CategoriesHuman RightsPolitics

এমসি কলেজে দলবদ্ধ ধর্ষণ: হাইকোর্টের আদেশ মানেনি রাষ্ট্রপক্ষ, বিচারে দীর্ঘসূত্রতা

সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় দুটি মামলা ৩০ দিনের মধ্যে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বদলির ব্যবস্থা করতে আদেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। কিন্তু তা বাস্তবায়ন করেনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বরং এই আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। ফলে দুই মামলার বিচার কার্যক্রম থমকে আছে। ২০২০ সালের ওই ঘটনার তিন বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ সোমবার।

মামলার বাদী গতকাল রোববার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এক বছর ধরে মামলার কোনো অগ্রগতি নাই। মন্ত্রণালয় গেজেট না করায় বিচারকাজ আটকে আছে। তারপরও আমরা ন্যায়বিচারের ব্যাপারে আশাবাদী।’

CategoriesHuman RightsJusticePolitics

শেখ মুজিব ছিলেন স্বৈরাচার

ইতিহাস রচনার নামে বাংলাদেশের ইতিহাসে শুধু যে মিথ্যাচার ঢুকানো হয়েছে তা নয়, মুজিব ও তার দলের দুঃশাসনের বিবরণগুলো ইতিহাসের গ্রন্থ থেকে অতি সতর্কতার সাথে বাদ দেওয়া হয়েছে। এবং তা ছিল আওয়ামী লীগের দলীয় রাজনীতির স্বার্থে। তবে কোন অপরাধী তার অপরাধ কর্মগুলো লুকানোর যত চেষ্টাই করুক না কেন, সম্পূর্ণ লুকাতে পারে না। সাক্ষী রেখে যায়। শেখ মুজিবও তার সহচরগণও অসংখ্য সাক্ষী রেখে গেছে। আর সেগুলি হল, সে সময়ের দেশী ও বিদেশী পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়া মুজিব আমলের বিবরণ।

CategoriesHuman RightsPolitics

কষ্টের ঈদ একরামুলের পরিবারে

জরাজীর্ণ ভবনের দোতলায় উঠতেই সামনে পড়ে একরামুল হকের কক্ষটি। কড়া নাড়তেই সামনে আসেন স্ত্রী আয়েশা বেগম। কক্ষের ভেতরে চারটি প্লাস্টিকের চেয়ার ও একটি টেবিল। টেবিলের এক পাশে রক্তমাখা একটি সাদা চশমা। দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশের দেয়ালে হাতে লেখা কিছু স্মৃতিকথা আর প্রশ্ন। বাবার (একরামুল) উদ্দেশে দেয়ালে লেখা প্রশ্নগুলোর জবাব চার বছরেও পায়নি কিশোরী দুই মেয়ে তাহিয়াত হক ও নাহিয়ান হক।

২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে কক্সবাজারের টেকনাফে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন তাহিয়াত ও নাহিয়ানের বাবা একরামুল হক। ঘটনার সময় তিনি টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। ১২ বছর ছিলেন টেকনাফ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি।

CategoriesHuman RightsJusticePolitics

১০ বছরে গুম খুন অপহরণের শিকার ৩০ সাংবাদিক

রাজধানীসহ সারা দেশে প্রায়ই সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। হত্যা, গুম, খুন ও অপহরণ করা হচ্ছে তাদের। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্যমতে, ১০ বছরে এ ধরনের ঘটনার শিকার হয়েছেন ৩০ সাংবাদিক। এসব ঘটনায় জড়িতদের বিচার হওয়ার নজির খুব কমই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাংবাদিক হত্যার বিচার ঝুলে যাচ্ছে দীর্ঘসূত্রতায়। শুধু গত এক দশকেই নয়, তার আগের হত্যাকাণ্ডগুলোরও বিচারের নজির মিলছে কম।

CategoriesDemocracyHuman RightsJusticePolitics

বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনী: সুরক্ষার নামে সন্ত্রাস

বাংলাদেশের সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব এবং ডিজিএফআই আজ দেশের জনগণের সবচেয়ে বড় শত্রু। তারা জনগণের রক্ষক না হয়ে সরকারের স্বৈরাচারী শাসনের এক নিষ্ঠুর হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে। এই বাহিনী গুলোকে যদি আজকে দেশের নিরাপত্তাবাহিনী বলে মনে করা হয়, তাহলে সেটি একটি বড় ভুল হবে। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে তারা সরাসরি শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী ক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়তা করেছে, যা দেশের গণতন্ত্রকে চরমভাবে অবজ্ঞা এবং অবহেলা করেছে। নির্বাচনী প্রতারণা, ভোটারদের উপর অত্যাচার, বিরোধীদের বাধা- এসব কর্মকাণ্ডে এই বাহিনী ছিল মূল অস্ত্র। ফলে জনগণের ভোটাধিকার সঠিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেনি, গণতন্ত্রের মৌলিক শর্তাবলী পুরোপুরি উপেক্ষিত হয়েছে। এই কারণে আজকের বাংলাদেশে মানুষ ভোটকেন্দ্রে যায় না, কারণ তারা জানে তাদের ভোট ডাকাতি হয়ে যায় বা তুচ্ছ করা হয়। এই সিস্টেম একেবারেই মানুষের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার লঙ্ঘন করে।

সরকারের বিরোধীদের উপর সেনাবাহিনী, র‍্যাব, ডিজিএফআই ও পুলিশের অব্যাহত নির্যাতন একটি নিত্যদিনের বাস্তবতা। তাদের হাতে রাজনৈতিক বিরোধীরা হয়রানি, গুম, হত্যা ও মিথ্যা মামলা দিয়ে দমন করা হচ্ছে। পুলিশ যা হওয়া উচিত ছিল জনগণের সেবক, আজ তারা সরকারের স্বৈরাচারী শক্তির দাস হয়ে পড়েছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে নিরীহ মানুষকে গ্রেফতার, নির্যাতন, জিম্মি করা, তাদের পরিবারের ওপর অত্যাচার চালানো এবং বিচার ব্যবস্থাকে প্রতিহত করা সরকারের এক পরিকল্পিত নীতি। সাধারণ মানুষের কাছে পুলিশ বাহিনী এখন আতঙ্কের কারণ, যেখানে কোনো ধরনের মতপ্রকাশ নিরাপদ নয়। এর ফলে মানুষের মনে ভয় ও অনাস্থা বিরাজ করছে, যা একটি স্বাধীন গণতান্ত্রিক দেশের জন্য বড় বিপদ।