CategoriesDemocracyHuman RightsJusticePolitics

নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী ছাত্রলীগের মিছিল মিটিং কেন? জননিরাপত্তা সংকট

বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের পুনরায় সক্রিয়তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে সিলেট, লালমনিরহাট, নোয়াখালীসহ দেশের প্রায় সব অঞ্চলে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ছাত্রলীগ মিছিল, সভা এবং সংঘর্ষমূলক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। আমাদের জনমনে নিরাপত্তাহীনতা ও উদ্বেগ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাধারণ জনগণের একটি বড় অংশ মনে করে, সরকার ও রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পর্যাপ্ত নজরদারি এবং কঠোর পদক্ষেপ থাকলে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার সুযোগ থাকত না। তবে বাস্তবতা হলো, অনেক জায়গায় এসব কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশাসনের কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপের ঘাটতি রয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব, আগের নিয়োগপ্রাপ্ত ছাত্রলীগের পুলিশ কর্মকর্তা, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং স্থানীয় পর্যায়ের জটিল সমীকরণ মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল ও সংবেদনশীল আকার ধারণ করছে। ফলে দেশে বিদ্যমান আইন থাকা সত্ত্বেও কেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের অপরাধমূলক বা সহিংস কর্মকাণ্ড কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না এবং কেন সরকার আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে বারবার ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে।

আওয়ামীলীগের সাবেক সিনিয়র কিছু নেতা কর্মী ও আওয়ামী নিয়োগপ্রাপ্ত পুলিশের মদদে ছাত্রলীগ বিভিন্ন এলাকায় শক্তি প্রদর্শন, মিছিল এবং সংঘর্ষমূলক পরিস্থিতি তৈরি করছে, যা সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করছে। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনসমাগম এলাকাগুলোতে এসব ঘটনার প্রভাব বেশি দেখা যায় বলে দাবি করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতি একটি সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশের জন্য হুমকি তৈরি করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝে মাঝে অভিযান বা গ্রেপ্তারের খবর এলেও তা স্থায়ী সমাধান হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। ফলে মানুষের মধ্যে এক ধরনের অনাস্থা তৈরি হচ্ছে। যদি একটি সংগঠন সত্যিই নিষিদ্ধ বা নিয়ন্ত্রিত থাকে, তাহলে কীভাবে তাদের কার্যক্রম বারবার প্রকাশ্যে আসছে। এই প্রশ্নগুলো এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। রাজনৈতিক সদিচ্ছা, গোয়েন্দা নজরদারি এবং দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার সমন্বয় না হলে এ ধরনের সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিতে পারে, যা রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।


সরকার ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে এখন ব্যাপক সমালোচনা দেখা যাচ্ছে। সাধারণ নাগরিকদের একাংশ মনে করছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো অনেক সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেরি করে ফেলে অথবা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়। এর ফলে অপরাধ বা সহিংসতার অভিযোগ পাওয়া গোষ্ঠীগুলো আরও সাহসী হয়ে ওঠে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাজধানী ও অন্যান্য জেলায় ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার পর দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত না হলে জনমনে সন্দেহ আরও গভীর হয়। পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। নাগরিক সমাজের দাবি, আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ না হলে রাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থার প্রতি আস্থা কমে যায়। সরকার যদি সত্যিই জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়, তাহলে দলীয় বা রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনকে আরও জবাবদিহিতার মধ্যে আনতে হবে, যাতে কোনো ধরনের সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা দীর্ঘ সময় ধরে চলতে না পারে।


বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সন্ত্রাসী ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে কার্যকর রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ নিশ্চিত করা। যদি কোনো ছাত্রলীগ সহিংস সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা সরকারের দায়িত্ব। তবে সেই ব্যবস্থা হতে হবে স্বচ্ছ, ন্যায়সঙ্গত এবং প্রমাণভিত্তিক, যাতে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি হয়রানির শিকার না হয়। একই সঙ্গে দেশের সকল রাজনৈতিক দলগুলোকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে, যাতে তাদের নামে বা পরিচয়ে কেউ সহিংসতা সৃষ্টি করতে না পারে। জনগণ চায় একটি শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল সমাজ, যেখানে কথা বলার অধিকার, মানবাধিকার, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং গণতান্ত্রিক অধিকার নিরাপদ থাকবে। তারেক রহমানের বিএনপি সরকার যদি সত্যিই জনগণের আস্থা অর্জন করতে চায়, তাহলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আরও দৃঢ়, দ্রুত এবং কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় সন্ত্রাসী ছাত্রলীগের এধরনের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও অস্থিরতা ভবিষ্যতে দেশে আরও গভীর সংকট তৈরি করতে পারে, যা কোনো পক্ষের জন্যই শুভ নয়।