CategoriesDemocracyHuman RightsJusticePolitics

দেশে কেন নারী নিরাপদ নয়: জবাব দাও সরকার!

বাংলাদেশের মুরাদনগরে ঘটে গেলো একটি নির্মম ধর্ষণের ঘটনা আবারো আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো—এই রাষ্ট্রে নারীর জন্য নিরাপত্তা বলতে কিছু নেই। যখন একটি মেয়ে ধর্ষিত হয়, তার শরীর ছিন্নভিন্ন করে পাশবিকভাবে তাকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়, তখন শুধু একটি ধর্ষক দায়ী থাকে না—দায়ী থাকে রাষ্ট্র, দায়ী থাকে সেই সরকার যারা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। এই অপরাধটি শুধু একজন অপরাধীর কাজ নয়—এটি আমাদের সমাজের অব্যবস্থা, রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় বেড়ে ওঠা সন্ত্রাস, এবং সেই রাষ্ট্রীয় মেশিনারির নিস্পৃহতা ও দুর্বলতার এক কালো প্রতিচ্ছবি।

একটি মেয়ে যখন ধর্ষণের শিকার হয়, তখন তার জীবন শেষ হয়ে যায়—কিন্তু রাষ্ট্র তার জন্য কী করে? শুধু ফাইল টানাটানি, মামলা গুম, আর যেনতেন তদন্ত? এই রাষ্ট্র যদি প্রতিবার নারীর সম্মানের সুরক্ষায় ব্যর্থ হয়, তবে সে রাষ্ট্রের নৈতিক ভিত্তি প্রশ্নবিদ্ধ হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আর নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করলে চলবে না। তাদের সাহসিকতা, নিরপেক্ষতা এবং দক্ষতা আজ পরীক্ষার মুখে। যারা এই দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায়, পুলিশের ওপর জনসাধারণের আস্থা একেবারেই ধ্বংস হয়ে যাবে। আজকে ধর্ষকেরা জানে—এই দেশে তাদের বিচার ঠিকঠাক হয়না, বা হলেও সেটা হবে দীর্ঘসূত্রতায় গলা টিপে মেরে ফেলার মতো। এ কারণেই একের পর এক ধর্ষণ ঘটে, ধর্ষণের পর হত্যা ঘটে। মুরাদনগরের ঘটনাও তার ব্যতিক্রম নয়।

বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থায় দীর্ঘসূত্রতা, রাজনৈতিক প্রভাব এবং দুর্নীতির কারণে অপরাধীরা আশ্বস্ত থাকে—তাদের কিছুই হবে না। এই সংস্কৃতি বদলাতে হবে। ধর্ষণের মতো অপরাধের জন্য ফাস্ট ট্র্যাক আদালত, কঠোর শাস্তি, এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এটি কেবল আইন-শৃঙ্খলার বিষয় নয়—এটি একটি রাজনৈতিক নৈতিকতা ও রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকারের প্রশ্ন। অন্তবর্তীকালীন সরকার প্রধান উপদেষ্টা ও তার প্রতিটি উপদেষ্টা সদস্যের কাছে প্রশ্ন—তারা কি নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ? যদি হন, তবে কেন আজ পর্যন্ত ধর্ষণের শাস্তি নিশ্চিত করার বাস্তব কোনও দৃশ্যমান পরিবর্তন হয়নি? সমাধানের পথ কী হতে পারে?

ধর্ষণের ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে আইন সংশোধন এবং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে।স্থানীয় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা প্রমাণিত হলে দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ধর্ষণের ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে নারী, শিশু ও মানবাধিকার কমিশনের হস্তক্ষেপ বাধ্যতামূলক করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের দ্বারা পরিচালিত যেকোনো অপরাধকে কঠোরভাবে দমন করতে হবে—তাদের পরিচয় দেখে নয়, অপরাধ দেখে বিচার করতে হবে। মুরাদনগরের ধর্ষণ একা কোনো একটি এলাকার ঘটনা নয়—এটি বাংলাদেশের প্রতিটি নারীর নিরাপত্তা হুমকিতে থাকার প্রমাণ। এটি রাষ্ট্রের ব্যর্থতার এক নির্মম দলিল। সময় এসেছে—শুধু সমালোচনা নয়, জনচাপ সৃষ্টি করে বিচার আদায়ের। রাষ্ট্র যদি ব্যর্থ হয়, তবে জনগণকে আওয়াজ তুলতে হবে—নারী নির্যাতনের বিচার চাই, আর নয়!