CategoriesDemocracyHuman RightsJusticePolitics

ওরা প্রধানমন্ত্রীর লোক: আল-জাজিরার প্রতিবেদন

আজ বাংলাদেশের রাজনীতিতে যখন সুশাসন ও জবাবদিহিতা চরম সংকটে, তখন কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা প্রকাশ করল একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন- “All the Prime Minister’s Men”। এই রিপোর্টে বাংলাদেশের বর্তমান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ এবং তার ভাইদের নানা অপরাধ, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের চিত্র উঠে এসেছে। রাষ্ট্রযন্ত্র কিভাবে একটি সন্ত্রাসী মাফিয়া পরিবারের হাতের খেলনায় পরিণত হয়, তার নির্মম বাস্তবচিত্র এই প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে। এবং ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার হাসিনার প্রত্যক্ষ প্রশ্রয়েই এসব অনিয়ম ও অপরাধ ঘটেছে।

সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ ও তার পরিবারকে কেবল অপরাধী পরিবার বলা যাবে না। এরা একটি সন্ত্রাসী মাফিয়া পরিবার, যাদের রাজনৈতিক আশীর্বাদ এবং সামরিক ক্ষমতার ছত্রছায়ায় বেড়ে ওঠা হয়েছে। এই পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে রয়েছে খুন, অস্ত্র ব্যবসা, জালিয়াতি, বিদেশে পলায়ন, এবং ভুয়া পরিচয়পত্র বানিয়ে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করার মতো অপরাধের তালিকা। তাদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ কোনো একক ঘটনা নয়; বরং এটি ছিল একটি পরিকল্পিত, সংগঠিত এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্য থেকেই পরিচালিত অপরাধ চক্র।

CategoriesHuman RightsPolitics

প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে ধর্ষক নাজমুল, গ্রেফতার করছে না পুলিশ

এমসি কলেজের ছাত্রাবাসের গনধর্ষনের ঘটনায়  ধর্ষকদের একজন ছিলেন ছাত্রলীগ নেতা নাজমুল তাহলে নাজমুল কেন গ্রেফতার নয়। উক্ত গৃহবধূকে ৯জন মিলে গনধর্ষন করলেও ৮জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাহলে কি নাজমুল পার পেয়ে গেলো।

CategoriesDemocracyHuman RightsJusticePolitics

বিচার বহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা

২০০৯ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত এই সরকারের অধীনে এ দেশে প্রায় তিন হাজার মানুষ পুলিশ, র‌্যাব, ডিবির হাতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। তাদের অধিকাংশই বিরোধী মত ও দলের নেতাকর্মী। গত ১০ বছর সময়ের মধ্যে এ দেশের জেলহাজতে মারা গেছে ৭৯৫ মানুষ, গুম হয়েছে ৬০১ জন, ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৭ হাজার ৮০৬ নারী, ১ হাজার ৯৩৪ শিশু নির্যাতিত হয়েছে, ১৮ জন শিশু হত্যার শিকার হয়েছে।

CategoriesHuman RightsJusticePolitics

ভিপি নুরের ওপর ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের হামলা

ছাত্রলীগের নেতৃত্বে প্রশাসনের প্রশ্রয়ে ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর, ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান, ফারুক হোসেন, মশিউর রহমানসহ অন্তত ৪০ জনের উপর হামলা হয়েছে। কারও পা ভেঙে গেছে, নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বেরোচ্ছে, বমি করছে, বুকের হাড় ভেঙে গেছে। অনেকে আইসিইউতে রয়েছে। অনেকের অবস্থা সংকটাপন্ন। তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরা নিয়ে আমরা শঙ্কায় আছি।

CategoriesDemocracyHuman RightsJusticePolitics

৩০ লক্ষ শহীদের গল্প: মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতারণা

বছরের পর বছর ধরে আমাদের বলা হয়েছে যে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লক্ষ মানুষ শহীদ হয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় বর্ণনাটি যেন পবিত্র ধর্মগ্রন্থের মতো -প্রশ্ন করা যাবে না, সন্দেহ করা যাবে না, বিশ্লেষণ করা যাবে না। সবচেয়ে বেশি চর্চিত ও অমোঘ ঘোষণাটি হলো: “৩০ লক্ষ শহীদ।” এই সংখ্যাটি এমনভাবে জাতির মস্তিষ্কে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে যেন এর চেয়ে কম বললে আপনি অমানুষ, রাজাকার কিংবা পাকিস্তানি দালাল। অথচ প্রশ্ন হলো, এই ৩০ লাখের হিসাব কে দিয়েছে? কোথায় সেই মৃতদেহ, গণকবর, তালিকা, বা বৈজ্ঞানিক তথ্য? ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের শেষে দেশে ফিরে হঠাৎ করেই বলেন, “৩০ লাখ শহীদ হয়েছেন।” কিন্তু তিনি এই সংখ্যা কীভাবে পেলেন, তার কোনও গবেষণা ছিল না, তদন্ত ছিল না, এমনকি কোন সেনা বা আন্তর্জাতিক সংস্থা এই সংখ্যা নিশ্চিত করেনি। অর্থাৎ এটি ছিল একটি রাজনৈতিক কৌশল- বিশ্বকে দেখানোর জন্য যে পাকিস্তান কত বড় গণহত্যা চালিয়েছে, এবং ভারতের সহায়তা কতটা “ন্যায়সঙ্গত” ছিল।

এই ৩০ লাখ শহীদের সংখ্যা রাষ্ট্রীয় প্রচারণা ও রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত হয়েছে। শহীদের প্রকৃত নাম, ঠিকানা, বয়স, পরিচয় আজও জানা যায়নি। এমনকি আজ পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ শহীদ তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে কিছু আংশিক তথ্য আছে বটে, কিন্তু সেটি ৩০ লাখ নয়, বরং কয়েক হাজারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তাহলে এই ‘তথ্যহীন গণকবর’ এবং ‘নামহীন শহীদ’দের গল্প কেন চালু রাখা হলো? কারণ এটা ছিল আবেগ দিয়ে জাতিকে বোকা মানানোর কৌশল। যখন একটি রাষ্ট্র নবীন, তখন সেটিকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে হয় একটি গৌরবময় অতীত দিয়ে। তাই যুদ্ধকে অতিরঞ্জিত করে দেখানো হলো। আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক সুবিধা পাওয়া ও ভারতের সহযোগিতা জাহির করার জন্য যুদ্ধের ভয়াবহতাকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে বলা হলো। ৩০ লক্ষ শহীদের গল্পে ভারতকে নায়ক বানানো গেল, আর শেখ মুজিবকে হয়ে উঠতে দিলাম তথাকথিত “জাতির পিতা”। ইতিহাস নয়, এটি ছিল একটি দক্ষ রাষ্ট্রীয় ইতিহাস বিকৃতি ও মিথ্যাচার।