CategoriesDemocracyHuman RightsJusticePolitics

সিলেটে কনসার্টে চরমপন্থীদের হামলা কেন?

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় ঘটে যাওয়া বাউলগানের আসরে হামলার ঘটনা আমাদের সমাজের জন্য এক ভয়ংকর এবং গভীরভাবে চিন্তার বিষয় সংকেত হিসেবে দাঁড়িয়েছে। এমন হামলা শুধুমাত্র সংগীতপ্রেমী মানুষদের আনন্দ, শান্তি এবং ঐতিহ্যকে ক্ষুণ্ন করে না, বরং এটি আমাদের সামাজিক সহাবস্থান, সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ এবং ধর্মীয় সহনশীলতার মূল ভিত্তিকেও আঘাত হানে। শত বছরের ঐতিহ্যবাহী ইব্রাহিম শাহ মাজারের বাউলগানের আসরে অংশ নেওয়া মানুষরা এখানে শান্তি এবং আধ্যাত্মিক অনুপ্রেরণার জন্য আসে, কিন্তু কয়েকজন চরমপন্থী তাদের ব্যক্তিগত বিশ্বাস, ধর্মীয় অহংকার এবং মনগড়া ধারণাকে অজুহাত বানিয়ে এই কনসার্টে হঠাৎ ভাঙচুর চালায়। তারা ‘নারায়ে তকবির’ এবং ‘ইসলামের শত্রুরা, হুশিয়ার সাবধান’ স্লোগান দিয়ে নিজেদের জিহাদী মনোভাব প্রকাশ করেছে, যা স্পষ্টভাবে সমাজে ভীতি, বিভাজন এবং অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা। ধর্মকে ব্যবহার করে অন্যের আনন্দ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং মানবিক স্বাধীনতাকে দমন করা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই হামলা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, চরমপন্থীরা কখনোই শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের জন্যই হুমকি নয়; তারা আমাদের সবার সামাজিক, সাংস্কৃতিক, গনতান্ত্রিক মানসিক স্বাধীনতার জন্যও বড় ধরনের হুমকি। আমাদের সমাজে এমন বেপরোয়া ও সহিংস মনোভাবের কোনো স্থান নেই, এবং এটি মোকাবেলার জন্য কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা একান্ত জরুরি।

CategoriesDemocracyHuman RightsJusticePolitics

বিএনপি ও তারেক রহমানের সহিংসতার রাজনীতি

বাংলাদেশ কি সত্যিই পেল একটি সন্ত্রাসী, শাসনধারী সরকারের অধীনে জীবনযাপন করার সুযোগ? ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন এবং পরবর্তী দুই দিন বিএনপি ও তাদের ছাত্রসংগঠন ছাত্রদলের যে সহিংসতার বিস্তার ঘটেছে, তা শুধু উদ্বেগজনক নয়, বরং রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক মৌলিক কাঠামোর জন্য একধরনের অগ্নিপরীক্ষা। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠেছে নির্বাচনের মাত্র দুইদিনের মধ্যে প্রায় ২১০টিরও বেশি সহিংসতার ঘটনা সংঘটিত হয়েছে, যার মধ্যে ৫৩ শতাংশ শারীরিক হামলা, ১৪ শতাংশ বাড়িঘর, অফিস ও চেম্বারে ভাঙচুর, ১৩ শতাংশ হুমকি, ১০ শতাংশ অগ্নিসংযোগ এবং ১০ শতাংশ অন্যান্য সহিংসতা। হত্যাকাণ্ড ও ধর্ষণের মতো নৃশংস অপরাধও ঘটেছে, যা একথা প্রমাণ করে যে, ভোটের নামধারণে বিএনপি দেশের নিরাপত্তা, শান্তি এবং সাধারণ নাগরিকের জীবনযাত্রাকে হত্যা ও আতঙ্কের হুমকির মধ্যে ফেলে রেখেছে। এই সমস্ত নৃশংস কর্মকাণ্ডের পেছনে রয়েছে বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনসমূহের নেতাদের পরিকল্পিত ও প্ররোচিত সহিংসতা। সাধারণ মানুষ ভোটের মাধ্যমে পরিবর্তনের আশা করে, কিন্তু বিএনপি-শাসিত সহিংসতা তা শূন্যে পরিণত করেছে। একটি নির্বাচন যদি গণতন্ত্রের উৎসবের বদলে রক্তপাত, প্রতিহিংসা এবং হিংস্রতার মঞ্চে পরিণত হয়, তাহলে এর দায় কে নেবে? এ ধরনের রাজনৈতিক কৌশল শুধু দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা নষ্ট করে না, বরং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্কের সংস্কৃতি গড়ে তোলে। বিএনপির এই রাজনৈতিক শাসন কি জনগণের স্বার্থে, নাকি শুধুই নিজদের ক্ষমতার ও বিরোধীদল ও ভিন্ন মতের মানুষদের প্রতিশোধের অব্যাহত চর্চা? দেশের ভবিষ্যৎ এই প্রশ্নের জবাবের উপর নির্ভর করছে।

CategoriesDemocracyHuman RightsJusticePolitics

দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিএনপির সন্ত্রাস ও সহিংসতা: ক্ষমতার লালসায় অন্ধ দল

বাংলাদেশের রাজনীতিতে সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে যে দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় বিএনপি নেতা-কর্মীরা ক্ষমতা, অর্থ ও প্রভাবের লোভে সহিংসতার পথ বেছে নিচ্ছে। মনোনয়ন না পেলে তারা শৃঙ্খলা বিপর্যয়, লুটপাট, ভাঙচুর এবং অশান্তি সৃষ্টি করে, যা শুধু তাদের রাজনৈতিক স্বার্থ পূরণ করে না, বরং সাধারণ নাগরিকদের জীবনেও ভয়, অনিশ্চয়তা এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি ডেকে আনে। ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হচ্ছে, এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়ছে। এতে স্পষ্ট যে, বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংস্কার এবং স্বচ্ছ মনোনয়ন প্রক্রিয়ার অভাবে তৃণমূলের নেতারা নিজের হতাশা প্রকাশের জন্য সহিংসতাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার এমন অবক্ষয় দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে দুর্বল করে এবং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকিতে ফেলে।