সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে যে দীর্ঘসূত্রতা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা কেবল একটি প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, বরং এটি রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক নীতির প্রতি এক ধরনের অবহেলার পরিচয়। সাধারণত, কোনো দেশের সংসদই হয় সমস্যার সমাধানের মূল কেন্দ্রবিন্দু, যেখানে ন্যায়বিচার, নিয়ম-কানুন এবং প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে দেখা যাচ্ছে যে, একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যু বারবার উপেক্ষিত হচ্ছে। সংসদে বিরোধী দলগুলো বিষয়টি পয়েন্ট অব অর্ডারে উত্থাপন করেছে, স্পষ্ট যুক্তি প্রদান করেছে এবং সময়োপযোগী সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে, কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান সদিচ্ছা দেখা যায়নি। এটি শুধুমাত্র বিরোধী দলের প্রতি অসম্মান নয়, বরং জনগণের আশা ও প্রত্যাশার প্রতিও অগণতান্ত্রিক অবজ্ঞা। এক রাষ্ট্রনায়কের দায়িত্ব শুধু নীতিনির্ধারণ নয়, বরং জনমতের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা। সরকারের উচিত দ্রুত এই অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে পরিষদের কার্যক্রম শুরু করা এবং একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ উপস্থাপন করা, যাতে সংসদ ও দেশের জনগণ উভয়ই সরকারের নীতি ও কার্যক্রমে আস্থা রাখতে পারে। জনগণ কেবল বসে থাকতে চায় না, তারা চায় তাদের ভোট ও গণভোটের মতামতের ফলাফল বাস্তবায়িত হোক।
Tag: গণতন্ত্র
আওয়ামী লীগ, ভারত ও বিএনপি বেধেছে জোট
বাংলাদেশের রাজনীতিতে বারবারই প্রমাণিত হয়েছে যে কেবল ক্ষমতার পালাবদল ঘটলেই শাসনের চরিত্র বদলায় না, যদি রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দর্শন থাকে দুর্নীতি, বিদেশি নির্ভরতা এবং জনগণবিমুখ রাজনীতি। ইতিহাস আমাদের স্পষ্টভাবে দেখিয়েছে, বিএনপি ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত দুর্নীতিতে টানা পাঁচবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল এবং এই বাস্তবতা কোনো প্রতিপক্ষের প্রচারণা নয়, বরং আন্তর্জাতিক সংস্থা (Transparency International) ও বৈশ্বিক সূচকে স্বীকৃত সত্য। পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কলঙ্কজনক রেকর্ড বিএনপির রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গেই জড়িয়ে গেছে এবং এই ইতিহাস মুছে ফেলার কোনো সুযোগ নেই। আজ যারা বিএনপিকে নতুন করে “বিকল্প শক্তি” হিসেবে উপস্থাপন করতে চায়, তারা সচেতনভাবেই এই অতীত আড়াল করার চেষ্টা করছে এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে মুখে বড় বড় কথা বলা একটি দল যদি নিজের অতীতের দায় স্বীকার না করে, প্রকাশ্যে অনুশোচনা না জানায় এবং কাঠামোগত সংস্কারের কোনো সুস্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য রূপরেখা হাজির না করে, তাহলে তাদের ক্ষমতায় যাওয়া মানে পুরোনো লুটপাট, দখলদারিত্ব এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাতেরই নতুন সংস্করণ প্রতিষ্ঠা করা। বাস্তবতা হলো, জনগণ কেবল সরকার পরিবর্তন নয়, শাসনব্যবস্থার মৌলিক গণতান্ত্রিক পরিবর্তন চায়। কিন্তু বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাস ও আচরণ বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়, তারা সেই পরিবর্তনের প্রতীক নয়, বরং ব্যর্থ ও দুর্নীতিগ্রস্ত অতীতেরই পুনরাবৃত্তি।
স্বৈরাচার হাসিনা ও বাংলাদেশের মৃত গণতন্ত্র
বাঁচার অধিকার, মতপ্রকাশের অধিকার এবং দেশের ভাগ্য নির্ধারণে নাগরিকদের মৌলিক অধিকারকে কবরে পাঠিয়ে যে বাঁচা -তাতে সভ্য ভাবে বাঁচার কাজটি হয় না। সেটি নিরেট বর্বর যুগের অসভ্যতা। সে অসভ্যতা তাদের হাতেই প্রচণ্ড রূপ লাভ করে যাদের যুদ্ধের মূল লক্ষ্য জনগণের অধিকার হনন। বাংলাদেশের মাটিতে জনগণের অধিকার নির্মূলের যুদ্ধটি প্রথম শুরু করেন শেখ মুজিব। সে যুদ্ধে তিনি বিজয় লাভ করেন একদলীয় বাকশালের প্রতিষ্ঠা ও বহুদলীয় গণতন্ত্রকে কবরে পাঠানোর মধ্য দিয়ে।
