বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র সাকিব আল হাসান। মাঠে তিনি বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার, কোটি মানুষের ভালোবাসার নাম। কিন্তু মাঠের বাইরে সাকিবকে ঘিরে এক তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে -তিনি কি কেবল একজন ক্রীড়াবিদ, নাকি একজন প্রভাবশালী নাগরিক যার নীরবতা কিংবা অবস্থান রাজনৈতিক স্বৈরাচারকে বৈধতা দিচ্ছে? এ প্রশ্ন এখন জনমানসে আলোচিত, এবং অনেকে তাকে আখ্যা দিচ্ছেন “স্বৈরাচারের দোসর” হিসেবে। বাংলাদেশে যখনই গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়ে, সাধারণ মানুষ আশা করে সেলিব্রেটি, ক্রীড়াবিদ, শিল্পীরা তাদের কণ্ঠ তুলবেন। কিন্তু সাকিবের ক্ষেত্রে বারবার দেখা গেছে, তিনি এসব প্রশ্নে নীরব থেকেছেন, বরং তিনি আওয়ামীলীগের এমপি হয়েছিলেন এবং এমন অবস্থান নিয়েছিলেন যা ক্ষমতাসীন স্বৈরশাসকদের পক্ষে গেছে।
Author: Maidul Islam
ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর: চুরি, লোপ এবং সরকারের ব্যর্থতা
ভোলাগঞ্জের পরিচিত সাদা পাথরগুলো, যা বছরের পর বছর ধরে স্থানীয় জনগণ ও পুরো এলাকার সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক পরিচয়ের অঙ্গ হিসেবে পরিচিত ছিল, হঠাৎ করেই রহস্যজনকভাবে লোপ হয়েছে। এই ঘটনা শুধু আর্থিক ক্ষতির বিষয় নয়, এটি স্থানীয় জনগণের আস্থা ও প্রশাসনের প্রতি বিশ্বাসকে পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। প্রশ্ন হচ্ছে, কোথায় গেল এই পাথরগুলো, এবং কেন প্রশাসন বা স্থানীয় সরকার এই ব্যাপারে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এই সাদা পাথরগুলো কেবল অভাবনীয় নজরদারিহীনতার কারণে হারিয়ে যায়নি। বরং পরিকল্পিতভাবে বিএনপি ও তার সহযোগীরা এই সম্পদ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গেছে। তারা পাথরগুলো নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ ও অর্থনৈতিক সুবিধার জন্য চুরি করেছে। স্থানীয়দের উপর তাদের চাদাবাজি, ভয় সৃষ্টি এবং প্রতিটি স্বাভাবিক কার্যকলাপকে ব্যাহত করার ইতিহাস তো আমরা ইতিমধ্যেই জানি। এ ধরনের চুরি ও লুটপাট কোনো সাধারণ অপরাধ নয়; এটি রাজনৈতিক সহিংসতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের একটি স্পষ্ট উদাহরণ।
আগামী নির্বাচনে কারা জিতবে?
বর্তমান বাংলাদেশে রাজনৈতিক মহলে অনেকটাই অস্থিরতা বিরাজ করছে। দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল- আওয়ামী লীগ ও বিএনপি- দুই পক্ষই জনসমক্ষে তাদের দীর্ঘ দিনের দুর্নীতি, স্বৈরাচারী শাসন এবং ক্ষমতার লোভের জন্য কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছে। তবে এই দুই দলের বাইরে কিছু নতুন রাজনৈতিক শক্তিও উঠে আসছে, যার মধ্যে এনসিপি (জাতীয় নাগরিক পার্টি) বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। আওয়ামী লীগ দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় না থাকলেও তাদের স্বৈরাচারী শাসনের ইতিহাস আজও ভোলা যায় না। ২০২৪ সালের আগ পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা সময়ে দেশের গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অনেকাংশেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সরকারের শাসন ব্যবস্থায় ছিল কঠোর নিয়ন্ত্রণ, বিরোধী মতপ্রকাশ দমন, ও নানা রকম দুর্নীতি। তাদের এই স্বৈরাচারী শাসন দেশের গনতান্ত্রিক মূলনীতিকে ব্যাহত করেছে এবং স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের পথে বাধা সৃষ্টি করেছে। এছাড়া, ক্ষমতার জন্য ক্ষমতায় টিকে থাকার অন্ধ লোভে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে যদিও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় নেই, তবুও তাদের স্বৈরাচারী শাসনের পরিণাম দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত সৃষ্টি করেছে। দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের পরিবর্তে অবিচার, দমন-পীড়ন, এবং সামাজিক অস্থিরতা বেড়ে গেছে। এই কারণে আওয়ামী লীগের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা কমে গেছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের চাঁদাবাজি কেন?
বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলন বরাবরই ছিল পরিবর্তনের এক শক্তিশালী হাতিয়ার। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনও তার ব্যতিক্রম নয়। এটি সমাজের অনাচার, শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার নানা অসাম্যর বিরুদ্ধে একটি সাহসী কণ্ঠস্বর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল। শিক্ষার্থী, তরুণ, বঞ্চিত ও প্রান্তিক মানুষদের ন্যায্য অধিকারের পক্ষে এমন আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা কেউ অস্বীকার করতে পারে না। কিন্তু সম্প্রতি এই আন্দোলনের কিছু সমন্বয়কের বিরুদ্ধে যে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে, তা আন্দোলনের নৈতিক ভিত্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে।
সামাজিক মাধ্যমে ও কিছু সংবাদ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে—কিছু সমন্বয়ক তাদের প্রভাব খাটিয়ে নির্দিষ্ট হল বা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় চাঁদা দাবি করছেন। কেউ কেউ আবার নিজেরা আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকার বিনিময়ে নানাভাবে আর্থিক সুবিধা নিচ্ছেন, এমন অভিযোগও পাওয়া গেছে। যদিও এসব অভিযোগ প্রমাণের জন্য নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন, তবুও অভিযোগগুলোর অস্তিত্বই আন্দোলনের গ্রহণযোগ্যতাকে ধ্বংস করার পক্ষে যথেষ্ট। এই প্রশ্ন এখানে উঠে আসে: যারা বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করার কথা বলে, তারা নিজেরাই যদি আরেক ধরনের ক্ষমতা ও সুবিধাবাদের আশ্রয় নেয়, তাহলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা কাকে বিশ্বাস করবে? যে আদর্শ নিয়ে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তা কি শুধুই কাগুজে স্লোগান হয়ে থাকবে?
চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ বিএনপিকে আমরা ক্ষমতায় চাইনা
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিএনপির ভূমিকা একসময় ছিল রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের অংশ হিসেবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই দলটি দুর্নীতির আখড়া ও চাঁদাবাজির সিন্ডিকেটে রূপ নিয়েছে। আজ যখন দেশের মানুষ পরিবর্তনের আশায় তাকিয়ে আছে, তখন বিএনপি আবার ক্ষমতায় ফিরে আসার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। কিন্তু জনগণের প্রশ্ন- একটি দল যাদের অতীত ঘেরা শুধুই লুটপাট, চাঁদাবাজি, হত্যা, রাজনৈতিক প্রতিশোধ, তারা কি আবারও রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিতে পারে?
২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি সরকার দেশের রাজনীতি, প্রশাসন ও অর্থনীতিকে যেভাবে ধ্বংস করেছে, তা ইতিহাসে কলঙ্কময় অধ্যায় হিসেবে রয়ে যাবে। তৎকালীন সময়ে বিশ্বব্যাংকের দুর্নীতিবিরোধী প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ ছিল টানা পাঁচ বছর বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ। বিএনপির প্রভাবশালী নেতারা দলীয় পরিচয়ে সরকারি প্রকল্পে কমিশন খেতেন, আর দলীয় ক্যাডাররা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা তুলতো। তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে বহু কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগের মামলা হয়েছিল। দুর্নীতির অভিযোগে খালেদা জিয়ার দুই পুত্র তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোর নাম এসেছে আন্তর্জাতিক সংস্থার রিপোর্টেও।
