বাংলাদেশের প্রথম স্বৈরাচার শেখ মুজিব সম্পর্কে জেনে রাখা ভালো:
শেখ মুজিবুর রহমান সাড়ে তিন বছর বাংলাদেশ শাসন করেছেন। ১৯৭২ সালের ১২ই মার্চ বাহ্যত স্বাধীন বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে তার শাসনামলের সূচনা হয় এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে শেখ মুজিবের শাসনামলের সমাপ্তি ঘটে।
এই সাড়ে তিন বছরের শাসনামল বাংলার ইতিহাসের এক বিভীষিকাময় কালো অধ্যায়। মুজিবের শাসনামলে বাংলাদেশ ছিল নৈরাজ্য, অভাব-অনটন, গুম-খুন, অধর্মচর্চা ও দুঃশাসনের নরকক্ষেত্র। কতিপয় ক্ষমতাসীন শাসকচক্রের হাতে জিম্মি হয়ে পড়ে সমস্ত জনগণ। তার শাসনকালে রাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গ বিকল হয়ে পড়ে, কায়েম হয়েছিল চরম কর্তৃত্ববাদী এক দলীয় দুঃশাসন।
“রক্ষিবাহিনী নামক মাফিয়া বাহিনী গঠন”
শেখ মুজিবের দুরভিসন্ধির প্রকাশ ঘটে ১৯৭২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারী রক্ষী বাহিনী নামক ঘাতক বাহিনী গঠনের মধ্য দিয়ে। রক্ষীবাহিনী নামে আধা সামরিক বাহিনী গঠনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী দুর্বৃত্তায়ন পরবর্তী ধাপে পদার্পণ করে। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে দেশজুড়ে নৈরাজ্য কায়েম করা মুজিব বাহিনী ও কাদেরিয়া বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে এই আধাসামরিক বাহিনীটি গঠন করা হয়। এদের মূল কাজ ছিলো ভিন্নমত দমন। এই সন্ত্রাসী বাহিনী মুজিবের হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের পাশাপাশি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, গুম, অপহরণ, চোরাচালান এবং ধর্ষণের সাথে জড়িয়ে পড়ে। তারা বিভিন্ন গ্রামের উপর ঝটিকা আক্রমণ করে গণলুণ্ঠন চালাত। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে লুটপাট এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগও ছিল। মুজিব সরকারের অপকর্মের পথে কাউকে বাধা মনে করলেই তাকে হত্যা করত রক্ষীবাহিনী।
“বাকশাল প্রতিষ্ঠার নামে একনায়কতন্ত্র কায়েম”
উনিশশো পচাত্তর সালের ৭ই জুন বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ তথা বাকশাল প্রতিষ্ঠা করা হয়, তখন বিলুপ্ত করা হয়েছিল সব রাজনৈতিক দল। রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে চারটি পত্রিকা রেখে বাকি সব পত্রিকা বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। বাকশাল গঠনের পরে দেশের ওপর স্বৈরাচার মুজিবের ফ্যাসিস্ট জুলুম আরম্ভ হয়ে গিয়েছিল। সব দলকে বন্ধ করে দিয়ে, নিষিদ্ধ করে দিয়ে, সব খবরের কাগজ নিষিদ্ধ করে দিয়ে লোকজনকে ধরপাকড় করে ব্যাপকভাবে জুলুম করেছিল ফ্যাসিস্ট মুজিব।”
“১৯৭৪-এর দুর্ভিক্ষ”
মুজিব সরকারের অব্যবস্থাপনা ও ব্যাপক দুর্নীতির ফলে ১৯৭৪-এর দুর্ভিক্ষে অসংখ্য মানুষ অনাহারে মারা গিয়েছিল। সরকারী হিসেব অনুসারে ২৭,০০০ মানুষ অনাহারে মৃত্যুবরণ করে। বেসরকারি হিসেবে অনুমানিক ১,০০,০০০ থেকে ৪,৫০,০০০ জন প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে মৃত্যুবরণ করে। এই দুর্ভিক্ষকে স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ানক হিসেবে গন্য করা হয়। যখন হাজার হাজার মানুষ না খেয়ে মরছিল ঠিক সেসময় বাকশালী মুজিবের দুই পুত্র শেখ কামাল এবং শেখ জামালের বিয়ে হয়েছিল সোনার মুকুট মাথায় দিয়ে অত্যন্ত জাকজমকপূর্ণ ভাবে।
