বিগত সরকার মুজিববাদকে পুঁজি করে একটি ফ্যাসিস্ট শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিল। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেই জালেম স্বৈরশাসকগোষ্ঠীর পতন নিশ্চিত হয়। ফারুকী ও বশিরসহ একাধিক উপদেষ্টা সেই পতিত আওয়ামী সরকারের দোসর। সেখ বশির উদ্দীন সরাসরি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ছাত্র হত্যার সঙ্গে জড়িত। তাকে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য করা শহীদ ভাইদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি। মোস্তফা ফারুকী বিভিন্ন সময়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ নানা উপায়ে শেখ হাসিনা সরকারের প্রশংসা করেছেন, সমর্থন জুগিয়েছেন। এ ছাড়া সজীব ওয়াজেদ জয়ের ঘনিষ্ঠ সাবেক তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকসহ ফ্যাসিস্ট সরকারের একাধিক নেতার ঘনিষ্ঠ ছিলেন ফারুকী।
দুঃখের বিষয়, হলো এই সরকারও ফ্যাসিবাদীদের পুনর্বাসনে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। যারা আমাদের ভাইদের হত্যা করেছিল, তাদের বিচার এখনো হয়নি। এর বদলে তারা আওয়ামী ফ্যাসিবাদকে পুনর্বাসনের চেষ্টা চালাচ্ছে। ফ্যাসিবাদকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করলে এ দেশের জনতা এ সরকারকেও ক্ষমা করবে না।
রাতের ভোটে যেভাবে আগে সংসদ সদস্য নির্বাচন করা হতো, একই কায়দা উপদেষ্টা নিয়োগের ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে। যে শিক্ষার্থী ও শ্রমিকেরা নিজেদের তাজা রক্ত রাস্তায় ঢেলে দিয়ে এই গণ–অভ্যুত্থান সফল করেছেন, তাঁদের সঙ্গে আলোচনা না করে, তাঁদের অংশীদারত্ব নিশ্চিত না করে আপনারা কাদের পুনর্বাসনের ম্যান্ডেট নিয়েছেন? শিক্ষার্থী, নাগরিক, শ্রমিক-জনতার সঙ্গে মশকরা বন্ধ করুন। ফ্যাসিবাদের সব প্রতীক, বৃত্তি, সহযোগী, উত্তরসূরি—আমরা সবকিছুরই রিমুভাল (অপসারণ) চাই।
আপনারা বিপদে পড়বেন, আওয়ামী পুনর্বাসন হবে আর আপনারা বললে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে আসবে, এটি আর বেশি দিন থাকবে না। ফ্যাসিবাদের যারা দোসর, ফ্যাসিবাদের সঙ্গে যাদের দূরতম সম্পর্ক আছে, গত ১৬ বছর ফ্যাসিবাদের নুন খেয়ে যারা গুণ গেয়েছে, ’২৪-পরবর্তী বাংলাদেশে কোনো ফরম্যাটেই আমরা তাদের পুনর্বাসন দেখতে চাই না। উপদেষ্টাদের স্পষ্ট করতে হবে, যাঁদের আপনারা নিয়োগ দিচ্ছেন, গত ১৬ বছরে তাঁদের অবদান কী।
কেউ যদি বাংলাদেশে কোনোভাবে ফ্যাসিবাদকে পুর্নবাসনের প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে সেটা রুখে দেব। আমরা অতিদ্রুত স্বৈরাচারের দোসরদের উপদেষ্টামণ্ডলী থেকে অপসারণ চাই।
