CategoriesDemocracyHuman RightsJusticePolitics

ফ্যাসিস্ট হাসিনার স্বৈরাচারি শাসনের অবসান ও তক্তাবদায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হোক

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটপূর্ণ ও অস্থিতিশীল। দেশে স্বৈরাচারের শাসন চলমান আছে, যেখানে জনগণের কথা উপেক্ষা করে এক দলীয় শাসন ব্যবস্থাকে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার, যার নেতৃত্বে রয়েছে ফ্যাসিস্ট হাসিনা, গত প্রায় দেড় দশকের বেশি সময় ধরে দেশের শাসনকার্য চালিয়ে আসছে, কিন্তু এর শাসনকালের মধ্যেই দেশে গণতন্ত্রের কবর হয়েছে।

সরকারের তরফ থেকে নির্বাচনের কথা বলা হলেও, সেগুলো ছিল শুধুই এক ধরনের নাটক। গণতন্ত্রের মূল স্তম্ভ, সুষ্ঠু নির্বাচন, আর জনগণের স্বাধীন মতপ্রকাশ আজ পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন। এক এক করে সরকার সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে ফেলেছে এবং জনগণের উপর দমন-পীড়ন চালিয়েছে।

CategoriesDemocracyHuman RightsJusticePolitics

শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও নিরপেক্ষ সরকারের দাবি নিয়ে প্রবাসীদের মিটিং

আজ গুগল মিটে বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদের আয়োজনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মিটিং সম্পন্ন হয়েছে। এতে বাংলাদেশ গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর (ভিপি নুর) অংশগ্রহণ করেন।

মিটিংয়ে বাংলাদেশের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আয়োজন এবং স্বৈরাচারী মাফিয়া শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবিতে বিশদ আলোচনা হয়। প্রবাসে থেকেও দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সচেতন নাগরিকদের ভূমিকা এবং করণীয় বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।

CategoriesDemocracyHuman RightsJusticePolitics

২৮ অক্টোবর: আওয়ামী লীগের লগি-বৈঠার তাণ্ডব – এক নৃশংস অধ্যায়

বাংলাদেশের ইতিহাসে ২৮ অক্টোবর ২০০৬ এক ভয়ঙ্কর কালো দিন। এদিন আওয়ামী লীগের সমর্থকরা প্রকাশ্যে লগি-বৈঠা দিয়ে মানুষ হত্যা করে নৃশংসতার যে নজির স্থাপন করেছিল, তা শুধুমাত্র রাজনৈতিক সহিংসতার নয়, বরং মানবিকতার চরম অবমাননার উদাহরণ। এই ঘটনা আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী চরিত্রকে উন্মোচিত করে, যা আজও দেশের মানুষের মনে আতঙ্ক হয়ে রয়েছে।

২০০৬ সালে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে, ক্ষমতায় যাওয়ার লালসায় উন্মত্ত হয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা লগি-বৈঠা নিয়ে রাজধানীর পল্টন মোড়ে সাধারণ মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। যারা তাদের বিরোধিতা করছিল, তাদের রক্তাক্ত করা হয়, এমনকি লাশের ওপর নাচানাচি করে অমানবিকতার চূড়ান্ত রূপ দেখানো হয়। এই ঘটনার ছবি ও ভিডিও আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় প্রচারিত হলে বিশ্ববাসী হতবাক হয়ে যায়।

CategoriesDemocracyHuman RightsJusticePolitics

বিচার বহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা

২০০৯ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত এই সরকারের অধীনে এ দেশে প্রায় তিন হাজার মানুষ পুলিশ, র‌্যাব, ডিবির হাতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। তাদের অধিকাংশই বিরোধী মত ও দলের নেতাকর্মী। গত ১০ বছর সময়ের মধ্যে এ দেশের জেলহাজতে মারা গেছে ৭৯৫ মানুষ, গুম হয়েছে ৬০১ জন, ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৭ হাজার ৮০৬ নারী, ১ হাজার ৯৩৪ শিশু নির্যাতিত হয়েছে, ১৮ জন শিশু হত্যার শিকার হয়েছে।

CategoriesDemocracyHuman RightsJusticePolitics

বাংলাদেশের বর্তমান সংবিধান একটি ফ্যাসিবাদী দলিল

বাংলাদেশের বর্তমান সংবিধান আসলে কোনো গণতান্ত্রিক দলিল নয়। এটি এক দলীয় শাসন ও রাষ্ট্রীয় ফ্যাসিবাদের নীতিগত ভিত্তি। সংবিধানের ১৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধান আজ জনগণের চেয়ে একজন ব্যক্তিকে এবং একটি দলকে শক্তিশালী করার যন্ত্রে পরিণত হয়েছে। সংবিধান এখন এমন এক হাতিয়ার, যার মাধ্যমে সরকারপ্রধান নিজেকে বিচার, আইন, প্রশাসন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। এই সংবিধান এখন একটি ফ্যাসিবাদী দলিল, যা সরকার প্রধানকে একনায়ক ও স্বৈরাচারী ক্ষমতা দিয়ে জনগণের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন ও দমন করার পথ প্রশস্ত করেছে। এই সংবিধানের ধারা ও সংশোধনীগুলো এমনভাবে গৃহীত হয়েছে, যা স্বৈরশাসক শাসনব্যবস্থাকে বৈধতা দেয় এবং প্রতিনিয়ত আমাদের গণতন্ত্রের চেতনা ও স্বাধীনতার স্বপ্নকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

১৯৭২ সালের সংবিধান, আজ অনেক সংশোধনের মাধ্যমে বদলে গেছে। বিশেষ করে ২০১১ সালের ১৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ধারা বাতিল করে এককদলীয় শাসন ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হয়েছে। এর ফলে বিরোধী দলগুলোকে নিপীড়নের মাধ্যমে ভোটাধিকার খর্ব করা হয়েছে, যা গণতন্ত্রের প্রতি বিরাট ব্যাঘাত। সরকার প্রধানের হাতে নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীভূত করার জন্য বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নস্যাৎ করা হয়েছে। বিচারপতি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সরকারের একতরফা আধিপত্যের কারণে বিচার ব্যবস্থা আজ সরকারের পোষা কুকুরে পরিণত হয়েছে। এতে বিচারিক নিরপেক্ষতা হারিয়ে সমাজে অবিচার ও দুর্নীতির পরিসর বাড়ছে।