সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে ভয়াবহ কিছু প্রশ্ন সামনে এনে দিয়েছে। ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকার ECB চত্বরে তার স্টুডিওতে হামলার পর সালমান অভিযোগ করেছিলেন, চাঁদা না দেওয়ার কারণেই তার প্রতিষ্ঠানে হামলা হয়েছে এবং তিনি বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তার এই অভিযোগ প্রকাশিত হলেও পুলিশ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ পরে বলেছে প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটির সঙ্গে একটি জমি বিরোধের সম্পর্ক পাওয়া গেছে এবং চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি তৈরি হয় একজন নাগরিক যদি প্রকাশ্যে কোনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ করেন, তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কি সরকারের দায়িত্ব নয়? অভিযোগ সত্য না মিথ্যা, সেটি তদন্ত করে আদালত ও আইন নির্ধারণ করবে। কিন্তু কোনো অভিযোগের জবাব যদি রাজনৈতিক চাপ, ভয় দেখানো, সামাজিক হেনস্তা কিংবা প্রশাসনিক হয়রানির মাধ্যমে দেওয়া হয়, তাহলে সেটি গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক বার্তা। বিএনপি যদি সত্যিই চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত না থাকে, তাহলে তাদের উচিত আইনি তদন্তকে স্বাগত জানানো এবং অভিযোগের স্বচ্ছ তদন্ত দাবি করা, সমালোচকের কণ্ঠ বন্ধ করার পরিবেশ তৈরি করা নয়। একটি রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় থাকলে তার দায়িত্ব বিরোধী মতকে ভয় দেখানো নয়, বরং নিজের আচরণ দিয়ে প্রমাণ করা যে জনগণ স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারে।
Tag: বাকস্বাধীনতা
গুগলে ২৭৯টি কনটেন্ট সরানোর অনুরোধ: বাকস্বাধীনতাকে ভয় পায় অন্তবর্তী সরকার
বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগল (অ্যালফাবেট) তাদের ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন মাসের স্বচ্ছতা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেই প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে বাংলাদেশের অন্তবর্তীকালীন সরকারের উদ্বেগজনক আচরণ কিভাবে তারা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, বাকস্বাধীনতা, নাগরিক অধিকার ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মানুষের প্রশ্ন তোলার অধিকারকে সরাসরি আঘাত করছে। গুগলের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ছয় মাসে বাংলাদেশ সরকার ২৭৯টি কনটেন্ট অপসারণের অনুরোধ পাঠিয়েছে, এবং এসব অনুরোধের আওতায় অপসারণের আইটেম সংখ্যা ছিল ১,০২৩টি। বাস্তবে এই সংখ্যাগুলো শুধু পরিসংখ্যান নয় এগুলো এক অসুস্থ মানসিকতা, এক রাষ্ট্রীয় মনোভাবের প্রতিচ্ছবি; যেখানে সরকার সমালোচনা সহ্য করতে পারে না, ভিন্নমত সহ্য করতে পারে না, প্রশ্ন তুললেই সেটিকে “হুমকি” ও “অপরাধ” বানিয়ে দিতে চায়। অন্তবর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব ছিল মুক্তি, স্বচ্ছতা, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং জনগণের কণ্ঠস্বরকে শক্তিশালী করা। কিন্তু বাস্তবে তারা যা করেছে, তা পূর্ববর্তী দমনমূলক শাসনেরই নতুন সংস্করণ। এ যেন ফ্যাসিবাদের চাদর পরে গণতন্ত্রের মুখোশ মুক্তির নামে দমন, স্বচ্ছতার নামে সেন্সরশিপ, আর মানবাধিকারের নামে গোপনীয় নজরদারি। সরকার যখন গুগলের কাছে সমালোচনামূলক কনটেন্ট সরিয়ে ফেলতে ২৭৯টি অনুরোধ পাঠায়, তখন তা শুধু প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ প্রয়োগ নয়, বরং সরাসরি জনগণের ওপর আরোপিত রাষ্ট্রীয় ভীতি প্রদর্শন।
