বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতা ও চাঁদাবাজির একটি জঘন্য ও লজ্জাজনক নজির স্থাপন করলো যুবদলের সন্ত্রাসীরা। সম্প্রতি রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনেই নির্মমভাবে খুন হন এক নিরীহ ব্যবসায়ী—সোহাগ, যিনি শুধু মাত্র তাদের চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। এই নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড শুধুই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি একটি গভীর সামাজিক, রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলাজনিত ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ। দেশের মানুষ দিনের পর দিন এমন একটি বাস্তবতায় বসবাস করছে যেখানে ছাত্রদল, যুবদল অস্ত্রধারী চাঁদাবাজরা নির্ভয়ে ঘুরে বেড়ায়, প্রাণ নেয়—আর প্রশাসন থাকে নিরব দর্শক।
সোহাগ ছিলেন একজন সাধারণ ব্যবসায়ী, যিনি কষ্ট করে ঘামে ভেজা উপার্জন দিয়ে পরিবার চালাতেন। কিন্তু যুবদলের স্থানীয় ক্যাডাররা তার দোকান থেকে চাঁদা দাবি করত। এই সন্ত্রাসীরা জানে, রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় থাকলে তাদের কিছুই হবে না। একাধিকবার হুমকি দেওয়ার পর, শেষ পর্যন্ত সোহাগকে বেছে নেওয়া হলো ‘শিক্ষা’ দেওয়ার জন্য। প্রকাশ্যে, একটি সরকারি হাসপাতালের সামনে সন্ত্রাসীরা ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে হামলা চালায়, যেখানে সোহাগ নির্মমভাবে প্রাণ হারান। আশেপাশে থাকা সাধারণ মানুষজন ভয়ে এগিয়ে আসতে পারেননি, এবং পুলিশও যথারীতি “ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই…” নাটকীয়তা দিয়ে দায় সারে।
এই হত্যাকাণ্ডের সবচেয়ে ভয়ংকর দিক হলো—যুবদলের মতো একটি দলের মধ্যে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি কতটা গভীরভাবে প্রোথিত হয়ে গেছে। এটা কোনো গোপন তথ্য নয় যে, বিএনপির এই অঙ্গসংগঠনটি বহুদিন ধরে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন ব্যবসায়ী, ঠিকাদার, এমনকি সরকারি কর্মচারীদের কাছ থেকেও নিয়মিত চাঁদা তোলে। তারা দলীয় ‘পদ’ ব্যবহার করে নিজেদের জন্য ‘অবৈধ টোলবুথ’ বানিয়েছে। এই পরিস্থিতি শুধু ব্যবসার জন্য ভয়ংকর না, বরং দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপরও এক ভয়াবহ কালো ছায়া ফেলছে। গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের অধিকার ও নিরাপত্তার প্রতীক হওয়ার কথা, কিন্তু এখানে তারাই হয়ে উঠছে ভয় ও মৃত্যুপুরীর কারিগর।
এই ধরনের ঘটনায় রাষ্ট্রকে আর নীরব থাকার সুযোগ নেই। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবশ্যই এখনি কঠোর অবস্থান নিতে হবে। শুধু খুনিদের নয়—যারা তাদের মদদ দেয়, যারা রাজনৈতিক পরিচয়ে অপরাধ ঢাকে, যারা মামলা গায়েব করে, তাদের সবাইকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। যুবদলকে এই মুহূর্তে সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ করা এবং এই ঘটনার পূর্ণ তদন্ত করে জাতীয় পর্যায়ে বিচার সম্পন্ন করা প্রয়োজন। এটি কেবল সোহাগের প্রতি সম্মান নয়, এটি ভবিষ্যৎ সোহাগদের বাঁচানোর জন্যও জরুরি।বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংস্কৃতির এ ধরনের সহিংস ও চাঁদাবাজ চক্রকে যদি এখনই দমন না করা হয়, তাহলে একদিন হয়তো পুরো জাতি একটি রাজনৈতিক সন্ত্রাসী রাষ্ট্রে পরিণত হবে, যেখানে মতের ভিন্নতা মানেই মৃত্যু, এবং বিরোধিতা মানেই গুম কিংবা খুন। জেগে ওঠো বাংলাদেশ, রুখে দাঁড়াও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে। সোহাগ হত্যার বিচার চাই— দৃষ্টান্তমূলক এবং সর্বোচ্চ শাস্তির মাধ্যমে।
