CategoriesDemocracyHuman RightsJusticePolitics

কেন আগামী নির্বাচনে বিএনপি হারবে ও জনগণের বিএনপিকে ভোট দেওয়া উচিত না?

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, বিএনপি কখনো দেশের কল্যাণ বা সাধারণ জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়নি। দলের নেতারা সর্বদা ক্ষমতার লোভে অন্ধ হয়ে ওঠেন এবং দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে বিপদের মুখে ফেলে। অতীতের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে যে, দলীয় মনোনয়ন না পেলে বিএনপির নেতাকর্মীরা সহিংসতা, চাঁদাবাজি, লুটপাট, হুমকি, ও অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়। শুধু নির্বাচনী সময় নয়, সাধারণ সময়েও এই সহিংসতা জনগণের জীবন ও সম্পদকে ভয়ঙ্করভাবে প্রভাবিত করে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিএনপির যুবক ও স্থানীয় নেতারা ব্যবসায়ী, সাধারণ নাগরিক এবং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের ওপর নির্যাতন চালায়, যা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে ভেঙে দেয় এবং মানুষের নিরাপত্তা ও মানসিক শান্তিকে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সহিংসতা শুধু কোনো একক ঘটনার ফল নয়, এটি একটি পরিকল্পিত ও সংগঠিত প্রক্রিয়ার অংশ যা দেশের স্থিতিশীলতাকে বিঘ্নিত করে। নাগরিকরা বুঝতে শুরু করেছে যে, বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা আবারও ভেঙে যাবে, সহিংসতার জোয়ার বৃদ্ধি পাবে এবং সাধারণ মানুষকে জীবনের নিরাপত্তা হারানোর ভয় সঙ্গে করতে হবে।

CategoriesDemocracyHuman RightsJusticePolitics

বিচারবহির্ভূত হত্যা থামাতে ব্যর্থ অন্তবর্তীকালীন ড. ইউনুসের সরকার: গণতন্ত্রের সংকটে বাংলাদেশ

২০২৪ সালের আগস্টে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর দেশের জনগণ আশা করেছিল যে, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং অনুপ্রাণিত নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা, যা তার শাসনামলের চিহ্ন ছিল, শেষ হবে। তখন নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ড. ইউনুস দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং প্রতিশ্রুতি দেন স্বচ্ছতা, ন্যায়বিচার এবং রাষ্ট্রীয় সহিংসতা বন্ধ করার। কিন্তু এক বছরের বেশি সময় পার হলেও সেই প্রতিশ্রুতি কেবল শূন্য কথাই প্রমাণিত হয়েছে। বাংলাদেশি মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের রিপোর্ট অনুযায়ী, আগস্ট ২০২৪ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত ৪০ জনের বেশি বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রাজনৈতিক কর্মী, গ্রেফতারকৃত নাগরিক এবং সাধারণ মানুষ অন্তর্ভুক্ত, যারা নিরাপত্তা বাহিনীর অপারেশন বা হেফাজতে থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। প্রায় ১৫ বছরের শেখ হাসিনার শাসনামলে র‍্যাব বা Rapid Action Battalion (RAB) এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থা ব্যাপকভাবে বিচারবহির্ভূত হত্যায় জড়িত ছিল। আশ্চর্যজনকভাবে, ইউনুস সরকারের অধীনে এই একই সংস্থা এখনো কার্যক্রম চালাচ্ছে, কোনো কার্যকর প্রশাসনিক সংস্কার ছাড়াই। অধিকারের রিপোর্ট অনুযায়ী, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৫-এর মধ্যে মাত্র তিন মাসে ১১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৯ জন “crossfire”-এ নিহত, ১৪ জন গ্রেফতারকালে নির্যাতনের শিকার এবং ৭ জনকে হেফাজতে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনা স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে যে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে দায়বদ্ধতার অভাব এখনও বিদ্যমান এবং জনগণ এখনও নিরাপদ নয়।

CategoriesDemocracyHuman RightsJusticePolitics

দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিএনপির সন্ত্রাস ও সহিংসতা: ক্ষমতার লালসায় অন্ধ দল

বাংলাদেশের রাজনীতিতে সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে যে দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় বিএনপি নেতা-কর্মীরা ক্ষমতা, অর্থ ও প্রভাবের লোভে সহিংসতার পথ বেছে নিচ্ছে। মনোনয়ন না পেলে তারা শৃঙ্খলা বিপর্যয়, লুটপাট, ভাঙচুর এবং অশান্তি সৃষ্টি করে, যা শুধু তাদের রাজনৈতিক স্বার্থ পূরণ করে না, বরং সাধারণ নাগরিকদের জীবনেও ভয়, অনিশ্চয়তা এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি ডেকে আনে। ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হচ্ছে, এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়ছে। এতে স্পষ্ট যে, বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংস্কার এবং স্বচ্ছ মনোনয়ন প্রক্রিয়ার অভাবে তৃণমূলের নেতারা নিজের হতাশা প্রকাশের জন্য সহিংসতাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার এমন অবক্ষয় দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে দুর্বল করে এবং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকিতে ফেলে।

