সিলেট নগরীর রিকাবিবাজার এলাকায় ছাত্রলীগ ও ছাত্রদল সমর্থকদের মধ্যে এক ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যেখানে মূলত চাদাবাজির অভিযোগ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রিকাবিবাজারস্থ স্টেডিয়াম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এই সহিংসতা রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং ক্ষমতার জন্য তিক্ত প্রতিযোগিতার একটি চরম উদাহরণ। ছাত্র সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত শিক্ষা, সচেতনতা এবং সমাজের উন্নতি সাধন, কিন্তু সিলেটের এই ঘটনা এটি সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থায় পরিণত করেছে। ছাত্র রাজনীতি যখন সহিংসতা, চাদাবাজি এবং অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে পরিচিত হতে শুরু করে, তখন তা দেশের ভবিষ্যৎতের জন্য একটি ভয়াবহ সংকেত হয়ে দাঁড়ায়।
এ ধরনের সহিংসতা বন্ধে এবং ছাত্র রাজনীতির প্রতি মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধারে একমাত্র কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলকে নিষিদ্ধ করা। ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে সহিংসতা এবং চাদাবাজির মতো ঘটনাগুলোর বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগে কঠোরতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। এই ধরনের কাজকে কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মীদের পক্ষ থেকে সমর্থন করা এবং প্রশ্রয় দেওয়া উচিত নয়। ছাত্র রাজনীতি যদি সঠিক পথে পরিচালিত না হয়, তাহলে সমাজে অস্থিতিশীলতা এবং সহিংসতা বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকেই বিপন্ন করবে।
সিলেটের রিকাবিবাজারের সংঘর্ষ ছাত্র রাজনীতির কলঙ্কজনক একটি অধ্যায় হিসেবে রয়ে যাবে যদি আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো সহিংসতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়। আমরা সকলে একসঙ্গে কাজ করে একটি শান্তিপূর্ণ এবং উন্নত বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে ছাত্ররা তাদের পিপাসিত শিক্ষা অর্জন করবে, সন্ত্রাসবাদ ও সহিংসতার জন্য কোনো স্থান থাকবে না।
রাজনৈতিক সহিংসতা এবং চাদাবাজির মতো কার্যকলাপ কখনোই দেশের ছাত্র সমাজের প্রতিনিধিত্ব করা উচিত নয়। ছাত্রলীগ এবং ছাত্রদল উভয়কেই তাদের কার্যক্রম সীমিত করতে হবে, এবং চূড়ান্তভাবে তাদেরকে নিষিদ্ধ করা উচিত যাতে ভবিষ্যতে কোনো ছাত্র সংগঠন দেশের শান্তি এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে ক্ষতিগ্রস্ত না করতে পারে।
সোর্স: https://m.dailyinqilab.com/article/23132/চাঁদাবাজি-নিয়ে-ছাত্রদল-ছাত্রলীগের-মারামারি-আহত-১
