বাংলাদেশে গণতন্ত্রের স্বরূপে যে শিক্ষা ও শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোর অবদান অপরিসীম, তার মধ্যে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজ বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু আজ অবস্থা হলো, যে সন্ত্রাসী ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগকে আইনগতভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে সেই দল প্রকাশ্যে ঝটিকা মিছিল করছে, স্লোগান দিচ্ছে এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। এটি শুধু একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিহিংসা নয়, বরং সরকারের ব্যর্থতার নগ্ন চিত্র। যখন এমন একটি সংগঠন এতটা বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে, তখন প্রশ্ন ওঠে, সরকার কি সঠিকভাবে তাদের দমন বা প্রতিরোধে সক্ষম নাকি তারা নিজস্ব স্বার্থের কারণে নীরব দর্শক হিসেবে থেকে যাচ্ছে। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ শুধু মিছিল করছে না, তারা প্রতিটি পদক্ষেপে প্রমাণ দিচ্ছে যে তারা এখনও দেশের বিভিন্ন ওয়ার্ড, ইউনিয়ন থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর উপর প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম। তারা স্লোগান দিয়ে, প্ল্যাকার্ড হাতে তুলে, দেশের বিভিন্ন যায়গায় নিজেদের আধিপত্য দেখাচ্ছে। এই পরিস্থিতি জনগনের জন্য ভীতিকর এবং তাদের স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার হরণ করছে। সঠিকভাবে আইন প্রয়োগ না হলে, এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য ভয়াবহ সংকেত হিসেবে রূপ নেবে।
Category: Democracy
দুর্বল বিএনপি, শক্তিশালী জামায়াত?
বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতিদিন নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। এক সময়ের অন্যতম প্রধান বিরোধী দল বিএনপি আজ এক গভীর সংকটের মধ্যে পড়েছে। তাদের সংগঠনের ভাঙন, দুর্বল নেতৃত্ব, এবং ধারাবাহিক ভুল সিদ্ধান্তের কারণে জনপ্রিয়তা ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। অন্যদিকে, বিতর্কিত হলেও জামায়াতে ইসলামী কিছু জায়গায় নিজেদের সংগঠন ধরে রাখার কারণে সীমিতভাবে হলেও জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করছে। বিএনপির প্রধান নেতৃত্ব এখন কার্যত লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমানের হাতে। দেশে না থেকেও তিনি দূর থেকে সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন। এতে তৃণমূল নেতাদের মধ্যে আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে। তারেক রহমানের দুর্নীতি ও অতীতের কালো অধ্যায় জনগণের মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলনের ডাক দিলেও তা বাস্তবে রূপ নিতে পারেনি। পুলিশি দমন-পীড়ন অবশ্যই একটি কারণ, কিন্তু বিএনপির সংগঠনকে মজবুত করে মাঠে থাকার সক্ষমতাও নেই। বারবার আন্দোলনে ব্যর্থতা তাদের কর্মীদের হতাশ করেছে।
৯ সেপ্টেম্বর ডাকসু নির্বাচন: ছাত্ররাজনীতির পুনর্জাগরণ নাকি পুরোনো সন্ত্রাসের পুনরাবৃত্তি?
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে গণআন্দোলন, স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রাম, সব ক্ষেত্রেই ডাকসু নেতারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে এই প্রতিষ্ঠান কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। নির্বাচনের নামে ছাত্রলীগের একচেটিয়া দখল, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও জালিয়াতির কারণে ডাকসু তার গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছিল। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্য দিয়ে ছাত্রসমাজের মধ্যে আবারও আলোচনার ঝড় উঠেছে। প্রশ্ন উঠছে, এ নির্বাচন কি সত্যিই শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর ফিরিয়ে আনবে, নাকি এটি আরেকটি প্রহসন হয়ে যাবে?
নুরুল হক নুরুর উপর যৌথ বাহিনীর হামলা কেন?
বাংলাদেশের রাজনীতিতে নাগরিক ও রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক -আমার নেতা বিপি নুরুল হক নুরুর উপর যৌথ বাহিনী দ্বারা হামলা। এই ঘটনা কেবল তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিপন্ন করেনি, বরং পুরো রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল ও আতঙ্কময় করেছে। যৌথ বাহিনী, যার মূল দায়িত্ব দেশের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করা, সেই বাহিনী নিজেই রাজনৈতিক নেতৃত্বের উপর হামলার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে -এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আইন প্রণয়ন ও সংবিধান অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক নেতা বা নাগরিককে নির্দিষ্ট কোনো অপরাধ প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত এভাবে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা যায় না। এই ধরনের ঘটনা জনগণের চোখে সরকারের নীরবতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারকে প্রমাণ করছে।
স্বৈরাচারের দোসর সাকিব আল হাসান
বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র সাকিব আল হাসান। মাঠে তিনি বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার, কোটি মানুষের ভালোবাসার নাম। কিন্তু মাঠের বাইরে সাকিবকে ঘিরে এক তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে -তিনি কি কেবল একজন ক্রীড়াবিদ, নাকি একজন প্রভাবশালী নাগরিক যার নীরবতা কিংবা অবস্থান রাজনৈতিক স্বৈরাচারকে বৈধতা দিচ্ছে? এ প্রশ্ন এখন জনমানসে আলোচিত, এবং অনেকে তাকে আখ্যা দিচ্ছেন “স্বৈরাচারের দোসর” হিসেবে। বাংলাদেশে যখনই গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়ে, সাধারণ মানুষ আশা করে সেলিব্রেটি, ক্রীড়াবিদ, শিল্পীরা তাদের কণ্ঠ তুলবেন। কিন্তু সাকিবের ক্ষেত্রে বারবার দেখা গেছে, তিনি এসব প্রশ্নে নীরব থেকেছেন, বরং তিনি আওয়ামীলীগের এমপি হয়েছিলেন এবং এমন অবস্থান নিয়েছিলেন যা ক্ষমতাসীন স্বৈরশাসকদের পক্ষে গেছে।
