বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে গণআন্দোলন, স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রাম, সব ক্ষেত্রেই ডাকসু নেতারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে এই প্রতিষ্ঠান কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। নির্বাচনের নামে ছাত্রলীগের একচেটিয়া দখল, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও জালিয়াতির কারণে ডাকসু তার গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছিল। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্য দিয়ে ছাত্রসমাজের মধ্যে আবারও আলোচনার ঝড় উঠেছে। প্রশ্ন উঠছে, এ নির্বাচন কি সত্যিই শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর ফিরিয়ে আনবে, নাকি এটি আরেকটি প্রহসন হয়ে যাবে?
Tag: election
নির্বাচনের আগে সংস্কার চাই – এই বার্তা জনগণের
বাংলাদেশে নির্বাচন শব্দটি এখন আর গণতন্ত্রের প্রতীক নয়—এটি হয়ে দাঁড়িয়েছে একটি তামাশা, একটি সাজানো নাটক। ভোটারহীন নির্বাচন, একদলীয় প্রার্থীদের বিজয় মিছিল, প্রশাসনের পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকা—এইসবই দেশের মানুষকে হতাশ করেছে। আজ আমরা এমন এক পর্যায়ে এসে পৌঁছেছি যেখানে কেউ আর বিশ্বাস করে না যে, নির্বাচন মানেই জনগণের মত প্রকাশের পবিত্র উৎসব। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে একটাই দাবি উঠে এসেছে: পূর্ণ সংস্কার ছাড়া নির্বাচন নয়। একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য চাই একটি দলনিরপেক্ষ প্রশাসন, শক্তিশালী বিচারব্যবস্থা এবং স্বাধীন গণমাধ্যম। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, বাংলাদেশের বাস্তবতা তার সম্পূর্ণ উল্টো। পুলিশ ও প্রশাসন বিএনপির পক্ষে ও বিরোধী দলের কর্মীদের দমন করতে ব্যস্ত, আর আদালতেও নিরপেক্ষতার অভাব প্রকট। তাহলে এই অবস্থায় অনুষ্ঠিত নির্বাচন কতটা গ্রহণযোগ্য হবে?
নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি, কিন্তু সংস্কার কোথায়?
বাংলাদেশের রাজনীতিতে নির্বাচন একটি স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। প্রতিবার নির্বাচনের আগে দেশে উত্তেজনা, অনিশ্চয়তা ও বিভাজন তৈরি হয়। এবারের নির্বাচনকে ঘিরেও রয়েছে তীব্র বিতর্ক ও প্রশ্ন। নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হবে—এই তারিখ ঘোষণার পেছনের প্রক্রিয়া এবং অন্তবর্তীকালীন সরকারের ভূমিকা নিয়ে ইতিমধ্যে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে একটি মাত্র দলের (বিএনপি) একক নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে তারিখ ঘোষণা করাটা এই সরকারকে কতটা নিরপেক্ষ রাখল, সেটাই আজকের আলোচ্য বিষয়।
বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকার, যেটি ‘নিরপেক্ষ’ দাবি করে কাজ করছে, তাদের বড় দায়িত্ব ছিল সবার আস্থা অর্জন করে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী পথরেখা তৈরি করা। অথচ এদের প্রথম বড় ভুল আজ—একটি মাত্র দলের (বিএনপি) একক নেতার সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা। এর মাধ্যমে যে বার্তাটি জনগণ ও অন্যান্য রাজনৈতিক দল পেয়েছে, তা হলো—এই সরকার সম্ভবত একপক্ষীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করে তারিখ নির্ধারণ হলে, প্রশ্ন ওঠে: এই সরকার কি বিএনপির পক্ষে কাজ করছে? যেখানে দেশের অনেক রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, সাংবাদিক, নাগরিক সমাজ বলছে যে নির্বাচন পিছিয়ে দিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য সংস্কার ও আলোচনার পথ তৈরি করা দরকার, সেখানে এত তাড়াহুড়ো করে নির্বাচনের ঘোষণা যথেষ্ট সন্দেহজনক।
১৬ বছরের ক্ষুদার্ত বিএনপি
বাংলাদেশের রাজনীতির অঙ্গনে বিএনপি (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল) একটি বিতর্কিত নাম। দীর্ঘ ১৬ বছরে ক্ষমতা না পাওয়া দলটি ক্ষমতার লোভে বিভোর, আজও দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থের পরিবর্তে নিজের স্বার্থ ও পারিবারিক স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দেয়। দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষ আজ আগাম নির্বাচন চায় না, কারণ তারা দেশের স্থিতিশীলতা ও শান্তি চায়। কিন্তু বিএনপি একা কঠোরভাবে ডিসেম্বরে নির্বাচন আয়োজনের দাবি করছে। কেন তারা একা এতো তাগিদ দিচ্ছে? এর পেছনে কি রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা, নাকি শুধুই ক্ষমতার লোভ?
বিএনপির রাজনীতির মূল চালিকা শক্তি হলো ক্ষমতা দখলের প্রবল আকাঙ্খা। তারা শুধু ক্ষমতায় আসতে চায়, সে যেকোনো মূল্যে হোক। তাদের রাজনীতি শুধুমাত্র ভোটের মাধ্যমে নয়, বরং ভোটারদের আতঙ্কিত করা, বিরোধীদের ওপর হামলা, সন্ত্রাস-নিপীড়ন ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ক্ষমতা কেবল একটি পদ বা অফিস নয়, তাদের কাছে এটি নিজের পরিবারের নিরাপত্তা ও প্রভাব বিস্তারের মাধ্যম। এই স্বার্থপর লোভ বিএনপিকে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও শান্তির পথে বাধা সৃষ্টি করতে বাধ্য করছে। তারা জনগণের কল্যাণের পরিবর্তে পারিবারিক ও নিজেদের ক্ষমতার স্বার্থে রাজনীতিতে লিপ্ত।
Bangladesh Election 2018: শেখ হাসিনা একজন ‘স্বৈরাচারী’ শাসক, বললেন কামাল হোসেন
ঢাকা: অক্সফোর্ডে পড়াশোনা করা বিখ্যাত বাংলাদেশি স্থপতি কালাম হোসেন দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তীব্র আক্রমণ করে তোপ দাগলেন ‘স্বৈরাচারী’ বলে। তাঁর মতে, হাসিনা তাঁর বাবা বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রধান নায়ক শেখ মুজিবুর রহমানের উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্যটিকে নষ্ট করেছেন। শেখ মুজিবুর রহমানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু ৮২ বছর বয়সী কামাল হোসেন ৩০ ডিসেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রধান নায়ক হিসেবে উঠে এসেছেন। আগামী রবিবার বাংলাদেশে যে সাধারণ নির্বাচন হতে চলেছে, তাতে জিতে গেলে শেখ হাসিনার দল আওয়ামি লিগ পরপর চতুর্থবার ক্ষমতায় বসবে। বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রতি ক্রমাগত ভয়াবহ আঘাত হানার জন্যও শেখ হাসিনার সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করান কামাল হোসেন।