CategoriesDemocracyHuman RightsJusticePolitics

চাঁদা না দিলে মৃত্যু? ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যায় যুবদলের সন্ত্রাস

বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতা ও চাঁদাবাজির একটি জঘন্য ও লজ্জাজনক নজির স্থাপন করলো যুবদলের সন্ত্রাসীরা। সম্প্রতি রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনেই নির্মমভাবে খুন হন এক নিরীহ ব্যবসায়ী—সোহাগ, যিনি শুধু মাত্র তাদের চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। এই নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড শুধুই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি একটি গভীর সামাজিক, রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলাজনিত ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ। দেশের মানুষ দিনের পর দিন এমন একটি বাস্তবতায় বসবাস করছে যেখানে ছাত্রদল, যুবদল অস্ত্রধারী চাঁদাবাজরা নির্ভয়ে ঘুরে বেড়ায়, প্রাণ নেয়—আর প্রশাসন থাকে নিরব দর্শক।

সোহাগ ছিলেন একজন সাধারণ ব্যবসায়ী, যিনি কষ্ট করে ঘামে ভেজা উপার্জন দিয়ে পরিবার চালাতেন। কিন্তু যুবদলের স্থানীয় ক্যাডাররা তার দোকান থেকে চাঁদা দাবি করত। এই সন্ত্রাসীরা জানে, রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় থাকলে তাদের কিছুই হবে না। একাধিকবার হুমকি দেওয়ার পর, শেষ পর্যন্ত সোহাগকে বেছে নেওয়া হলো ‘শিক্ষা’ দেওয়ার জন্য। প্রকাশ্যে, একটি সরকারি হাসপাতালের সামনে সন্ত্রাসীরা ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে হামলা চালায়, যেখানে সোহাগ নির্মমভাবে প্রাণ হারান। আশেপাশে থাকা সাধারণ মানুষজন ভয়ে এগিয়ে আসতে পারেননি, এবং পুলিশও যথারীতি “ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই…” নাটকীয়তা দিয়ে দায় সারে।

CategoriesDemocracyHuman RightsJusticePolitics

দেশে কেন নারী নিরাপদ নয়: জবাব দাও সরকার!

বাংলাদেশের মুরাদনগরে ঘটে গেলো একটি নির্মম ধর্ষণের ঘটনা আবারো আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো—এই রাষ্ট্রে নারীর জন্য নিরাপত্তা বলতে কিছু নেই। যখন একটি মেয়ে ধর্ষিত হয়, তার শরীর ছিন্নভিন্ন করে পাশবিকভাবে তাকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়, তখন শুধু একটি ধর্ষক দায়ী থাকে না—দায়ী থাকে রাষ্ট্র, দায়ী থাকে সেই সরকার যারা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। এই অপরাধটি শুধু একজন অপরাধীর কাজ নয়—এটি আমাদের সমাজের অব্যবস্থা, রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় বেড়ে ওঠা সন্ত্রাস, এবং সেই রাষ্ট্রীয় মেশিনারির নিস্পৃহতা ও দুর্বলতার এক কালো প্রতিচ্ছবি।

একটি মেয়ে যখন ধর্ষণের শিকার হয়, তখন তার জীবন শেষ হয়ে যায়—কিন্তু রাষ্ট্র তার জন্য কী করে? শুধু ফাইল টানাটানি, মামলা গুম, আর যেনতেন তদন্ত? এই রাষ্ট্র যদি প্রতিবার নারীর সম্মানের সুরক্ষায় ব্যর্থ হয়, তবে সে রাষ্ট্রের নৈতিক ভিত্তি প্রশ্নবিদ্ধ হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আর নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করলে চলবে না। তাদের সাহসিকতা, নিরপেক্ষতা এবং দক্ষতা আজ পরীক্ষার মুখে। যারা এই দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায়, পুলিশের ওপর জনসাধারণের আস্থা একেবারেই ধ্বংস হয়ে যাবে। আজকে ধর্ষকেরা জানে—এই দেশে তাদের বিচার ঠিকঠাক হয়না, বা হলেও সেটা হবে দীর্ঘসূত্রতায় গলা টিপে মেরে ফেলার মতো। এ কারণেই একের পর এক ধর্ষণ ঘটে, ধর্ষণের পর হত্যা ঘটে। মুরাদনগরের ঘটনাও তার ব্যতিক্রম নয়।