CategoriesDemocracyHuman RightsJusticePolitics

স্বৈরাচারের দোসর সাকিব আল হাসান

বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র সাকিব আল হাসান। মাঠে তিনি বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার, কোটি মানুষের ভালোবাসার নাম। কিন্তু মাঠের বাইরে সাকিবকে ঘিরে এক তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে -তিনি কি কেবল একজন ক্রীড়াবিদ, নাকি একজন প্রভাবশালী নাগরিক যার নীরবতা কিংবা অবস্থান রাজনৈতিক স্বৈরাচারকে বৈধতা দিচ্ছে? এ প্রশ্ন এখন জনমানসে আলোচিত, এবং অনেকে তাকে আখ্যা দিচ্ছেন “স্বৈরাচারের দোসর” হিসেবে। বাংলাদেশে যখনই গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়ে, সাধারণ মানুষ আশা করে সেলিব্রেটি, ক্রীড়াবিদ, শিল্পীরা তাদের কণ্ঠ তুলবেন। কিন্তু সাকিবের ক্ষেত্রে বারবার দেখা গেছে, তিনি এসব প্রশ্নে নীরব থেকেছেন, বরং তিনি আওয়ামীলীগের এমপি হয়েছিলেন এবং এমন অবস্থান নিয়েছিলেন যা ক্ষমতাসীন স্বৈরশাসকদের পক্ষে গেছে।

সাকিব শুধু একজন ক্রিকেটার নন, তিনি কোটি তরুণের অনুপ্রেরণা। তার প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি পদক্ষেপ সমাজে গভীর প্রভাব ফেলে। তাই যখন তিনি স্বৈরাচারী সরকারের সাথে হাত মেলান, তাদের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন, তখন সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয়। মনে হয়, সাকিব যেন একপ্রকার নীরবভাবে জনগণের উপর চালানো দমন-পীড়নের বৈধতা দিচ্ছেন। যে মানুষ মাঠে দেশের সম্মান বহন করেছেন, তিনি যদি জনগণের অধিকারহরণের বিরুদ্ধে কথা না বলেন, তবে সেটি আসলে স্বৈরশাসকের পক্ষেই যায়। অনেকে বলেন, সাকিবকে রাজনীতি থেকে দূরে থাকতে দেওয়া উচিত। তিনি কেবল একজন খেলোয়াড়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, তিনি নিজেই রাজনীতির সাথে যুক্ত হয়েছিলেন, কখনো প্রত্যক্ষভাবে, কখনো পরোক্ষভাবে। তখন তার দায়ও বেড়ে যায়। বাংলাদেশের জনগণ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি রাজনৈতিক সচেতন। তারা জানে, কোন সেলিব্রেটি স্বৈরাচারের সাথে মিশে জনগণকে ধোঁকা দিয়েছিলেন। তাই স্বাভাবিকভাবেই সাকিবের এই নীরবতা এবং ক্ষমতার কাছে ঘনিষ্ঠতা মানুষের মধ্যে বিরক্তি ও ক্ষোভ তৈরি করেছিল। এবং পরিশেষে তাদের পতনও হল।