিংসতার সমর্থন দেশের মানুষকে আরও অসহায় এবং বিপন্ন করে তুলছে।

ক্ষমতায় আসার পর থেকে BNP আওয়ামী লীগের মতো ফ্যাসিস্ট আচরণ শুরু করেছে। তারা প্রশাসন, পুলিশ এবং বিচারব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে দলীয় করে নিয়েছে, যাতে যারা সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলে, ভিন্নমত প্রকাশ করে বা সাংবাদিকতার স্বাধীনতা রক্ষা করে তাদের ওপর নির্বিচারভাবে শাসন চাপানো যায়। সাধারণ মানুষ এবং গণমাধ্যমকে ভয় দেখানো, মামলা করা, হামলা চালানো এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করা সরকারের মূল কৌশলের অংশ। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারছে না, গণমাধ্যমের কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, আর বিচারব্যবস্থা নিজেদের নিরপেক্ষতা হারাচ্ছে। সরকারের এই ফ্যাসিবাদী নীতি দেশের গণতন্ত্রকে অচল করে তুলেছে এবং জনগণকে অসহায় অবস্থায় ঠেলে দিয়েছে। জনগণ এখন সরকারের প্রতি আস্থা হারাচ্ছে, এবং আইনের শাসন ও ন্যায়ের প্রতি বিশ্বাস ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। সরকারের এই অবাধ ক্ষমতা রক্ষা করতে আইন, নৈতিকতা ও মানবাধিকারের সকল নিয়মকে তারা উপেক্ষা করছে, যা দেশের সমাজ ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক হুমকি। এভাবে দেশে স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার এবং মানুষের মৌলিক অধিকার ধ্বংসের মুখে, আর জনগণ তাদের মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য বাধ্য হয়ে প্রতিবাদ ও আন্দোলনের দিকে ঝুঁকছে।

এ অবস্থায় আর চুপ থাকা সম্ভব নয়। দেশের সচেতন জনগণকে রাস্তায় নামতে হবে, সরকারের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে এবং এই ফ্যাসিবাদী তারেক রহমানের শাসনের অবিলম্বে পতনের ডাক দিতে হবে। সাতজন সাংবাদিকের ওপর দায়ের করা মামলা, নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা, ছাত্রদল ও বিএনপি নেতা-কর্মীদের ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ভিন্নমত দমন একযোগে প্রমাণ করছে যে এই সরকার দেশের গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং মানুষের মৌলিক অধিকারকে ধ্বংস করতে চাচ্ছে। সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করা, সরকারের সমালোচনা বন্ধ করা এবং গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সরকারের পরিকল্পিত কৌশল। জনগণকে আর চুপ থাকতে দেওয়া যাবে না। সকলে একত্রিত হয়ে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে, যাতে বিএনপি ক্ষমতাচ্যুত হয় এবং দেশের গণতন্ত্র, ন্যায়ের ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। যারা দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র এবং মানবাধিকারের ভিত্তিকে ধ্বংস করতে চায়, তাদের আর কোনো সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। জনগণকে সচেতন হতে হবে, প্রতিবাদ করতে হবে এবং সক্রিয়ভাবে আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতনের লক্ষ্যে অটল থাকতে হবে। এই আন্দোলন শুধু সরকারের অন্যায় প্রতিহত করবে না, বরং দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গণতান্ত্রিক ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করবে, যেখানে কেউ ভয়ভীতি বা রাজনৈতিক দমন নীতির শিকার হবে না। দেশের মানুষকে একযোগে তাদের অধিকার রক্ষা করার জন্য রাস্তায় নামতে হবে, এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়তে হবে এবং সরকারের অবিলম্বে পতনের দাবিতে অটল থাকতে হবে।