CategoriesDemocracyHuman RightsJusticePolitics

বিএনপি আর আওয়ামী লীগের যেখানে মিল: দুর্নীতি, দমন-পীড়ন ও চাঁদাবাজির রাজনীতি

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি ও আওয়ামী লীগকে অনেক সময় পরস্পরের চরম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। কিন্তু সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতার জায়গা থেকে দেখলে, ক্ষমতার রাজনীতির কিছু মৌলিক চরিত্রে তাদের মধ্যে অস্বস্তিকর মিল রয়েছে। দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, ভিন্নমতকে চাপ দেওয়া, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা, প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার এবং মাঠপর্যায়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ এসব বিষয় দুই দলের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে বারবার প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও দখলদারির অভিযোগ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। এখন বিএনপি ক্ষমতায় এসে যদি একই ধরনের অভিযোগ ছাত্রদল বা অন্য কোনো সংগঠনের বিরুদ্ধে উঠতে থাকে, তাহলে শুধু সংগঠনের নাম পরিবর্তন করে রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলে যায় না। আমার কাছে সবচেয়ে হতাশাজনক বিষয় হলো, যে রাজনীতির বিরুদ্ধে বিএনপি একসময় জনগণের সমর্থন চেয়েছিল, ক্ষমতায় এসে সেই একই ধরনের আচরণের অভিযোগ যদি তাদের বিরুদ্ধেও ওঠে, তাহলে জনগণ স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন করবে পরিবর্তনটা কোথায়? শুধু আওয়ামী লীগের জায়গায় বিএনপি বসানো যদি পরিবর্তনের অর্থ হয়, তাহলে সেটি কোনো প্রকৃত রাজনৈতিক সংস্কার নয়। জনগণ দল বদল নয়, রাষ্ট্র পরিচালনার চরিত্র বদল দেখতে চায়।

CategoriesDemocracyHuman RightsJusticePolitics

ভারত যদি বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চায়, তাহলে শেখ হাসিনাকে ফেরত দিতে হবে

বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা বলার আগে ভারতকে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে বুঝতে হবে বন্ধুত্ব কোনো এক ব্যক্তির সঙ্গে নয়, বন্ধুত্ব হতে হবে বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে। বছরের পর বছর ধরে বাংলাদেশের মানুষ যে রাজনৈতিক ক্ষোভ, দমন-পীড়ন ও গণতান্ত্রিক সংকটের অভিযোগ করে এসেছে, সেটিকে উপেক্ষা করে শুধু একটি রাজনৈতিক পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখলে দুই দেশের জনগণের মধ্যে আস্থা তৈরি হবে না। শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষের যে অভিযোগ রয়েছে, তার বিচার বাংলাদেশের মাটিতেই হওয়া উচিত। কিন্তু ভারত যদি তাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশের বিচার প্রক্রিয়ার বাইরে রাখে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে ভারত কি বাংলাদেশের জনগণের পাশে, নাকি একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তির পাশে? বাংলাদেশের মানুষ ভারতের সঙ্গে শত্রুতা চায় না, কিন্তু অসম্মানও মেনে নেবে না। একটি স্বাধীন দেশের জনগণের ন্যায়বিচারের দাবি যদি কোনো প্রতিবেশী রাষ্ট্র উপেক্ষা করে, তাহলে সেই সম্পর্ক কখনোই প্রকৃত বন্ধুত্বের রূপ নিতে পারে না। তাই ভারতের উচিত বাস্তবতা মেনে নেওয়া এবং বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতি ও দাবিকে সম্মান করা।

CategoriesDemocracyHuman RightsJusticePolitics

সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর পদত্যাগ: স্বৈরাচারের এক দোসরের বিদায়

