CategoriesDemocracyHuman RightsJusticePolitics

নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী ছাত্রলীগের হামলা: জনগণের নিরাপত্তা কোথায়?

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর সন্ত্রাস দমনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তারা ক্ষমতায় এসেই দেশের জনগণের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে ছাত্রলীগকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। তবে নিষিদ্ধ ঘোষণার পরও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ থামেনি। বরং দেশজুড়ে সাধারণ ছাত্র, নাগরিক এবং সমন্বয়দের ওপর হামলার ঘটনা বাড়ছে। প্রশ্ন হচ্ছে—নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠন কীভাবে এমন সন্ত্রাসী হামলা চালাতে পারে? এ দায় কি শুধুই ছাত্রলীগের নাকি সরকারের অদক্ষতা ও প্রশাসনের দুর্বলতার প্রতিফলন?

বর্তমানে সন্ত্রাসী ছাত্রলীগের মূল লক্ষ্য হলো বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক, সরকারের উপদেষ্টা, ছাত্রজনতা এবং স্বাধীন মত প্রকাশকারী একটিভিস্ট, জার্নালিস্ট, ব্লগারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, গুম, খুন, হত্যা করে তাদের দমন করা। তারা বাংলাদেশে ফাসিস্ট স্বৈরাচার হাসিনার পুর্নবাসন ও নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে বেপরোয়া হামলা চালাচ্ছে। ফলে তাদের সন্তাসী কর্মকান্ড দমনে বর্তমান ইউনুস সরকারের ব্যর্থতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

নিষিদ্ধ ঘোষণার পরও হামলার কারণ কী? ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ হলেও বর্তমান সরকারে ফ্যাসিস্ট হাসিনা স্বৈরাচারের দোসরদের নীরব সমর্থন এখনও রয়েছে। ফলে ছাত্রলীগ নিজেদের দাপট ধরে রাখছে। পুলিশ, প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোতেও এখনো ফ্যাসিস্ট হাসিনার দোসররা থাকার কারনে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ছাত্রলীগ কর্মীদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও ব্যবস্থা নিতে কার্যত ব্যার্থ হচ্ছে। ছাত্রলীগকে শুধু নিষিদ্ধ ঘোষণা করাই যথেষ্ট নয়, এটি কঠোরভাবে কার্যকর করে প্রমান করতে হবে। ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত সকল অপরাধীদের দ্রুত আইনের আয়তায় এনে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

এটি স্পষ্ট যে, ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হলে সরকারকে সঠিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সন্ত্রাসীরা যতদিন পর্যন্ত আইনের আওতায় আসবে না, ততদিন দেশের শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। ছাত্রলীগ যদি বর্তমানে সরকারে আওয়ামীলীগের দালাল উপদেষ্টা ও স্বৈরাচারের দোসরদের মদদে দেশে অরাজকতা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করতে থাকে, তবে দেশের গণতন্ত্র এবং আইনের শাসন সম্পর্কে প্রশ্ন উঠবে।

এখন সময় এসেছে, সরকার ও প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন তোলা— কেন তারা ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না? কেন তারা ছাত্রলীগকে সাধারণ মানুষের উপর প্রতিদিন সন্ত্রাসী আক্রমণ করতে দিচ্ছে? কেন তাদের প্রতি সরকার নিরব? এই অবস্থা চলতে থাকলে দেশে প্রকৃত আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে না, এবং মানবাধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার, গনতন্ত্র রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।