উত্তরার মতো রাজধানীর একটি অভিজাত ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বাবার চোখের সামনে থেকে দশম শ্রেণির এক কিশোরী শিক্ষার্থীকে অপহরণের ঘটনা শুধু একটি সাধারণ অপরাধ নয়, বরং এটি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম ব্যর্থতার এক ভয়াবহ প্রতিচ্ছবি। ২২ এপ্রিল পরীক্ষা শেষে মেয়েকে নিয়ে বাসায় ফেরার পথে সাত থেকে আটজন দুর্বৃত্ত প্রকাশ্যে একটি কিশোরীকে টেনে নিয়ে প্রাইভেট কারে তুলে নেয়, অথচ আশপাশে বহু মানুষ উপস্থিত ছিল এবং যানবাহনের চলাচলও স্বাভাবিক ছিল। তবুও কেউ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকরভাবে বাধা দিতে পারেনি, যা সমাজের নিরাপত্তা সংস্কৃতি নিয়েও বড় প্রশ্ন তোলে। এই ধরনের ঘটনা প্রমাণ করে যে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এবং নিরাপদ বলে বিবেচিত এলাকাগুলোতেও নাগরিক নিরাপত্তা কতটা নাজুক ও ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। একটি শিশু বা কিশোরী যদি তার বাবার হাত থেকে এভাবে প্রকাশ্যে অপহৃত হতে পারে, তাহলে সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা কোথায় দাঁড়িয়ে আছে, সেই প্রশ্ন এখন অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে। রাষ্ট্রের দায়িত্ব শুধু আইন তৈরি করা নয়, বরং সেই আইনের বাস্তব ও কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা। কিন্তু এই ঘটনায় সেটির স্পষ্ট ঘাটতি ও ব্যর্থতা দৃশ্যমানভাবে সামনে এসেছে, যা জনমনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
Tag: সরকারের ব্যার্থতা
ছাত্রলীগের উল্লাস মিছিল ও প্রশাসন ও সরকারের ব্যর্থতা
গত চাঁদ রাতের ঘটনাটি আমাদের দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার এক গভীর ও অন্ধকার দিককে স্পষ্টভাবে উদঘাটন করেছে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার অন্তর্গত বেলকুচি উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা রাতের আঁধারে “জয় বাংলা” স্লোগানে উল্লসিত মিছিল করেছে, যা সাধারণ মানুষ এবং দেশবাসীর জন্য এক ধরনের উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃজন করেছে। এটি যে শুধুমাত্র রাজনৈতিক উল্লাস নয়, তা স্পষ্ট আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগ, যা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ কার্যকলাপে যুক্ত, চাঁদা আদায় এবং সহিংসতার জন্য পরিচিত, এখন প্রকাশ্যভাবে জনগণের সামনে উচ্ছ্বাসের ছদ্মবেশে বেরিয়ে এসেছে। এই মিছিলের মাধ্যমে স্পষ্টভাবে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ, এবং তাদের যুব সংগঠন, ছাত্রলীগ, কিভাবে আইন ও ন্যায়বিচারকে উপেক্ষা করে নিজেদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের চেষ্টা করছে। প্রশাসন, যারা স্বাভাবিকভাবে এই ধরনের উগ্র ও অবৈধ কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত, তারা সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। দেশের সাধারণ মানুষ, যারা শান্তিপূর্ণভাবে জীবনযাপন করতে চায়, তাদের উপর এই ধরনের উগ্র রাজনৈতিক উল্লাস ও হুমকিপূর্ণ কর্মকাণ্ডের প্রভাব পড়ছে, যা সমাজে অস্থিতিশীলতা এবং ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে। এই ঘটনাটি শুধু ছাত্রলীগ বা একক মিছিলের ইস্যু নয়; এটি বিএনপি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের উদাসীনতা, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দেশের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের প্রতি গভীর অবহেলার প্রতিফলন। সাধারণ জনগণ দেখছে যে, রাজনৈতিক উচ্ছ্বাস কখনো কখনো তাদের অধিকার ও নিরাপত্তার ওপর প্রাধান্য পাচ্ছে, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