“বাংলাদেশে ক্রসফায়ারে হত্যাকাণ্ডের সূচনা করেছিল স্বৈরাচার মুজিব”
২ জানুয়ারি, ১৯৭৫। ওইদিন (বৃহস্পতিবার) রাতে ‘পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টি’ প্রধান নেতা সিরাজ সিকদার তৎকালীন মুজিব সরকারের নিরাপত্তাবাহিনীর হাতে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হন। এর আগের দিন অর্থাৎ ১৯৭৫ সালের ১ জানুয়ারি চট্টগ্রামে গ্রেফতার হন সিরাজ সিকদার। গ্রেফতারের পর ওইদিনই তাকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আনা হয়। এ হত্যাকাণ্ড বিষয়ে তৎকালীন সরকারপ্রধান শেখ মুজিব বলেছিলেন, ‘কোথায় আজ সেই সিরাজ সিকদার’।
“ডেপুটি স্পিকার শাহেদ আলী পাটোয়ারী হত্যাকাণ্ড”
শাহেদ আলী পাটোয়ারী পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য ও পরিষদের ডেপুটি স্পিকার ছিলেন। স্পিকারের চেয়ারে থাকাবস্থায় স্বৈরাচার মুজিবের নেতৃত্বে ততকালীন আ. লীগের সংসদ সদস্যদের হামলার শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। শেখ মুজিবুর রহমান -এর ছোড়া পেপার ওয়েট ও চেয়ারের আঘাতে মাথায় গুরুতর আঘাত প্রাপ্ত হয়ে শাহেদ আলী মারাত্মকভাবে আহত হন। তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয় এবং ২৬ সেপ্টেম্বর (১৯৫৮) হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
“পিতার প্রশ্রয়ে মুজিবপুত্র শেখ কামালের অপকর্ম”
শেখ মুজিবের বড় ছেলে শেখ কামাল ছিল অত্যন্ত বদ মেজাজী। বাবার মতো সেও বাংলাদেশকে তার ব্যক্তিগত সম্পত্তি বলে মনে করতো। তার পরিবার বা দলের সমালোচনা বা বিরুদ্ধাচরণকে কামাল রাষ্ট্রদ্রোহিতা বলে মনে করতো। শেখ কামালের চরিত্রহীন আচরণ, গভীর রাতে রহস্যজনকভাবে মতিঝিল ব্যাংক পাড়ায় সঙ্গীসহ পুলিশের গুলি খেয়ে আহত হওয়া, ডাকসুর ব্যালট বাক্স ছিনতাই, প্রখ্যাত ফুটবল রেফারি ননী বসাককে ঘুসি মেরে রক্তাক্ত করা, প্রখ্যাত লেখক আহমদ ছফা কে মারধরের হুমকি ইত্যাদি অপকর্ম দেখেও মুজিব তাকে কখনো নিবৃত্ত করেনি। বরঞ্চ উল্টো প্রায়সময় প্রশ্রয় দিয়েছে, বাহবা দিয়েছে।
মোশতাকের দলীয় পরিচয় ও মন্ত্রীসভার বিস্তারিত বিবরণ:
বাকশালের জনক শেখ মুজিবের হত্যার পর আ. লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এবং মুজিবের মন্ত্রিসভার অন্যতম সদস্য খন্দকার মোশতাক বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসাবে শপথ নেন। তিনি ছিলেন শেখ মুজিবের মন্ত্রিসভার বাণিজ্যমন্ত্রী। নিজে রাষ্ট্রপতি পদ গ্রহণের পরেই উপরাষ্ট্রপতি করেন শেখ মুজিব সরকারের ভূমিমন্ত্রী মোহাম্মদ উল্লাহকে। তখনো ২৪ ঘণ্টা পার হয়নি স্বৈরাচার মুজিবকে হত্যা করা হয়েছে, মুজিবের মন্ত্রিসভায় থাকা ২১ জন সদস্য তথ্যা আ.লীগের নেতা যোগ দিয়েছিলেন খন্দকার মোশতাকের মন্ত্রিসভায়।
সুত্র: ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত।
