বাংলাদেশের রাজনীতিতে নাগরিক ও রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক -আমার নেতা বিপি নুরুল হক নুরুর উপর যৌথ বাহিনী দ্বারা হামলা। এই ঘটনা কেবল তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিপন্ন করেনি, বরং পুরো রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল ও আতঙ্কময় করেছে। যৌথ বাহিনী, যার মূল দায়িত্ব দেশের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করা, সেই বাহিনী নিজেই রাজনৈতিক নেতৃত্বের উপর হামলার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে -এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আইন প্রণয়ন ও সংবিধান অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক নেতা বা নাগরিককে নির্দিষ্ট কোনো অপরাধ প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত এভাবে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা যায় না। এই ধরনের ঘটনা জনগণের চোখে সরকারের নীরবতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারকে প্রমাণ করছে।
Tag: মানবাধিকার
নিষিদ্ধ উগ্র সংগঠন হিজবুত তাহেরী কীভাবে প্রকাশ্যে সমাবেশ করে?
বাংলাদেশে হিজবুত তাহেরী একটি নিষিদ্ধ উগ্রপন্থী সংগঠন, যা ইসলামের নামে খিলাফত প্রতিষ্ঠার কথা বলে আসছে। সরকারিভাবে নিষিদ্ধ থাকলেও, এরা প্রকাশ্যে সমাবেশ, মিছিল এবং বক্তৃতা দিতে পারছে—এটি আমাদের রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার বড় ব্যর্থতার প্রমাণ। প্রশ্ন হলো, একটি নিষিদ্ধ সংগঠন কীভাবে এত সহজে মাঠে নেমে আসতে পারে? কারা তাদের পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে? কেন প্রশাসন চোখ বন্ধ করে রেখেছে?
অন্তবর্তীকালীন সরকার যখন রাজনৈতিক বিরোধীদের কঠোর দমননীতি গ্রহণ করে, তখন প্রশ্ন ওঠে—হিজবুত তাহেরীর মতো উগ্র সংগঠন কীভাবে এত স্বাধীনতা পাচ্ছে? নিষিদ্ধ সংগঠন হওয়া সত্ত্বেও, তারা কীভাবে বড় বড় সমাবেশ আয়োজন করে, মিছিল বের করে এবং বক্তৃতা দেয়? এর পেছনে অবশ্যই সরকার ও প্রশাসনিক দুর্বলতা বা সমর্থন রয়েছে।
আইনের শাসন নেই, নির্যাতনের শিকার হচ্ছে নারী ও শিশু!
বাংলাদেশে নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। শুধুমাত্র ফেব্রুয়ারি মাসেই ১৮৯ জন নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে—এটি আমাদের সমাজের ভয়ংকর বাস্তবতা। নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব, কিন্তু বাস্তবতা হলো, সরকার এই দায়িত্ব পালনে বারবার ব্যর্থ হয়েছে।
নারী ও শিশু নির্যাতনের পরিসংখ্যান কেবল সংখ্যা নয়, বরং এটি প্রতিটি নির্যাতিত মানুষের ব্যথার গল্প, ভাঙা স্বপ্ন ও ন্যায়বিচার না পাওয়ার আর্তনাদ। বাংলাদেশে ধর্ষণ, পারিবারিক সহিংসতা, যৌন হয়রানি, শিশু নির্যাতন ও হত্যা বেড়েই চলেছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অপরাধীরা রাজনৈতিক আশ্রয়ে থেকে আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যায়, ফলে অপরাধের মাত্রা আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। ফেব্রুয়ারি মাসের ১৮৯ জন নির্যাতিত নারী ও শিশুর মধ্যে: ধর্ষণের শিকার হয়েছে বহু নারী ও কিশোরী। পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়ে অনেক নারী আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে। শিশুদের ওপর শারীরিক নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার মতো অমানবিক ঘটনা ঘটেছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (NCP): আমাদের প্রত্যাশা ও সতর্কতা
বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (NCP) একটি আলোচিত নাম। আমরা চাই, এই দল সত্যিকারের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ধারণ করুক এবং দেশের রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনুক। কিন্তু একইসঙ্গে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে, যেন তারা ভবিষ্যতে পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি, স্বৈরতন্ত্র বা ফ্যাসিবাদের পথে না হাঁটে, যেমনটা আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে করে আসছে। NCP যদি সত্যিকারের জনগণের দল হতে চায়, তাহলে তাদের অবশ্যই মুক্ত চিন্তার চর্চা করতে হবে। তারা যেন কোনো একক নেতার ব্যক্তিগত স্বার্থ রক্ষা করার জন্য কাজ না করে, বরং জনগণের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। বাংলাদেশে ভোটাধিকার প্রায় হারিয়ে গেছে। আমরা আশা করি, NCP একটি নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশনের দাবি তুলবে এবং নিজেদের স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব নির্বাচন করবে।
ছাত্রদলের নৈরাজ্য: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কি সন্ত্রাসীদের দখলে?
বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো কি সত্যিই শিক্ষার কেন্দ্র হয়ে উঠতে পেরেছে, নাকি এগুলো রাজনৈতিক সহিংসতার আস্তানায় পরিণত হয়েছে? গতকাল মজ্ঞলবার কুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের নেতৃত্বে যে সহিংস হামলা চালানো হয়েছে, তা আমাদের আবারও মনে করিয়ে দেয় যে, শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করার জন্য রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর ভূমিকা কতটা ধ্বংসাত্মক হতে পারে।
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ চলছিল, যেখানে ছাত্র রাজনীতি বন্ধের দাবি জানানো হচ্ছিল। কিন্তু সেই বিক্ষোভে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের রক্তাক্ত করে। শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন, এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসনকে বিজিবি মোতায়েন করতে বাধ্য হতে হয়।
