ছাত্রলীগের নেতৃত্বে প্রশাসনের প্রশ্রয়ে ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর, ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান, ফারুক হোসেন, মশিউর রহমানসহ অন্তত ৪০ জনের উপর হামলা হয়েছে। কারও পা ভেঙে গেছে, নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বেরোচ্ছে, বমি করছে, বুকের হাড় ভেঙে গেছে। অনেকে আইসিইউতে রয়েছে। অনেকের অবস্থা সংকটাপন্ন। তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরা নিয়ে আমরা শঙ্কায় আছি।
Category: Human Rights
৩০ লক্ষ শহীদের গল্প: মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতারণা
বছরের পর বছর ধরে আমাদের বলা হয়েছে যে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লক্ষ মানুষ শহীদ হয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় বর্ণনাটি যেন পবিত্র ধর্মগ্রন্থের মতো -প্রশ্ন করা যাবে না, সন্দেহ করা যাবে না, বিশ্লেষণ করা যাবে না। সবচেয়ে বেশি চর্চিত ও অমোঘ ঘোষণাটি হলো: “৩০ লক্ষ শহীদ।” এই সংখ্যাটি এমনভাবে জাতির মস্তিষ্কে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে যেন এর চেয়ে কম বললে আপনি অমানুষ, রাজাকার কিংবা পাকিস্তানি দালাল। অথচ প্রশ্ন হলো, এই ৩০ লাখের হিসাব কে দিয়েছে? কোথায় সেই মৃতদেহ, গণকবর, তালিকা, বা বৈজ্ঞানিক তথ্য? ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের শেষে দেশে ফিরে হঠাৎ করেই বলেন, “৩০ লাখ শহীদ হয়েছেন।” কিন্তু তিনি এই সংখ্যা কীভাবে পেলেন, তার কোনও গবেষণা ছিল না, তদন্ত ছিল না, এমনকি কোন সেনা বা আন্তর্জাতিক সংস্থা এই সংখ্যা নিশ্চিত করেনি। অর্থাৎ এটি ছিল একটি রাজনৈতিক কৌশল- বিশ্বকে দেখানোর জন্য যে পাকিস্তান কত বড় গণহত্যা চালিয়েছে, এবং ভারতের সহায়তা কতটা “ন্যায়সঙ্গত” ছিল।
এই ৩০ লাখ শহীদের সংখ্যা রাষ্ট্রীয় প্রচারণা ও রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত হয়েছে। শহীদের প্রকৃত নাম, ঠিকানা, বয়স, পরিচয় আজও জানা যায়নি। এমনকি আজ পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ শহীদ তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে কিছু আংশিক তথ্য আছে বটে, কিন্তু সেটি ৩০ লাখ নয়, বরং কয়েক হাজারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তাহলে এই ‘তথ্যহীন গণকবর’ এবং ‘নামহীন শহীদ’দের গল্প কেন চালু রাখা হলো? কারণ এটা ছিল আবেগ দিয়ে জাতিকে বোকা মানানোর কৌশল। যখন একটি রাষ্ট্র নবীন, তখন সেটিকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে হয় একটি গৌরবময় অতীত দিয়ে। তাই যুদ্ধকে অতিরঞ্জিত করে দেখানো হলো। আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক সুবিধা পাওয়া ও ভারতের সহযোগিতা জাহির করার জন্য যুদ্ধের ভয়াবহতাকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে বলা হলো। ৩০ লক্ষ শহীদের গল্পে ভারতকে নায়ক বানানো গেল, আর শেখ মুজিবকে হয়ে উঠতে দিলাম তথাকথিত “জাতির পিতা”। ইতিহাস নয়, এটি ছিল একটি দক্ষ রাষ্ট্রীয় ইতিহাস বিকৃতি ও মিথ্যাচার।
বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদকে হত্যা
‘ভারতের সঙ্গে সরকার দেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তি করেছে। এ চুক্তি বাতিল ও চুক্তির প্রতিবাদ করায় ছাত্রলীগের হাতে বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে হত্যা করা হয়েছে।’
