বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বা বিসিবি এখন ক্রমশ একটি ক্রীড়া নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে সরে এসে রাজনৈতিক প্রভাবের এক প্রতিচ্ছবিতে রূপ নিচ্ছে, যেখানে মেধা ও দক্ষতার চেয়ে সম্পর্ক ও পারিবারিক পরিচয় বেশি মূল্যবান হয়ে উঠেছে। মির্জা ইয়াসির আব্বাস, সৈয়দ ইব্রাহিম আহমদ, ইসরাফিল খসরু কিংবা রাশনা ইমামের মতো নামগুলো কেবল ব্যক্তি নয়, বরং একটি বৃহত্তর সমস্যার প্রতীক যেখানে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কাছাকাছি থাকা মানেই সুযোগের একচেটিয়া অধিকার। যখন কোনো প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের বংশগত ও রাজনৈতিক প্রভাব খোলামেলাভাবে জায়গা করে নেয়, তখন সেটি আর জনগণের প্রতিষ্ঠান থাকে না, বরং একটি বিশেষ গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রিত ক্ষেত্র হয়ে ওঠে। বিসিবির ভেতরে যে অস্বচ্ছতা, পক্ষপাতিত্ব এবং গোপন সমঝোতার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, তা দেশের ক্রিকেটকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দিচ্ছে। একটি বোর্ডের কাজ হওয়া উচিত ক্রিকেটের উন্নয়ন, প্রতিভা খোঁজা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা, কিন্তু সেখানে যদি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে, তাহলে সেটি আর ক্রীড়া উন্নয়নের জায়গা থাকে না এটি পরিণত হয় ক্ষমতার আরেকটি খেলায়।
