বর্তমান বাংলাদেশে রাজনৈতিক মহলে অনেকটাই অস্থিরতা বিরাজ করছে। দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল- আওয়ামী লীগ ও বিএনপি- দুই পক্ষই জনসমক্ষে তাদের দীর্ঘ দিনের দুর্নীতি, স্বৈরাচারী শাসন এবং ক্ষমতার লোভের জন্য কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছে। তবে এই দুই দলের বাইরে কিছু নতুন রাজনৈতিক শক্তিও উঠে আসছে, যার মধ্যে এনসিপি (জাতীয় নাগরিক পার্টি) বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। আওয়ামী লীগ দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় না থাকলেও তাদের স্বৈরাচারী শাসনের ইতিহাস আজও ভোলা যায় না। ২০২৪ সালের আগ পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা সময়ে দেশের গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অনেকাংশেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সরকারের শাসন ব্যবস্থায় ছিল কঠোর নিয়ন্ত্রণ, বিরোধী মতপ্রকাশ দমন, ও নানা রকম দুর্নীতি। তাদের এই স্বৈরাচারী শাসন দেশের গনতান্ত্রিক মূলনীতিকে ব্যাহত করেছে এবং স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের পথে বাধা সৃষ্টি করেছে। এছাড়া, ক্ষমতার জন্য ক্ষমতায় টিকে থাকার অন্ধ লোভে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে যদিও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় নেই, তবুও তাদের স্বৈরাচারী শাসনের পরিণাম দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত সৃষ্টি করেছে। দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের পরিবর্তে অবিচার, দমন-পীড়ন, এবং সামাজিক অস্থিরতা বেড়ে গেছে। এই কারণে আওয়ামী লীগের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা কমে গেছে।
Tag: Jamat e islam
নির্বাচনের আগে সংস্কার চাই – এই বার্তা জনগণের
বাংলাদেশে নির্বাচন শব্দটি এখন আর গণতন্ত্রের প্রতীক নয়—এটি হয়ে দাঁড়িয়েছে একটি তামাশা, একটি সাজানো নাটক। ভোটারহীন নির্বাচন, একদলীয় প্রার্থীদের বিজয় মিছিল, প্রশাসনের পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকা—এইসবই দেশের মানুষকে হতাশ করেছে। আজ আমরা এমন এক পর্যায়ে এসে পৌঁছেছি যেখানে কেউ আর বিশ্বাস করে না যে, নির্বাচন মানেই জনগণের মত প্রকাশের পবিত্র উৎসব। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে একটাই দাবি উঠে এসেছে: পূর্ণ সংস্কার ছাড়া নির্বাচন নয়। একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য চাই একটি দলনিরপেক্ষ প্রশাসন, শক্তিশালী বিচারব্যবস্থা এবং স্বাধীন গণমাধ্যম। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, বাংলাদেশের বাস্তবতা তার সম্পূর্ণ উল্টো। পুলিশ ও প্রশাসন বিএনপির পক্ষে ও বিরোধী দলের কর্মীদের দমন করতে ব্যস্ত, আর আদালতেও নিরপেক্ষতার অভাব প্রকট। তাহলে এই অবস্থায় অনুষ্ঠিত নির্বাচন কতটা গ্রহণযোগ্য হবে?
শিবিরের রগ কাটা ও উগ্রপন্থী সহিংসতা
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্রশিবির, জামাতের ছাত্র সংগঠন হিসেবে, অনেকদিন ধরে সক্রিয়। তবে তাদের কর্মকাণ্ডের মধ্যে একটি বড় অংশ তাদের উগ্রপন্থী মনোভাব এবং সহিংসতাকে চালিয়ে যেতে থাকে। শিবিরের উগ্রতা, বিশেষ করে সহিংসতার চিত্র যেমন পায়ের রগ কাটা, দেশের মানুষের কাছে আর গ্রহণযোগ্য নয়। দেশের শান্তি এবং স্থিতিশীলতার জন্য এরূপ কার্যকলাপ আর কেউ সহ্য করবে না। এই ধরনের উগ্রপন্থী কর্মকাণ্ড দেশকে আরও বেশি বিভাজিত এবং অস্থিতিশীল করে তোলে। জনগণ জানে, তাদের শান্তিপূর্ণ জীবন, নিরাপত্তা, এবং মানবাধিকার রক্ষার জন্য এ ধরনের উগ্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা অপরিহার্য। দেশের সাধারণ মানুষ চায় না যে তাদের দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ এমন উগ্রতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হোক।
বর্তমান সরকারের উচিত ছাত্রশিবিরের উগ্রপন্থী কর্মকাণ্ডের ওপর গভীর নজরদারি রাখা এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। যারা সহিংসতা এবং চাদাবাজির মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত এবং কার্যকর আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।