বুয়েটের মেধাবী ছাত্র শহীদ আবরার ফাহাদের নির্মম মৃত্যু কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি ক্ষমতাসীনদের খুনের সংস্কৃতির ধারাবাহিক চর্চার একটি অংশ মাত্র। আজ তাই বাংলাদেশের মানুষের পক্ষের মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার সময় এসেছে। এই অন্ধকারের সরকারের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করে মানুষের অধিকার মানুষের হাতে ফিরিয়ে দিতে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের বিকল্প নেই। আজ দেশের জনগণই যেন নিজ দেশে পরাধীন। এই পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে আমাদের জেগে উঠতে হবে।
বাংলাদেশের বর্তমান সংবিধান একটি ফ্যাসিবাদী দলিল
বাংলাদেশের বর্তমান সংবিধান আসলে কোনো গণতান্ত্রিক দলিল নয়। এটি এক দলীয় শাসন ও রাষ্ট্রীয় ফ্যাসিবাদের নীতিগত ভিত্তি। সংবিধানের ১৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধান আজ জনগণের চেয়ে একজন ব্যক্তিকে এবং একটি দলকে শক্তিশালী করার যন্ত্রে পরিণত হয়েছে। সংবিধান এখন এমন এক হাতিয়ার, যার মাধ্যমে সরকারপ্রধান নিজেকে বিচার, আইন, প্রশাসন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। এই সংবিধান এখন একটি ফ্যাসিবাদী দলিল, যা সরকার প্রধানকে একনায়ক ও স্বৈরাচারী ক্ষমতা দিয়ে জনগণের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন ও দমন করার পথ প্রশস্ত করেছে। এই সংবিধানের ধারা ও সংশোধনীগুলো এমনভাবে গৃহীত হয়েছে, যা স্বৈরশাসক শাসনব্যবস্থাকে বৈধতা দেয় এবং প্রতিনিয়ত আমাদের গণতন্ত্রের চেতনা ও স্বাধীনতার স্বপ্নকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
১৯৭২ সালের সংবিধান, আজ অনেক সংশোধনের মাধ্যমে বদলে গেছে। বিশেষ করে ২০১১ সালের ১৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ধারা বাতিল করে এককদলীয় শাসন ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হয়েছে। এর ফলে বিরোধী দলগুলোকে নিপীড়নের মাধ্যমে ভোটাধিকার খর্ব করা হয়েছে, যা গণতন্ত্রের প্রতি বিরাট ব্যাঘাত। সরকার প্রধানের হাতে নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীভূত করার জন্য বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নস্যাৎ করা হয়েছে। বিচারপতি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সরকারের একতরফা আধিপত্যের কারণে বিচার ব্যবস্থা আজ সরকারের পোষা কুকুরে পরিণত হয়েছে। এতে বিচারিক নিরপেক্ষতা হারিয়ে সমাজে অবিচার ও দুর্নীতির পরিসর বাড়ছে।
ভিপি প্রার্থী নূরের উপর ছাত্রলীগের হামলা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ভিপি প্রার্থী নুরুল হক নূরের উপর ছাত্রলীগের হামলা।
আজ সোমবার ‘রোকেয়া হলে ছাত্রলীগ নেত্রীরা কোটা আন্দোলনের নুরু ভাইকে মেরে আহত করেছে। দুপুর ১২টার দিকে বেগম রোকেয়া হলে হামলার শিকার হন নূর। এ সময় উপস্থিত শিক্ষার্থীরা তাকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে। সকাল ৮টা থেকে ডাকসু নির্বাচন শুরু হলেও রোকেয়া হলে এক ঘণ্টা দেরিতে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এসময় তিনটি ব্যালট বাক্স সরিয়ে ফেলা হয়েছে। পরে রোকেয়া হলে ভোট গ্রহণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ভোটে কারচুপি করেও নুরের জয় থামাতে পারবেন না।
ছবিঃ সংগ্রহীত