২৪ জুলাই বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট হাসিনার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর পদত্যাগ দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি হাসিনার ফ্যাসিস্ট শাসনব্যবস্থার অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়েছিলেন, যেখানে জনগণের প্রত্যাশা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে পড়েছিল। একটি রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি শুধুমাত্র একটি সাংবিধানিক পদ নয়, এটি জাতির ঐক্য, আস্থা ও নৈতিক নেতৃত্বের প্রতীক। কিন্তু যখন জনগণ মনে করে যে রাষ্ট্রপতি ফ্যাসিস্ট হাসিনা আওয়ামীলীগ দলের রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় ভূমিকা রেখেছেন, তখন সেই পদটির গ্রহণযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর ভূমিকা নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ও সমালোচনা ছিল। হাসিনার স্বৈরাচারী শাসনের সময় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যেভাবে পরিচালিত হয়েছে, সেখানে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের অবস্থান নিয়েও জনগণের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। তাই তার পদত্যাগকে আমি রাষ্ট্রের জন্য একটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছি, যেখানে জনগণের আশা থাকবে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে এমন ব্যক্তিরা আসবেন যারা জনগণের অধিকার, গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের প্রতি সত্যিকার অর্থে দায়বদ্ধ থাকবেন।

CategoriesDemocracyHuman RightsJusticePolitics

এনসিপির জনসভায় বোমা বিস্ফোরণ: নিরাপত্তা ব্যর্থতা ও রাজনৈতিক সহিংসতার ভয়ংকর চিত্র

এনসিপির জনসভায় ৬জুলাইয়ের বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য আবারও একটি ভয়ংকর সতর্কবার্তা। একটি গণতান্ত্রিক দেশে রাজনৈতিক সমাবেশে মানুষ নিজের মত প্রকাশ করতে যাবে, আর সেখানে যদি বিস্ফোরণের মতো ঘটনা ঘটে, তাহলে প্রশ্ন উঠবেই রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কোথায় ছিল? একটি অন্তর্বর্তী বা নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় জনগণ আশা করেছিল যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে, কিন্তু এমন ঘটনা সেই আস্থাকে বড় ধরনের আঘাত করে। পুলিশ প্রশাসনের দায়িত্ব ছিল সম্ভাব্য হুমকি শনাক্ত করা, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু এই ঘটনার পর মনে হচ্ছে প্রশাসনের প্রস্তুতি ও নজরদারি নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। আমার দৃষ্টিতে, শুধু ঘটনার পর মামলা ও গ্রেপ্তার করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; কেন আগে থেকে এই ধরনের হামলা ঠেকানো গেল না, সেই প্রশ্নেরও জবাব দিতে হবে। যারা রাজনৈতিক মতের কারণে সহিংসতার পথ বেছে নেয়, তারা গণতন্ত্রের শত্রু। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানো, হামলা করা বা আতঙ্ক সৃষ্টি করার সংস্কৃতি বাংলাদেশকে বারবার পিছিয়ে দিয়েছে। সরকার ও প্রশাসনকে কঠোর অবস্থান নিয়ে প্রমাণ করতে হবে যে দেশের মাটিতে কোনো রাজনৈতিক সন্ত্রাসের জায়গা নেই।

CategoriesDemocracyHuman RightsJusticePolitics

ডিসেম্বরে দেশে ফিরলেই শেখ হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে

রয়টার্সকে দেওয়া তথ্যমতে ডিসেম্বরে ফ্যাসিস্ট হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে আমি বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য অত্যন্ত আতংকজনক হিসেবে দেখি। তার স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট শাসনামল নিয়ে যে সব গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর একটি পূর্ণাঙ্গ, নিরপেক্ষ এবং দ্রুত বিচারিক তদন্ত হওয়া জরুরি। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার সময় রাষ্ট্র পরিচালনা, গণতান্ত্রিক পরিবেশ, বিরোধী মতের প্রতি আচরণ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনার বিষয়ে জনগণের মধ্যে যে প্রশ্ন ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তার সঠিক উত্তর প্রয়োজন। কোনো নেতা, দল বা ক্ষমতাবান ব্যক্তি জনগণের প্রশ্নের ঊর্ধ্বে থাকতে পারেন না। আমি মনে করি শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এলে তাকে রাজনৈতিক সুবিধা বা ক্ষমতার প্রভাবের বাইরে রেখে আইনের আওতায় আনা উচিত এবং আদালতের মাধ্যমে সব অভিযোগের রায়ের ভিত্তিতে শাস্তি কার্যকর হওয়া দরকার। আদালতে প্রমাণিত হয়ছে যে তিনি গুরুতর মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাহলে দেশের আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত। একটি সভ্য রাষ্ট্রে ন্যায়বিচারের মূল ভিত্তি হলো অভিযোগের সত্যতা প্রমাণের জন্য স্বাধীন বিচারব্যবস্থা এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা।