CategoriesDemocracyHuman RightsJusticePolitics

২৮ অক্টোবর: আওয়ামী লীগের লগি-বৈঠার তাণ্ডব – এক নৃশংস অধ্যায়

বাংলাদেশের ইতিহাসে ২৮ অক্টোবর ২০০৬ এক ভয়ঙ্কর কালো দিন। এদিন আওয়ামী লীগের সমর্থকরা প্রকাশ্যে লগি-বৈঠা দিয়ে মানুষ হত্যা করে নৃশংসতার যে নজির স্থাপন করেছিল, তা শুধুমাত্র রাজনৈতিক সহিংসতার নয়, বরং মানবিকতার চরম অবমাননার উদাহরণ। এই ঘটনা আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী চরিত্রকে উন্মোচিত করে, যা আজও দেশের মানুষের মনে আতঙ্ক হয়ে রয়েছে।

২০০৬ সালে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে, ক্ষমতায় যাওয়ার লালসায় উন্মত্ত হয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা লগি-বৈঠা নিয়ে রাজধানীর পল্টন মোড়ে সাধারণ মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। যারা তাদের বিরোধিতা করছিল, তাদের রক্তাক্ত করা হয়, এমনকি লাশের ওপর নাচানাচি করে অমানবিকতার চূড়ান্ত রূপ দেখানো হয়। এই ঘটনার ছবি ও ভিডিও আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় প্রচারিত হলে বিশ্ববাসী হতবাক হয়ে যায়।

CategoriesDemocracyHuman RightsJusticePolitics

বিচার বহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা

২০০৯ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত এই সরকারের অধীনে এ দেশে প্রায় তিন হাজার মানুষ পুলিশ, র‌্যাব, ডিবির হাতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। তাদের অধিকাংশই বিরোধী মত ও দলের নেতাকর্মী। গত ১০ বছর সময়ের মধ্যে এ দেশের জেলহাজতে মারা গেছে ৭৯৫ মানুষ, গুম হয়েছে ৬০১ জন, ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৭ হাজার ৮০৬ নারী, ১ হাজার ৯৩৪ শিশু নির্যাতিত হয়েছে, ১৮ জন শিশু হত্যার শিকার হয়েছে।

CategoriesDemocracyHuman RightsJusticePolitics

বাংলাদেশের বর্তমান সংবিধান একটি ফ্যাসিবাদী দলিল

বাংলাদেশের বর্তমান সংবিধান আসলে কোনো গণতান্ত্রিক দলিল নয়। এটি এক দলীয় শাসন ও রাষ্ট্রীয় ফ্যাসিবাদের নীতিগত ভিত্তি। সংবিধানের ১৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধান আজ জনগণের চেয়ে একজন ব্যক্তিকে এবং একটি দলকে শক্তিশালী করার যন্ত্রে পরিণত হয়েছে। সংবিধান এখন এমন এক হাতিয়ার, যার মাধ্যমে সরকারপ্রধান নিজেকে বিচার, আইন, প্রশাসন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। এই সংবিধান এখন একটি ফ্যাসিবাদী দলিল, যা সরকার প্রধানকে একনায়ক ও স্বৈরাচারী ক্ষমতা দিয়ে জনগণের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন ও দমন করার পথ প্রশস্ত করেছে। এই সংবিধানের ধারা ও সংশোধনীগুলো এমনভাবে গৃহীত হয়েছে, যা স্বৈরশাসক শাসনব্যবস্থাকে বৈধতা দেয় এবং প্রতিনিয়ত আমাদের গণতন্ত্রের চেতনা ও স্বাধীনতার স্বপ্নকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

১৯৭২ সালের সংবিধান, আজ অনেক সংশোধনের মাধ্যমে বদলে গেছে। বিশেষ করে ২০১১ সালের ১৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ধারা বাতিল করে এককদলীয় শাসন ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হয়েছে। এর ফলে বিরোধী দলগুলোকে নিপীড়নের মাধ্যমে ভোটাধিকার খর্ব করা হয়েছে, যা গণতন্ত্রের প্রতি বিরাট ব্যাঘাত। সরকার প্রধানের হাতে নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীভূত করার জন্য বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নস্যাৎ করা হয়েছে। বিচারপতি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সরকারের একতরফা আধিপত্যের কারণে বিচার ব্যবস্থা আজ সরকারের পোষা কুকুরে পরিণত হয়েছে। এতে বিচারিক নিরপেক্ষতা হারিয়ে সমাজে অবিচার ও দুর্নীতির পরিসর বাড়ছে।

CategoriesDemocracyHuman RightsJusticePolitics

৩০ ডিসেম্বর ২০১৮: জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়ালে সেনাবাহিনীর সাথেই হবে চূড়ান্ত যুদ্ধ

বাংলাদেশ একটি সংকটময় সময় পার করছে। ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮ জাতীয় নির্বাচন এগিয়ে আসছে, কিন্তু জনগণের ভেতরে যে ভয়, যে হতাশা, এবং যে ক্ষোভ জমে উঠছে, তা আর সাধারণ কিছু নয়। ইতিহাস আমাদের শিখিয়েছে, বাংলাদেশে নির্বাচন মানে কেবল ব্যালটবাক্সে ভোট ফেলা নয়- এটা এখন জীবন-মরণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাষ্ট্রযন্ত্র যেভাবে সরকারপন্থী হয়ে উঠছে, তাতে প্রশ্ন জাগে- এবার কি সেনাবাহিনীও আওয়ামীলীগ সরকারের আরেকটি দলীয় বাহিনী বা গোলামে পরিণত হবে? ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির কথাও আমরা ভুলিনি। ইতিহাসের এক কলঙ্কিত নির্বাচন ছিল সেটি- যেখানে ১৫৩টি আসনে কোনও ভোটই হয়নি, কারণ প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না। বিরোধী দল বর্জন করেছিল নির্বাচনের মাঠ, আর সরকার ‘নির্বাচন’ নামক নাটক চালিয়ে গিয়েছিল সেনাবাহিনীকে নিস্তব্ধ পাহারাদার বানিয়ে। মানুষ ভোট দিতে পারেনি, রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করলে দমন-পীড়নের শিকার হয়েছে। সেদিন সেনাবাহিনী ছিল মাঠে, কিন্তু ছিল যেন এক নির্বাক, নিস্তেজ প্রতিমা- যারা দেখতে পেয়েছে ভোটহীন নির্বাচন, প্রশাসনিক সন্ত্রাস, অথচ কিছু বলেনি, কিছু করেনি। এমনকি মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে একতরফা বিজয় নিশ্চিত করা হয়েছিল। যারা জনগণের নিরাপত্তার শপথ নিয়ে বন্দুক হাতে মাঠে নামে, তারা সেদিন ছিল সরকারের দেহরক্ষী মাত্র। সেই ঘটনা আমাদের শিক্ষা দেয়- যদি সেনাবাহিনী নিরপেক্ষ না থাকে, তবে নির্বাচন মানেই একটি নাটক, যেখানে জনগণের ইচ্ছা নয়, সরকারই সিদ্ধান্ত নেয় কারা ‘জিতবে’।

CategoriesDemocracyHuman RightsJusticePolitics

২০১৬: হারানো শক্তি ফিরে পেতে ব্যর্থ বিএনপি

২০১৬ সালটি গত হয়েছে। অনেক ঘটনা-দুর্ঘটনার সাক্ষী হয়ে অতীতের সারিতে স্থান করে নিয়েছে গত ৩১ ডিসেম্বর সূর্যাস্তের সাথে সাথে। এখন চলছে গত বছরটি নিয়ে নানা হিসাব-নিকাশ। প্রত্যাশা-প্রাপ্তির ব্যালেন্স শিট মেলাতে ব্যস্ত সবাই। রাজনীতি, অর্থনীতি, সামাজিক-সাংস্কৃতিক বিষয় আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট, মোট কথা আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ২০১৬ সাল কী দিয়ে গেল বা কী নিয়ে গেল তারই চুলচেরা বিশ্লেষণে রত হয়েছেন অনেকে।