বাংলাদেশে রাজনীতির প্রতিটি মোড় আজকাল যেন পূর্বপরিকল্পিত স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী চলে। যখন একটি অবৈধ, ফ্যাসিস্ট সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিল, তখন তাদের ভাষা ও লক্ষ্য যেমনটা হয়েছিল—তা স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের জন্ম দেয়। কিন্তু সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হয়, যখন সেই একই ভাষা মিলে যায় দেশের সেনাপ্রধান ও ভারতীয় সেনাপ্রধান,মিডিয়া ও কূটনীতিকদের সুরের সঙ্গে। ডিসেম্বর মাসের মধ্যে বা খুবই দ্রুতই জাতীয় নির্বাচন চাওয়া নিয়ে আওয়ামী লীগ, সেনাপ্রধান এবং ভারতের বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকার চাওয়া একযোগে উচ্চারিত বক্তব্য আজ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও ভাবিয়ে তুলেছে: এদের এত মিল কেন? এরা কি একাট্টা হয়ে জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে কিছু সাজিয়ে নিচ্ছে?
সেনাবাহিনী একটি পেশাদার প্রতিষ্ঠান, যার সাংবিধানিক দায়িত্ব রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নির্বাচন আয়োজন নয়। কিন্তু সম্প্রতি সেনাপ্রধানের একাধিক বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে তিনি “শান্তিপূর্ণ নির্বাচন”, “স্থিতিশীলতা”, এবং “দ্রুত নির্বাচন প্রয়োজন” এজাতীয় কথা বারবার বলছেন। প্রশ্ন হলো, এ ধরনের রাজনৈতিক গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে কেন একজন সেনাপ্রধান কথা বলছেন? জনগণ কি তাকে এজন্য দায়িত্ব দিয়েছে? নাকি তিনি পরোক্ষভাবে একটি দল ও অন্য একটি দেশের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন?
