CategoriesDemocracyHuman RightsJusticePolitics

ওরা প্রধানমন্ত্রীর লোক: আল-জাজিরার প্রতিবেদন

আজ বাংলাদেশের রাজনীতিতে যখন সুশাসন ও জবাবদিহিতা চরম সংকটে, তখন কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা প্রকাশ করল একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন- “All the Prime Minister’s Men”। এই রিপোর্টে বাংলাদেশের বর্তমান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ এবং তার ভাইদের নানা অপরাধ, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের চিত্র উঠে এসেছে। রাষ্ট্রযন্ত্র কিভাবে একটি সন্ত্রাসী মাফিয়া পরিবারের হাতের খেলনায় পরিণত হয়, তার নির্মম বাস্তবচিত্র এই প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে। এবং ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার হাসিনার প্রত্যক্ষ প্রশ্রয়েই এসব অনিয়ম ও অপরাধ ঘটেছে।

সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ ও তার পরিবারকে কেবল অপরাধী পরিবার বলা যাবে না। এরা একটি সন্ত্রাসী মাফিয়া পরিবার, যাদের রাজনৈতিক আশীর্বাদ এবং সামরিক ক্ষমতার ছত্রছায়ায় বেড়ে ওঠা হয়েছে। এই পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে রয়েছে খুন, অস্ত্র ব্যবসা, জালিয়াতি, বিদেশে পলায়ন, এবং ভুয়া পরিচয়পত্র বানিয়ে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করার মতো অপরাধের তালিকা। তাদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ কোনো একক ঘটনা নয়; বরং এটি ছিল একটি পরিকল্পিত, সংগঠিত এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্য থেকেই পরিচালিত অপরাধ চক্র।

CategoriesDemocracyHuman RightsJusticePolitics

বিচার বহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা

২০০৯ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত এই সরকারের অধীনে এ দেশে প্রায় তিন হাজার মানুষ পুলিশ, র‌্যাব, ডিবির হাতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। তাদের অধিকাংশই বিরোধী মত ও দলের নেতাকর্মী। গত ১০ বছর সময়ের মধ্যে এ দেশের জেলহাজতে মারা গেছে ৭৯৫ মানুষ, গুম হয়েছে ৬০১ জন, ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৭ হাজার ৮০৬ নারী, ১ হাজার ৯৩৪ শিশু নির্যাতিত হয়েছে, ১৮ জন শিশু হত্যার শিকার হয়েছে।

CategoriesDemocracyHuman RightsJusticePolitics

৩০ লক্ষ শহীদের গল্প: মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতারণা

বছরের পর বছর ধরে আমাদের বলা হয়েছে যে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লক্ষ মানুষ শহীদ হয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় বর্ণনাটি যেন পবিত্র ধর্মগ্রন্থের মতো -প্রশ্ন করা যাবে না, সন্দেহ করা যাবে না, বিশ্লেষণ করা যাবে না। সবচেয়ে বেশি চর্চিত ও অমোঘ ঘোষণাটি হলো: “৩০ লক্ষ শহীদ।” এই সংখ্যাটি এমনভাবে জাতির মস্তিষ্কে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে যেন এর চেয়ে কম বললে আপনি অমানুষ, রাজাকার কিংবা পাকিস্তানি দালাল। অথচ প্রশ্ন হলো, এই ৩০ লাখের হিসাব কে দিয়েছে? কোথায় সেই মৃতদেহ, গণকবর, তালিকা, বা বৈজ্ঞানিক তথ্য? ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের শেষে দেশে ফিরে হঠাৎ করেই বলেন, “৩০ লাখ শহীদ হয়েছেন।” কিন্তু তিনি এই সংখ্যা কীভাবে পেলেন, তার কোনও গবেষণা ছিল না, তদন্ত ছিল না, এমনকি কোন সেনা বা আন্তর্জাতিক সংস্থা এই সংখ্যা নিশ্চিত করেনি। অর্থাৎ এটি ছিল একটি রাজনৈতিক কৌশল- বিশ্বকে দেখানোর জন্য যে পাকিস্তান কত বড় গণহত্যা চালিয়েছে, এবং ভারতের সহায়তা কতটা “ন্যায়সঙ্গত” ছিল।

এই ৩০ লাখ শহীদের সংখ্যা রাষ্ট্রীয় প্রচারণা ও রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত হয়েছে। শহীদের প্রকৃত নাম, ঠিকানা, বয়স, পরিচয় আজও জানা যায়নি। এমনকি আজ পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ শহীদ তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে কিছু আংশিক তথ্য আছে বটে, কিন্তু সেটি ৩০ লাখ নয়, বরং কয়েক হাজারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তাহলে এই ‘তথ্যহীন গণকবর’ এবং ‘নামহীন শহীদ’দের গল্প কেন চালু রাখা হলো? কারণ এটা ছিল আবেগ দিয়ে জাতিকে বোকা মানানোর কৌশল। যখন একটি রাষ্ট্র নবীন, তখন সেটিকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে হয় একটি গৌরবময় অতীত দিয়ে। তাই যুদ্ধকে অতিরঞ্জিত করে দেখানো হলো। আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক সুবিধা পাওয়া ও ভারতের সহযোগিতা জাহির করার জন্য যুদ্ধের ভয়াবহতাকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে বলা হলো। ৩০ লক্ষ শহীদের গল্পে ভারতকে নায়ক বানানো গেল, আর শেখ মুজিবকে হয়ে উঠতে দিলাম তথাকথিত “জাতির পিতা”। ইতিহাস নয়, এটি ছিল একটি দক্ষ রাষ্ট্রীয় ইতিহাস বিকৃতি ও মিথ্যাচার।

