বর্তমান বাংলাদেশে রাজনৈতিক মহলে অনেকটাই অস্থিরতা বিরাজ করছে। দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল- আওয়ামী লীগ ও বিএনপি- দুই পক্ষই জনসমক্ষে তাদের দীর্ঘ দিনের দুর্নীতি, স্বৈরাচারী শাসন এবং ক্ষমতার লোভের জন্য কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছে। তবে এই দুই দলের বাইরে কিছু নতুন রাজনৈতিক শক্তিও উঠে আসছে, যার মধ্যে এনসিপি (জাতীয় নাগরিক পার্টি) বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। আওয়ামী লীগ দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় না থাকলেও তাদের স্বৈরাচারী শাসনের ইতিহাস আজও ভোলা যায় না। ২০২৪ সালের আগ পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা সময়ে দেশের গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অনেকাংশেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সরকারের শাসন ব্যবস্থায় ছিল কঠোর নিয়ন্ত্রণ, বিরোধী মতপ্রকাশ দমন, ও নানা রকম দুর্নীতি। তাদের এই স্বৈরাচারী শাসন দেশের গনতান্ত্রিক মূলনীতিকে ব্যাহত করেছে এবং স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের পথে বাধা সৃষ্টি করেছে। এছাড়া, ক্ষমতার জন্য ক্ষমতায় টিকে থাকার অন্ধ লোভে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে যদিও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় নেই, তবুও তাদের স্বৈরাচারী শাসনের পরিণাম দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত সৃষ্টি করেছে। দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের পরিবর্তে অবিচার, দমন-পীড়ন, এবং সামাজিক অস্থিরতা বেড়ে গেছে। এই কারণে আওয়ামী লীগের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা কমে গেছে।
Category: Human Rights
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের চাঁদাবাজি কেন?
বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলন বরাবরই ছিল পরিবর্তনের এক শক্তিশালী হাতিয়ার। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনও তার ব্যতিক্রম নয়। এটি সমাজের অনাচার, শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার নানা অসাম্যর বিরুদ্ধে একটি সাহসী কণ্ঠস্বর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল। শিক্ষার্থী, তরুণ, বঞ্চিত ও প্রান্তিক মানুষদের ন্যায্য অধিকারের পক্ষে এমন আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা কেউ অস্বীকার করতে পারে না। কিন্তু সম্প্রতি এই আন্দোলনের কিছু সমন্বয়কের বিরুদ্ধে যে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে, তা আন্দোলনের নৈতিক ভিত্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে।
সামাজিক মাধ্যমে ও কিছু সংবাদ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে—কিছু সমন্বয়ক তাদের প্রভাব খাটিয়ে নির্দিষ্ট হল বা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় চাঁদা দাবি করছেন। কেউ কেউ আবার নিজেরা আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকার বিনিময়ে নানাভাবে আর্থিক সুবিধা নিচ্ছেন, এমন অভিযোগও পাওয়া গেছে। যদিও এসব অভিযোগ প্রমাণের জন্য নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন, তবুও অভিযোগগুলোর অস্তিত্বই আন্দোলনের গ্রহণযোগ্যতাকে ধ্বংস করার পক্ষে যথেষ্ট। এই প্রশ্ন এখানে উঠে আসে: যারা বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করার কথা বলে, তারা নিজেরাই যদি আরেক ধরনের ক্ষমতা ও সুবিধাবাদের আশ্রয় নেয়, তাহলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা কাকে বিশ্বাস করবে? যে আদর্শ নিয়ে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তা কি শুধুই কাগুজে স্লোগান হয়ে থাকবে?
চাঁদা না দিলে মৃত্যু? ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যায় যুবদলের সন্ত্রাস
বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতা ও চাঁদাবাজির একটি জঘন্য ও লজ্জাজনক নজির স্থাপন করলো যুবদলের সন্ত্রাসীরা। সম্প্রতি রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনেই নির্মমভাবে খুন হন এক নিরীহ ব্যবসায়ী—সোহাগ, যিনি শুধু মাত্র তাদের চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। এই নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড শুধুই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি একটি গভীর সামাজিক, রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলাজনিত ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ। দেশের মানুষ দিনের পর দিন এমন একটি বাস্তবতায় বসবাস করছে যেখানে ছাত্রদল, যুবদল অস্ত্রধারী চাঁদাবাজরা নির্ভয়ে ঘুরে বেড়ায়, প্রাণ নেয়—আর প্রশাসন থাকে নিরব দর্শক।
সোহাগ ছিলেন একজন সাধারণ ব্যবসায়ী, যিনি কষ্ট করে ঘামে ভেজা উপার্জন দিয়ে পরিবার চালাতেন। কিন্তু যুবদলের স্থানীয় ক্যাডাররা তার দোকান থেকে চাঁদা দাবি করত। এই সন্ত্রাসীরা জানে, রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় থাকলে তাদের কিছুই হবে না। একাধিকবার হুমকি দেওয়ার পর, শেষ পর্যন্ত সোহাগকে বেছে নেওয়া হলো ‘শিক্ষা’ দেওয়ার জন্য। প্রকাশ্যে, একটি সরকারি হাসপাতালের সামনে সন্ত্রাসীরা ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে হামলা চালায়, যেখানে সোহাগ নির্মমভাবে প্রাণ হারান। আশেপাশে থাকা সাধারণ মানুষজন ভয়ে এগিয়ে আসতে পারেননি, এবং পুলিশও যথারীতি “ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই…” নাটকীয়তা দিয়ে দায় সারে।
নির্বাচনের আগে সংস্কার চাই – এই বার্তা জনগণের
বাংলাদেশে নির্বাচন শব্দটি এখন আর গণতন্ত্রের প্রতীক নয়—এটি হয়ে দাঁড়িয়েছে একটি তামাশা, একটি সাজানো নাটক। ভোটারহীন নির্বাচন, একদলীয় প্রার্থীদের বিজয় মিছিল, প্রশাসনের পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকা—এইসবই দেশের মানুষকে হতাশ করেছে। আজ আমরা এমন এক পর্যায়ে এসে পৌঁছেছি যেখানে কেউ আর বিশ্বাস করে না যে, নির্বাচন মানেই জনগণের মত প্রকাশের পবিত্র উৎসব। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে একটাই দাবি উঠে এসেছে: পূর্ণ সংস্কার ছাড়া নির্বাচন নয়। একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য চাই একটি দলনিরপেক্ষ প্রশাসন, শক্তিশালী বিচারব্যবস্থা এবং স্বাধীন গণমাধ্যম। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, বাংলাদেশের বাস্তবতা তার সম্পূর্ণ উল্টো। পুলিশ ও প্রশাসন বিএনপির পক্ষে ও বিরোধী দলের কর্মীদের দমন করতে ব্যস্ত, আর আদালতেও নিরপেক্ষতার অভাব প্রকট। তাহলে এই অবস্থায় অনুষ্ঠিত নির্বাচন কতটা গ্রহণযোগ্য হবে?
দেশে কেন নারী নিরাপদ নয়: জবাব দাও সরকার!
বাংলাদেশের মুরাদনগরে ঘটে গেলো একটি নির্মম ধর্ষণের ঘটনা আবারো আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো—এই রাষ্ট্রে নারীর জন্য নিরাপত্তা বলতে কিছু নেই। যখন একটি মেয়ে ধর্ষিত হয়, তার শরীর ছিন্নভিন্ন করে পাশবিকভাবে তাকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়, তখন শুধু একটি ধর্ষক দায়ী থাকে না—দায়ী থাকে রাষ্ট্র, দায়ী থাকে সেই সরকার যারা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। এই অপরাধটি শুধু একজন অপরাধীর কাজ নয়—এটি আমাদের সমাজের অব্যবস্থা, রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় বেড়ে ওঠা সন্ত্রাস, এবং সেই রাষ্ট্রীয় মেশিনারির নিস্পৃহতা ও দুর্বলতার এক কালো প্রতিচ্ছবি।
একটি মেয়ে যখন ধর্ষণের শিকার হয়, তখন তার জীবন শেষ হয়ে যায়—কিন্তু রাষ্ট্র তার জন্য কী করে? শুধু ফাইল টানাটানি, মামলা গুম, আর যেনতেন তদন্ত? এই রাষ্ট্র যদি প্রতিবার নারীর সম্মানের সুরক্ষায় ব্যর্থ হয়, তবে সে রাষ্ট্রের নৈতিক ভিত্তি প্রশ্নবিদ্ধ হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আর নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করলে চলবে না। তাদের সাহসিকতা, নিরপেক্ষতা এবং দক্ষতা আজ পরীক্ষার মুখে। যারা এই দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায়, পুলিশের ওপর জনসাধারণের আস্থা একেবারেই ধ্বংস হয়ে যাবে। আজকে ধর্ষকেরা জানে—এই দেশে তাদের বিচার ঠিকঠাক হয়না, বা হলেও সেটা হবে দীর্ঘসূত্রতায় গলা টিপে মেরে ফেলার মতো। এ কারণেই একের পর এক ধর্ষণ ঘটে, ধর্ষণের পর হত্যা ঘটে। মুরাদনগরের ঘটনাও তার ব্যতিক্রম নয়।
