গত চাঁদ রাতের ঘটনাটি আমাদের দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার এক গভীর ও অন্ধকার দিককে স্পষ্টভাবে উদঘাটন করেছে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার অন্তর্গত বেলকুচি উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা রাতের আঁধারে “জয় বাংলা” স্লোগানে উল্লসিত মিছিল করেছে, যা সাধারণ মানুষ এবং দেশবাসীর জন্য এক ধরনের উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃজন করেছে। এটি যে শুধুমাত্র রাজনৈতিক উল্লাস নয়, তা স্পষ্ট আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগ, যা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ কার্যকলাপে যুক্ত, চাঁদা আদায় এবং সহিংসতার জন্য পরিচিত, এখন প্রকাশ্যভাবে জনগণের সামনে উচ্ছ্বাসের ছদ্মবেশে বেরিয়ে এসেছে। এই মিছিলের মাধ্যমে স্পষ্টভাবে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ, এবং তাদের যুব সংগঠন, ছাত্রলীগ, কিভাবে আইন ও ন্যায়বিচারকে উপেক্ষা করে নিজেদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের চেষ্টা করছে। প্রশাসন, যারা স্বাভাবিকভাবে এই ধরনের উগ্র ও অবৈধ কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত, তারা সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। দেশের সাধারণ মানুষ, যারা শান্তিপূর্ণভাবে জীবনযাপন করতে চায়, তাদের উপর এই ধরনের উগ্র রাজনৈতিক উল্লাস ও হুমকিপূর্ণ কর্মকাণ্ডের প্রভাব পড়ছে, যা সমাজে অস্থিতিশীলতা এবং ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে। এই ঘটনাটি শুধু ছাত্রলীগ বা একক মিছিলের ইস্যু নয়; এটি বিএনপি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের উদাসীনতা, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দেশের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের প্রতি গভীর অবহেলার প্রতিফলন। সাধারণ জনগণ দেখছে যে, রাজনৈতিক উচ্ছ্বাস কখনো কখনো তাদের অধিকার ও নিরাপত্তার ওপর প্রাধান্য পাচ্ছে, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
সিলেটের ঘটনা আরও গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। সেখানে একটি যুবদল কর্মীর উপর আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের এক যৌথ হামলা পরিচালিত হয়েছে, যা শুধু রাজনৈতিক সহিংসতার প্রমাণ নয়, বরং দেশের প্রশাসনিক ব্যর্থতার একটি দৃষ্টান্ত। যখন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ এবং তাদের মদদপুষ্ট সংগঠন নাগরিকদের ওপর সশস্ত্র ও সহিংস আচরণ চালায়, তখন প্রশাসন সম্পূর্ণ নীরব। এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের প্রাক্তন আওয়ামী ক্ষমতায় থাকাকালীন রাজনৈতিক সংঘর্ষের ইতিহাসকে আবারও জীবন্ত করে তোলে, যেখানে সাধারণ মানুষ সবসময়ই নির্যাতিত। বিএনপি সরকারের অধীনে প্রশাসন যথাযথভাবে ব্যর্থ হচ্ছে। তারা আইন প্রয়োগে সঠিক নিয়ন্ত্রণ রাখতে ব্যর্থ এবং রাজনৈতিক সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি। এ ধরনের উদাসীনতা ও স্বার্থপরতা দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
ছাত্রলীগের মিছিল এবং সিলেটের হামলার ঘটনার মধ্যে একটি বড় প্রশ্ন উঠে আসে ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে তারা প্রকাশ্যভাবে মিছিল করতে পারল? এটি সরকারের রাজনৈতিক ব্যার্থতা এবং প্রশাসনের অভাবনীয় উদাসীনতার স্পষ্ট প্রমাণ। স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, যারা সরকারের অধীনে কাজ করে, তারা এই ধরনের উচ্ছৃঙ্খল কার্যকলাপ ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে। কারন এদেরকে তো নিয়োগই দিয়েছিল স্বৈরাচার হাসিনার সরকার। এরা আওয়ামীলীগের পুলিশ প্রশাসন। দেশে আইন থাকলেও তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একেবারেই দুর্বলতা দেখা গেছে। সাধারণ মানুষ, যারা শান্তি ও নিরাপত্তা চায়, তারা এমন কর্মকাণ্ডের শিকার হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বর্তমান বিএনপি ও তারেক রহমানের সরকার ও প্রশাসনের প্রতি জনগণের আস্থা হ্রাস করছে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হলে এবং আওয়ামীলীগ ও তাদের সহযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে, দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ক্রমেই ভয়ঙ্কর হুমকির মুখে পড়বে।
এ ধরনের পরিস্থিতি থেকে স্পষ্ট হয় যে দেশের বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসন এখনো আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত নয়। দেশের বিচার বিভাগ এবং পুলিশ সংস্থাকে পুরোপুরি স্বাধীন ও রাজনৈতিক দখলমুক্ত করতে হবে। বর্তমান অবস্থায়, আওয়ামী লীগের প্রভাবপ্রবণ বিচারক এবং পুলিশের কিছু কর্মকর্তা কেবল আওয়ামীলীগের দলের স্বার্থ রক্ষা করছেন। এটি জনগণের বিশ্বাসকে আরও দুর্বল করছে। প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থা যদি রাজনৈতিক পক্ষপাত থেকে মুক্ত না হয়, তবে দেশের মানুষ কখনোই ন্যায়বিচারের স্বাদ পাবে না। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দায়িত্ব জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কিন্তু বর্তমানে সেই দায়িত্বও যথাযথভাবে পালন করা হচ্ছে না। তাই দেশের জনগণকে সচেতন হতে হবে, এবং বিএনপি সরকারের অবহেলা ও উদাসীনতা, সন্ত্রাসী ছাত্রলীগের মিছিল, সহিংসতা, এবং প্রশাসনের ব্যর্থতার বিরুদ্ধে একযোগে আওয়াজ তুলতে হবে। শুধু তবেই আমাদের সমাজ শান্তি ও সুবিচারের দিকে অগ্রসর হতে পারবে।
