সাবেক সেনাপ্রধানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং সাবেক পুলিশপ্রধানের সম্পদ জব্দে আদালতের আদেশকে বর্তমান সরকারের সময়ে ‘দুর্নীতি’ ও ‘ক্ষমতার অপব্যবহারের’ বড় প্রকাশ পেয়েছে। এই দুজন মাফিয়া সরকারের ছত্রচ্ছায়ায় ক্ষমতার চূড়ান্ত অপব্যবহার করেছেন। ঘটনাক্রমে এগুলো এখন সামনে আসছে।
Tag: বাংলাদেশ
আজ সেই ভয়াবহ ৫ই মে: শাপলা চত্বরের নৃশংসতা
আজ সেই ভয়াবহ ৫ মে-। ২০১৩ সালের ৫ মে, ঢাকার শাপলা চত্বরে সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। হেফাজতে ইসলামের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে অংশগ্রহণকারী নিরীহ মানুষদের ওপর ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যে বর্বরোচিত আক্রমণ চালায়, তা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন এবং ফ্যাসিবাদের নগ্ন প্রকাশ।
হেফাজতে ইসলাম তাদের ১৩ দফা দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করছিল। কিন্তু বর্তমান ফ্যাসিস্ট সরকার এই সমাবেশকে নির্মমভাবে দমন করতে বেছে নেয় রক্তাক্ত পথ। রাতের আঁধারে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে, টিয়ার শেল, রাবার বুলেট এবং তাজা গুলি ব্যবহার করে সমাবেশকারীদের ওপর হামলা চালানো হয়। বিভিন্ন সূত্র মতে, এই অভিযানে শত শত মানুষ নিহত হন, যদিও সঠিক সংখ্যা আজও অজানা।
স্বৈরাচার সরকার কি ‘মায়ের কান্না’ শুনছে?
‘গুম হওয়া মানুষের পরিবারগুলোর নীরব কান্না থেমে নেই। স্বজনের বেদনার্ত আওয়াজ আওয়ামী লীগের কানে ঢুকে না। এমনকি সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কারো কর্ণকুহরে যেন এদের কান্নার শব্দ প্রবেশ করে না। হারিয়ে যাওয়া মানুষগুলোর স্বজনেরা জানতেও পারেননি তারা এখন জীবিত না মৃত?
স্বৈরাচার হাসিনা ও বাংলাদেশের মৃত গণতন্ত্র
বাঁচার অধিকার, মতপ্রকাশের অধিকার এবং দেশের ভাগ্য নির্ধারণে নাগরিকদের মৌলিক অধিকারকে কবরে পাঠিয়ে যে বাঁচা -তাতে সভ্য ভাবে বাঁচার কাজটি হয় না। সেটি নিরেট বর্বর যুগের অসভ্যতা। সে অসভ্যতা তাদের হাতেই প্রচণ্ড রূপ লাভ করে যাদের যুদ্ধের মূল লক্ষ্য জনগণের অধিকার হনন। বাংলাদেশের মাটিতে জনগণের অধিকার নির্মূলের যুদ্ধটি প্রথম শুরু করেন শেখ মুজিব। সে যুদ্ধে তিনি বিজয় লাভ করেন একদলীয় বাকশালের প্রতিষ্ঠা ও বহুদলীয় গণতন্ত্রকে কবরে পাঠানোর মধ্য দিয়ে।
ফ্যাসিস্ট হাসিনার স্বৈরাচারি শাসনের অবসান ও তক্তাবদায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হোক
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটপূর্ণ ও অস্থিতিশীল। দেশে স্বৈরাচারের শাসন চলমান আছে, যেখানে জনগণের কথা উপেক্ষা করে এক দলীয় শাসন ব্যবস্থাকে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার, যার নেতৃত্বে রয়েছে ফ্যাসিস্ট হাসিনা, গত প্রায় দেড় দশকের বেশি সময় ধরে দেশের শাসনকার্য চালিয়ে আসছে, কিন্তু এর শাসনকালের মধ্যেই দেশে গণতন্ত্রের কবর হয়েছে।
সরকারের তরফ থেকে নির্বাচনের কথা বলা হলেও, সেগুলো ছিল শুধুই এক ধরনের নাটক। গণতন্ত্রের মূল স্তম্ভ, সুষ্ঠু নির্বাচন, আর জনগণের স্বাধীন মতপ্রকাশ আজ পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন। এক এক করে সরকার সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে ফেলেছে এবং জনগণের উপর দমন-পীড়ন চালিয়েছে।