CategoriesDemocracyHuman RightsJusticePolitics

বাংলাদেশের বর্তমান সংবিধান একটি ফ্যাসিবাদী দলিল

বাংলাদেশের বর্তমান সংবিধান আসলে কোনো গণতান্ত্রিক দলিল নয়। এটি এক দলীয় শাসন ও রাষ্ট্রীয় ফ্যাসিবাদের নীতিগত ভিত্তি। সংবিধানের ১৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধান আজ জনগণের চেয়ে একজন ব্যক্তিকে এবং একটি দলকে শক্তিশালী করার যন্ত্রে পরিণত হয়েছে। সংবিধান এখন এমন এক হাতিয়ার, যার মাধ্যমে সরকারপ্রধান নিজেকে বিচার, আইন, প্রশাসন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। এই সংবিধান এখন একটি ফ্যাসিবাদী দলিল, যা সরকার প্রধানকে একনায়ক ও স্বৈরাচারী ক্ষমতা দিয়ে জনগণের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন ও দমন করার পথ প্রশস্ত করেছে। এই সংবিধানের ধারা ও সংশোধনীগুলো এমনভাবে গৃহীত হয়েছে, যা স্বৈরশাসক শাসনব্যবস্থাকে বৈধতা দেয় এবং প্রতিনিয়ত আমাদের গণতন্ত্রের চেতনা ও স্বাধীনতার স্বপ্নকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

১৯৭২ সালের সংবিধান, আজ অনেক সংশোধনের মাধ্যমে বদলে গেছে। বিশেষ করে ২০১১ সালের ১৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ধারা বাতিল করে এককদলীয় শাসন ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হয়েছে। এর ফলে বিরোধী দলগুলোকে নিপীড়নের মাধ্যমে ভোটাধিকার খর্ব করা হয়েছে, যা গণতন্ত্রের প্রতি বিরাট ব্যাঘাত। সরকার প্রধানের হাতে নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীভূত করার জন্য বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নস্যাৎ করা হয়েছে। বিচারপতি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সরকারের একতরফা আধিপত্যের কারণে বিচার ব্যবস্থা আজ সরকারের পোষা কুকুরে পরিণত হয়েছে। এতে বিচারিক নিরপেক্ষতা হারিয়ে সমাজে অবিচার ও দুর্নীতির পরিসর বাড়ছে।

CategoriesDemocracyHuman RightsJusticePolitics

অভিজিৎ রায়ের হত্যাকাণ্ড: জঙ্গিবাদ বনাম বাকস্বাধীনতা

২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় নির্মমভাবে খুন হন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বিজ্ঞানমনস্ক লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায়। এই ঘটনা গোটা বাংলাদেশের বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছিল। কিন্তু প্রায় চার বছর হলেও প্রশ্ন থেকে যায়—এই হত্যাকাণ্ডের বিচার কি সুষ্ঠুভাবে হচ্ছে?

ইসলাম, যার মূল শিক্ষাই সহনশীলতা, মানবতা ও ন্যায়বিচার, কীভাবে তার নাম ও প্রতিপত্তি ব্যবহার করে কিছু উগ্রপন্থী নৃশংস সন্ত্রাস জন্ম দিতে পারে? আজকের পৃথিবীতে জঙ্গিবাদী গোষ্ঠী যেমন আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (ABT), হিজবুত তাহেরি, জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলাম, নব্য জেএমবি, আইএস ও অন্যান্য মৌলবাদী সংগঠনরা ধর্মকে পশ্চাৎ রেখে বর্বরতা ছড়িয়ে দিয়েছে। কেন এরা “ইসলামের নামে” সন্ত্রাস করে, এবং কিভাবে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা যায়:

অভিজিৎ রায় ছিলেন যুক্তিবাদ, মানবাধিকার ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে লেখালেখির জন্য পরিচিত। ফলে স্পষ্টতই তাঁর হত্যাকাণ্ড ছিল মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। শুরু থেকেই এ মামলার তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—প্রাথমিক পর্যায়ে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা, তথ্য উপস্থাপনে ধীরগতি এবং সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রমাণ না হাজির করতে পারার ব্যর্থতা ছিল চোখে পড়ার মতো। অভিজিৎ রায়ের হত্যাকাণ্ডের পর বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলেও, চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে আজ প্রায় চার বছর পরে। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে, শুধু ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারই নয়, দেশের জনগণ এবং বিশেষ করে ব্লগার, মানবাধিকার কর্মী ও সাংবাদিকরা অসন্তুষ্ট। এটি বিচারব্যবস্থার গতি এবং কার্যকারিতার প্রতি বড় একটি প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে। কেন এত দীর্ঘ সময় লাগে একটি চার্জশিট তৈরি হতে? এই ধরনের দীর্ঘসূত্রিতা জনগণের বিশ্বাসকে দুর্বল করে এবং একটি রাষ্ট্রের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।