ভোলাগঞ্জের পরিচিত সাদা পাথরগুলো, যা বছরের পর বছর ধরে স্থানীয় জনগণ ও পুরো এলাকার সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক পরিচয়ের অঙ্গ হিসেবে পরিচিত ছিল, হঠাৎ করেই রহস্যজনকভাবে লোপ হয়েছে। এই ঘটনা শুধু আর্থিক ক্ষতির বিষয় নয়, এটি স্থানীয় জনগণের আস্থা ও প্রশাসনের প্রতি বিশ্বাসকে পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। প্রশ্ন হচ্ছে, কোথায় গেল এই পাথরগুলো, এবং কেন প্রশাসন বা স্থানীয় সরকার এই ব্যাপারে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এই সাদা পাথরগুলো কেবল অভাবনীয় নজরদারিহীনতার কারণে হারিয়ে যায়নি। বরং পরিকল্পিতভাবে বিএনপি ও তার সহযোগীরা এই সম্পদ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গেছে। তারা পাথরগুলো নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ ও অর্থনৈতিক সুবিধার জন্য চুরি করেছে। স্থানীয়দের উপর তাদের চাদাবাজি, ভয় সৃষ্টি এবং প্রতিটি স্বাভাবিক কার্যকলাপকে ব্যাহত করার ইতিহাস তো আমরা ইতিমধ্যেই জানি। এ ধরনের চুরি ও লুটপাট কোনো সাধারণ অপরাধ নয়; এটি রাজনৈতিক সহিংসতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের একটি স্পষ্ট উদাহরণ।
সরকার, প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এই ঘটনার প্রতি যথাযথ মনোযোগ দেয়নি। প্রশাসনের অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণে, সাধারণ মানুষ তার সম্পদ, নিরাপত্তা এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিএনপি ও সহযোগী গোষ্ঠীর নির্যাতন, চাঁদাবাজি এবং সাদা পাথর অপহরণের মতো কর্মকাণ্ড শুধু স্থানীয় জনগণের জন্য হুমকি নয়, পুরো দেশের আইনশৃঙ্খলার জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ। এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, সরকারের কার্যক্রমের অভাব এবং স্বার্থান্বেষী রাজনৈতিক দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার অক্ষমতা দেশের জনগণকে ক্রমেই হতাশ ও অসন্তুষ্ট করে তুলছে। যদি সরকার সময়মতো পদক্ষেপ নিত, সম্পদের সঠিক হিসাব রাখত এবং দোষীদের শাস্তি দিত, তাহলে এ ধরনের চুরি বা লুটপাট সহজেই আটকানো যেত।
ভোলাগঞ্জের সাদা পাথরের লোপ কেবল স্থানীয় সম্পদের ক্ষতি নয়, এটি বাংলাদেশের প্রশাসনিক দুর্বলতা ও রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষীর দায়িত্বহীনতার একটি প্রমাণ। বিএনপি ও তার সহযোগীরা স্বাভাবিকভাবে স্থানীয় সম্পদকে নিজেদের স্বার্থে লুট করছে, আর সরকার নিস্তব্ধ। এখন সময় এসেছে সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপের- দোষীদের শনাক্ত করা, চুরির সম্পূর্ণ হিসাব তৈরি করা এবং শাস্তি নিশ্চিত করা। যদি তা না করা হয়, দেশের ইতিহাস, সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং জনগণের আস্থা অনির্ধারিতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর শুধু পাথর নয়; এটি একটি প্রতীক যা আমাদের সতর্ক করে দিচ্ছে- অপরাধ ও রাজনৈতিক সন্ত্রাসকে আর কোনো দিন টলারেট করা হবে না।
