CategoriesDemocracyHuman RightsJusticePolitics

শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও নিরপেক্ষ সরকারের দাবি নিয়ে প্রবাসীদের মিটিং

আজ গুগল মিটে বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদের আয়োজনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মিটিং সম্পন্ন হয়েছে। এতে বাংলাদেশ গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর (ভিপি নুর) অংশগ্রহণ করেন।

মিটিংয়ে বাংলাদেশের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আয়োজন এবং স্বৈরাচারী মাফিয়া শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবিতে বিশদ আলোচনা হয়। প্রবাসে থেকেও দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সচেতন নাগরিকদের ভূমিকা এবং করণীয় বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।

CategoriesDemocracyHuman RightsJusticePolitics

২৮ অক্টোবর: আওয়ামী লীগের লগি-বৈঠার তাণ্ডব – এক নৃশংস অধ্যায়

বাংলাদেশের ইতিহাসে ২৮ অক্টোবর ২০০৬ এক ভয়ঙ্কর কালো দিন। এদিন আওয়ামী লীগের সমর্থকরা প্রকাশ্যে লগি-বৈঠা দিয়ে মানুষ হত্যা করে নৃশংসতার যে নজির স্থাপন করেছিল, তা শুধুমাত্র রাজনৈতিক সহিংসতার নয়, বরং মানবিকতার চরম অবমাননার উদাহরণ। এই ঘটনা আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী চরিত্রকে উন্মোচিত করে, যা আজও দেশের মানুষের মনে আতঙ্ক হয়ে রয়েছে।

২০০৬ সালে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে, ক্ষমতায় যাওয়ার লালসায় উন্মত্ত হয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা লগি-বৈঠা নিয়ে রাজধানীর পল্টন মোড়ে সাধারণ মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। যারা তাদের বিরোধিতা করছিল, তাদের রক্তাক্ত করা হয়, এমনকি লাশের ওপর নাচানাচি করে অমানবিকতার চূড়ান্ত রূপ দেখানো হয়। এই ঘটনার ছবি ও ভিডিও আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় প্রচারিত হলে বিশ্ববাসী হতবাক হয়ে যায়।

CategoriesDemocracyHuman RightsJusticePolitics

বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনী: সুরক্ষার নামে সন্ত্রাস

বাংলাদেশের সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব এবং ডিজিএফআই আজ দেশের জনগণের সবচেয়ে বড় শত্রু। তারা জনগণের রক্ষক না হয়ে সরকারের স্বৈরাচারী শাসনের এক নিষ্ঠুর হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে। এই বাহিনী গুলোকে যদি আজকে দেশের নিরাপত্তাবাহিনী বলে মনে করা হয়, তাহলে সেটি একটি বড় ভুল হবে। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে তারা সরাসরি শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী ক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়তা করেছে, যা দেশের গণতন্ত্রকে চরমভাবে অবজ্ঞা এবং অবহেলা করেছে। নির্বাচনী প্রতারণা, ভোটারদের উপর অত্যাচার, বিরোধীদের বাধা- এসব কর্মকাণ্ডে এই বাহিনী ছিল মূল অস্ত্র। ফলে জনগণের ভোটাধিকার সঠিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেনি, গণতন্ত্রের মৌলিক শর্তাবলী পুরোপুরি উপেক্ষিত হয়েছে। এই কারণে আজকের বাংলাদেশে মানুষ ভোটকেন্দ্রে যায় না, কারণ তারা জানে তাদের ভোট ডাকাতি হয়ে যায় বা তুচ্ছ করা হয়। এই সিস্টেম একেবারেই মানুষের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার লঙ্ঘন করে।

সরকারের বিরোধীদের উপর সেনাবাহিনী, র‍্যাব, ডিজিএফআই ও পুলিশের অব্যাহত নির্যাতন একটি নিত্যদিনের বাস্তবতা। তাদের হাতে রাজনৈতিক বিরোধীরা হয়রানি, গুম, হত্যা ও মিথ্যা মামলা দিয়ে দমন করা হচ্ছে। পুলিশ যা হওয়া উচিত ছিল জনগণের সেবক, আজ তারা সরকারের স্বৈরাচারী শক্তির দাস হয়ে পড়েছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে নিরীহ মানুষকে গ্রেফতার, নির্যাতন, জিম্মি করা, তাদের পরিবারের ওপর অত্যাচার চালানো এবং বিচার ব্যবস্থাকে প্রতিহত করা সরকারের এক পরিকল্পিত নীতি। সাধারণ মানুষের কাছে পুলিশ বাহিনী এখন আতঙ্কের কারণ, যেখানে কোনো ধরনের মতপ্রকাশ নিরাপদ নয়। এর ফলে মানুষের মনে ভয় ও অনাস্থা বিরাজ করছে, যা একটি স্বাধীন গণতান্ত্রিক দেশের জন্য বড় বিপদ।

CategoriesDemocracyHuman RightsJusticePolitics

ওরা প্রধানমন্ত্রীর লোক: আল-জাজিরার প্রতিবেদন

আজ বাংলাদেশের রাজনীতিতে যখন সুশাসন ও জবাবদিহিতা চরম সংকটে, তখন কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা প্রকাশ করল একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন- “All the Prime Minister’s Men”। এই রিপোর্টে বাংলাদেশের বর্তমান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ এবং তার ভাইদের নানা অপরাধ, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের চিত্র উঠে এসেছে। রাষ্ট্রযন্ত্র কিভাবে একটি সন্ত্রাসী মাফিয়া পরিবারের হাতের খেলনায় পরিণত হয়, তার নির্মম বাস্তবচিত্র এই প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে। এবং ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার হাসিনার প্রত্যক্ষ প্রশ্রয়েই এসব অনিয়ম ও অপরাধ ঘটেছে।

সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ ও তার পরিবারকে কেবল অপরাধী পরিবার বলা যাবে না। এরা একটি সন্ত্রাসী মাফিয়া পরিবার, যাদের রাজনৈতিক আশীর্বাদ এবং সামরিক ক্ষমতার ছত্রছায়ায় বেড়ে ওঠা হয়েছে। এই পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে রয়েছে খুন, অস্ত্র ব্যবসা, জালিয়াতি, বিদেশে পলায়ন, এবং ভুয়া পরিচয়পত্র বানিয়ে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করার মতো অপরাধের তালিকা। তাদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ কোনো একক ঘটনা নয়; বরং এটি ছিল একটি পরিকল্পিত, সংগঠিত এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্য থেকেই পরিচালিত অপরাধ চক্র।

CategoriesDemocracyHuman RightsJusticePolitics

বিচার বহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা

২০০৯ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত এই সরকারের অধীনে এ দেশে প্রায় তিন হাজার মানুষ পুলিশ, র‌্যাব, ডিবির হাতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। তাদের অধিকাংশই বিরোধী মত ও দলের নেতাকর্মী। গত ১০ বছর সময়ের মধ্যে এ দেশের জেলহাজতে মারা গেছে ৭৯৫ মানুষ, গুম হয়েছে ৬০১ জন, ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৭ হাজার ৮০৬ নারী, ১ হাজার ৯৩৪ শিশু নির্যাতিত হয়েছে, ১৮ জন শিশু হত্যার শিকার হয়েছে।