CategoriesDemocracyHuman RightsJusticePolitics

‘সন্ত্রাসী’ সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ হলো ছাত্রলীগ

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে জুলাই অভ্যুত্থান স্থান করে নিয়েছে, যার অন্যতম একটি অর্জন হলো আজ ছাত্রলীগ নামক সন্ত্রাসী সংগঠনকে নিষিদ্ধ করা। প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এটি ছিল একটি যৌক্তিক এবং সাহসী সিদ্ধান্ত, যা দেশের শিক্ষা, রাজনীতি ও সামাজিক শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আমরা দেখেছি কিভাবে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী রেজিমে ছাত্রলীগ একটি ভয়ানক রূপ ধারণ করেছিল। তারা ভয়, ত্রাস, সন্ত্রাস, হত্যা, ধর্ষণ, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ক্যাম্পাস দখল, ছাত্র ও শিক্ষকদের ওপর নির্যাতনসহ নানাবিধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছিল। এমনকি আমাকেও হত্যা চেষ্টা করেছিল এমন কোনো অপরাধ নেই যেখানে তাদের সরাসরি বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ততা ছিল না।

ইতিহাস সাক্ষী, শহীদ নোমানী, আবুবকর, বিশ্বজিৎ, আবরার—এমন অসংখ্য নিরপরাধ ছাত্রকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে ছাত্রলীগ। সর্বশেষ, চব্বিশের বিপ্লবে শত-সহস্র ভাই-বোনকে পৈশাচিকভাবে রক্তাক্ত করেছে, চালিয়েছে গণহত্যা, যা বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি নিষ্ঠুরতম কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। নাসিমা, তরুয়া, ওয়াসীম, আবু সাঈদ, আলী রায়হান, মুগ্ধ, শান্ত—জুলাইয়ে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের হারানো আমাদের চোখের সামনেই ঘটে গেছে।

তবে শুধুমাত্র নিষিদ্ধকরণই যথেষ্ট নয়। আমরা দাবি করছি, যারা খুন, ধর্ষণ, গণহত্যা ও অন্যান্য অপরাধের সাথে জড়িত ছিল বা তাদের সমর্থন দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এই শাস্তির মাধ্যমেই জাতি পুনরায় সন্ত্রাসী সংগঠনের কবল থেকে মুক্তি পাবে এবং ভবিষ্যতে এমন অপরাধমুখী শক্তি যাতে দেশের রাজনীতিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে না পারে, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।

ছাত্রজনতা ও সরকারের যৌথ সচেতনতাই পারে দেশের শিক্ষাঙ্গনে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে। জুলাই অভ্যুত্থানের সাফল্য ধরে রাখতে আমাদের এই সচেতন দৃষ্টি এবং পদক্ষেপই জাতির একান্ত কাম্য।